আবহাওয়ার পরিবর্তন হলে কি হাড়ের ব্যথা বাড়ে

আমাদের আশপাশে এমন অনেক বয়স্ক মানুষ ছিলেন, যাঁরা হাড়ের বা গিঁটের ব্যথার ধরন দেখে বলে দিতে পারতেন, আজ বৃষ্টি হবে কি না। অনেকের কাছে এটি নিছক অনুমান। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য বলছে, আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের শরীরের হাড়ের জোড় বা জয়েন্টের ব্যথার সত্যিই একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে যাঁদের আর্থ্রাইটিস বা বাতের সমস্যা আছে, তাঁদের জন্য আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়টি বেশ কষ্টদায়ক।

শীতের তীব্রতা যত বাড়ে, ততই অনেকের বাড়ে পায়ের ব্যথাছবি: পেক্সেলস

কেন এমন হয়

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে ব্যথা বাড়ার পেছনে কয়েকটি বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে:

১. বায়ুমণ্ডলের চাপের পরিবর্তন

এটি সবচেয়ে বড় কারণ। বৃষ্টির আগে বায়ুমণ্ডলের চাপ কমে যায়। বায়ুমণ্ডলের চাপ কমে গেলে আমাদের শরীরের টিস্যু বা কলাগুলো কিছুটা প্রসারিত হওয়ার সুযোগ পায়। হাড়ের জোড়ের মতো সীমিত জায়গায় যখন পেশি বা টিস্যু সামান্য ফুলে ওঠে, তখন সেখানে থাকা সংবেদনশীল স্নায়ুগুলোর ওপর চাপ পড়ে এবং ব্যথা অনুভূত হয়।

২. পিচ্ছিল রসের ঘনত্ব

শীতকালে বা তাপমাত্রা কমে গেলে হাড়ের জোড়ের ভেতরে থাকা ‘সাইনোভিয়াল ফ্লুইড’ বা পিচ্ছিল রস কিছুটা ঘন হয়ে যায়। ফলে গাঁটগুলো আগের মতো সহজে নড়াচড়া করতে পারে না, শক্ত বা স্টিফ হয়ে যায়। ফলে নড়াচড়া করলেই ব্যথা লাগে।

শারীরিক নড়াচড়া কমে গেলে হাড়ের জয়েন্টগুলো আরও বেশি শক্ত হয়ে পড়ে, যা ব্যথার অন্যতম কারণ
ছবি: পেক্সেলস

৩. পেশির সংকোচন

ঠান্ডা আবহাওয়ায় আমাদের শরীরের পেশি ও লিগামেন্টগুলো তাপ ধরে রাখার জন্য সংকুচিত থাকে। এই বাড়তি টানের ফলে ব্যথার মাত্রা বেড়ে যায়।

৪. শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা

আকাশ মেঘলা থাকলে বা শীত পড়লে আমরা সাধারণত ঘরের ভেতরেই থাকতে পছন্দ করি। শারীরিক নড়াচড়া কমে গেলে হাড়ের জয়েন্টগুলো আরও বেশি শক্ত হয়ে পড়ে, যা ব্যথার অন্যতম কারণ।

আরও পড়ুন

এ সময় ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে করণীয়

আবহাওয়ার ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই, তবে কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ এ ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে:


১. নিজেকে উষ্ণ রাখুন

ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে পর্যাপ্ত গরম কাপড় পরুন। ব্যথার জায়গায় প্রয়োজনে হিটিং প্যাড বা গরম জলের সেঁক দিলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং পেশি শিথিল হয়।

শীতকালে পানি পানের হার কমে যায়
ছবি: পেক্সেলস

২. সক্রিয় থাকুন

বাইরে যেতে না পারলেও ঘরের ভেতরেই নিয়মিত হালকা স্ট্রেচিং বা ব্যায়াম করুন। হাড়ের জোড় যত সচল থাকবে, ব্যথা তত কম হবে।

আরও পড়ুন

৩. পর্যাপ্ত পানি পান

শীতকালে পানি পানের হার কমে যায়। শরীর হাইড্রেটেড থাকলে পেশির নমনীয়তা বজায় থাকে এবং ব্যথা হওয়ার প্রবণতা কিছুটা হলেও কমে।

৪. সুষম খাদ্য

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার (যেমন সামুদ্রিক মাছ) প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
যদি আবহাওয়ার কারণে হওয়া ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা ব্যথার স্থানটি লাল হয়ে ফুলে যায়, তবে দেরি না করে একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সোর্স: ওয়েব এমডি, পাবমেড

ডা. হিমেল বিশ্বাস, ক্লিনিক্যাল স্টাফ, নিউরোলজি বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা

আরও পড়ুন