মাথাব্যথার অভিযোগ নিয়ে আসা রোগীর প্রায় ১১ শতাংশ মাইগ্রেন ও ৭০ শতাংশের টেনশন-টাইপ মাথাব্যথা। টেনশন-টাইপ মাথাব্যথা কাজের চাপ, লম্বা সময় ধরে চোখের কাজ, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি নানা কারণে হয়। দিনের শেষ দিকে বেড়ে যাওয়া এই ব্যথার সঙ্গে বমি হয় না। মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণত একদিক থেকে শুরু হয়, বমি বা বমিভাব থাকে। বংশগত মাথাব্যথার প্রবণতাও মাইগ্রেন নির্দেশ করে, অন্য মাথাব্যথায় যা হয় না। এদিকে মস্তিষ্কের কোনো প্রদাহ, সংক্রমণ, টিউমার বা রক্তক্ষরণজনিত কারণে হঠাৎ তীব্র ব্যথা হতে পারে। আবার জ্বরের সঙ্গে মাথাব্যথাও কোনো রোগের নির্দেশক হতে পারে। এভাবে আনুষঙ্গিক লক্ষণগুলো সহকারে চিকিৎসককে সবকিছু বুঝিয়ে বললে তা অনেক কার্যকর হয়।

ডা. এম এস জহিরুল হক চৌধুরী আরও বলেন, ‘চিকিৎকদেরও কাজের মধ্যে হঠাৎ মাইগ্রেন অ্যাটাক হতে পারে। চিকিৎসকসহ সব পেশার মানুষেরই লম্বা সময় ধরে পরিশ্রম করলে, অতিরিক্ত কাজের চাপ বা অন্যান্য বিভিন্ন সমস্যার কারণে দৈনন্দিন জীবনে হঠাৎ-ই মাথাব্যথা শুরু হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ব্যথা উপশমকারী ওষুধ মাথাব্যথার শুরুতেই খেয়ে নিলে ভালো ফল পাওয়া যায়। আর পারলে মাইগ্রেনের রোগীদের বিভিন্ন উদ্দীপক এড়িয়ে চলা উচিত। অনেক ধরনের বদভ্যাসের কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। মদ্যপান, ধূমপান, মাদক গ্রহণ ইত্যাদি থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকলে অনেকেরই মাথাব্যথার প্রকোপ কমে আসে।’

এ পর্যায়ে সংগীতশিল্পী সাজিয়া সুলতানা পুতুল বলেন, তিনি জীবনে কখনোই সেভাবে মাথাব্যথায় ভোগেননি। তাঁর বাবা এবং বংশের অনেকেরই মাইগ্রেন আছে, তবে তাঁর নেই। কিন্তু সম্প্রতি নতুন মা হওয়ার পর ঘুমের অনিয়ম, পরিশ্রম, মানসিক চাপ ইত্যাদি কারণে তাঁর মাথাব্যথার সমস্যা হচ্ছে। এ কথার সূত্র ধরে ডা. এম এস জহিরুল হক চৌধুরী বলেন, প্রসূতি ও স্তন্যদানকারী অনেক মায়েরই মাথাব্যথার সমস্যা হতে পারে।

সাজিয়া সুলতানা পুতুল এ-ও বলেন যে সন্তান প্রসবের দিন তাঁর প্রচণ্ড মাথাব্যথা করেছিল, যেমন আর কোনো দিন হয়নি। সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ও মানসিক চাপই এর বড় কারণ।

দর্শকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ডা. এম এস জহিরুল হক চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন কারণে মাথাব্যথার সূচনা হতে পারে। এর ভেতর মানসিক চাপ, হতাশা, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি বড় কারণ। যে কারণে টেনশন-টাইপ মাথাব্যথা হয়। এ ছাড়া আবহাওয়ার তারতম্য, দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে মাথাব্যথা করতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে চকলেট, কফি, মিষ্টিজাতীয় খাবার, ফাস্টফুড ইত্যাদি মাইগ্রেনের সূচনা করতে পারে। ঠিক তেমনি লম্বা সময় ধরে ক্ষুধা ও তৃষ্ণা লাগলে মাথাব্যথা করে।

এক দর্শকের প্রশ্নের জবাবে ডা. এম এস জহিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘যাত্রাপথে অনেকের মাথাব্যথা হয়। সে ক্ষেত্রে অ্যাবর্টিভ ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করলে ভালো ফল মেলে। যদি কারও প্রায়ই দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র মাথাব্যথা হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিলে অনেকটা সুস্থ থাকা যায়। তেমনি প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করলেও জীবন অনেকটা সহজ হয়ে যায়। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও জীবনযাপনে শৃঙ্খলা আনলে মাথাব্যথার সমস্যা নিয়েও ভালোভাবে বাঁচা সম্ভব।

আরেক দর্শকের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ডা. এম এস জহিরুল হক চৌধুরী বলেন, কারও কারও ঘুম থেকে জেগেও মাথাব্যথা অনুভূত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রধান কারণ হচ্ছে, ঘুম পর্যাপ্ত না হওয়া বা ঘুম ভালো না হওয়া। ঘুমের আগে ক্যাফেইনযুক্ত গরম পানীয় পান, লাইট জ্বালিয়ে ঘুমানো বা বিছানায় লম্বা সময় ধরে মুঠোফোন ব্যবহার ইত্যাদি কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে মাথাব্যথা হতে পারে। এ জন্য পরিপাটি বিছানায়, আলো নিভিয়ে মানসিক প্রস্তুতি সহকারে ঘুমাতে যেতে হবে।

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন