যে ৭ লক্ষণ দেখে বুঝবেন, ছোটবেলার ট্রমা এখনো আপনাকে ভোগাচ্ছে

অনেকে ছোটবেলার ট্রমা লুকিয়ে রাখেনছবি: পেক্সেলস

‘পাস্ট ইজ পাস্ট’—কথাটি আর যা-ই হোক, চাইল্ডহুড ট্রমার ক্ষেত্রে খাটে না। অনেকে ছোটবেলার ট্রমা লুকিয়ে রাখেন। ভাবেন, বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে। বড় হলে দেখা যায়, ট্রমাটাও ভেতরে-ভেতরে বড় হয়েছে। আবার অনেক সময় ‘খালি চোখে’ বোঝা যায় না, তবে মনের গভীরে ছোটবেলার আঘাতের ছাপটা থেকেই যায়। আর নানা আচরণ, অনুভূতি কিংবা ব্যবহারে তার প্রভাব দেখা দিতে থাকে।

পোস্টট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, মানসিক স্বাস্থ্যে শিশু বয়সের ট্রমার প্রভাব খুবই গভীর। বিষয়টিকে তাই হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পোস্টট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডারের (পিটিএসডি) প্রায় ২০টি ধরন থাকতে পারে। রোগ নির্ণয় করাও সহজ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই শিশুবেলায় কোনো না কোনো ট্রমার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। কিন্তু সব ক্ষেত্রেই তা পিটিএসডিতে রূপ নেয় না। বাংলাদেশে এই নিয়ে কোনো জরিপ না থাকলেও এখানকার অবস্থা যে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো, এমনটা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।  
চট করে দেখে নেওয়া যাক, কী সেই লক্ষণ, যেগুলো আসলে ছোটবেলার বা অতীতের ট্রমারই প্রতিফলন।

১. হঠাৎ চমকে ওঠা, বুক ধড়ফড় করা

হুট করে কোনো শব্দ বা কোনো মানুষের উপস্থিতিতে আপনি যদি ভয় পেয়ে যান, তাহলে সেটার কারণ সাধারণ স্নায়বিক দুর্বলতা না–ও হতে পারে। হতে পারে তা পুরোনো ভয় বা নিরাপত্তাহীনতার প্রতিক্রিয়া। এঁরা জোর আওয়াজ, শব্দ বা চিৎকার সহ্য করতে পারেন না।

২. সবাইকে খুশি রাখার চেষ্টা

আপনি কি নিজের বিরুদ্ধে, নিজেকে অসুখী বা ক্লান্ত করে হলেও অন্যকে খুশি রাখার চেষ্টা করেন? তাহলে হয়তো ভেতরে-ভেতরে আপনি অবহেলার ভয় বা ‘কর্নারড’ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বয়ে বেড়াচ্ছেন। অনেকেই ছোটবেলায় কড়া শাসনে ‘না’ বলা শিখতে পারেননি, সব সময় বাবা-মা কিসে রাগ হয়ে যান, সেই ভয়ে থেকেছেন। বড় হয়ে অনেক সময় সেই অভ্যাস থেকে যায়। আবার মা–বাবার কাছ থেকে প্রতিনিয়ত ‘ক্যানসেল কালচারে (নাকচ সংস্কৃতি)’ বড় হওয়ার ফলেও তাঁর ভেতরে অন্য কেউ দ্বারা ‘ক্যানসেল’ হওয়ার ভয়েও ‘ইয়েস ম্যান’-এ পরিণত হন। আবার আত্মীয় বা বন্ধুদের কাছে কেবল সমালোচনা পেলেও তখন নিজের ভেতরের হীনম্মন্যতা বা আত্মবিশ্বাসহীনতা থেকে অন্যদের খুশি করার অতিরিক্ত চেষ্টা দেখা যায়। কেননা তিনি প্রতিনিয়ত অন্যের দ্বারা নিজের ‘অনুমোদন’ চান।

আরও পড়ুন
মনের গভীরে ছোটবেলার আঘাতের ছাপটা থেকেই যায়
ছবি: পেক্সেলস

৩. ঝুঁকি নেওয়ার অভ্যাস, নিজেকে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট

হুট করে দামি কিছু কিনে ফেলা, অতিরিক্ত কেনাকাটা করতে থাকা বা অকারণে অ্যাডভেঞ্চার খোঁজা, নিজেকে নিয়ে নানা ধরনের ‘এক্সপেরিমেন্ট’ করা বা নেশাজাত দ্রব্যে আসক্ত হয়ে পড়া—এগুলো অনেক সময় চাপ কমানোর উপায়। মনে হয়—কিছু একটা করলেই হয়তো মনের ভেতরের ভারটা হালকা হবে। অনেকে আবার জেনে–বুঝে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে অংশ নেয়।

৪. শুধুই ছুটে বেড়াতে চাওয়া

অনেকে আছেন কোথাও দুদণ্ড স্থির হয়ে থাকতে পারেন না বা এক জায়গায় থিতু হতে পারেন না। প্রতিনিয়ত দেশের নানা প্রান্তে, বিশ্বের নানা প্রান্তে ছুটে বেড়ান। এই ছুটে বেড়ানো হতে পারে নিজের কোনো অতীত বা বাস্তবতা থেকে পালিয়ে বেড়ানোরই একটা বহিঃপ্রকাশ।  

৫. সব সময় ভয় বা টেনশন

চারপাশে সব ঠিক থাকলেও যদি মনে হয় কোনো বিপদ আছে, তাহলে সেটা হাইপারভিজিলেন্স বা অতিসতর্কতা। যাঁরা শিশুকালে অনিরাপদ ছিলেন, তাঁরা বড় হতে হতে ভেতর সব সময় সতর্ক থাকার বোধ ধরে রাখেন।

৬. আবেগ নিয়ন্ত্রণে অসুবিধা

ছোটখাটো বিষয়েও রাগ, দুঃখ, অভিমান বা আনন্দে অনেক বেশি আবেগ প্রকট হয়ে পড়ে, সহজে চোখে জল আসে। এগুলোর ভেতর সবচেয়ে প্রকট হলো সহনশীলতার অভাব ও হুট করে রেগে যাওয়া।

সূত্র: মেন্টাল হেলথ সেন্টার

আরও পড়ুন