সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ইমোশনাল নাম্বনেস অনেক বেড়ে যাচ্ছে। আরও অনেক কিছু থেকেই এই অনুভূতিহীনতার সৃষ্টি হতে পারে। যেমন বাবা–মায়ের বিচ্ছেদ বা পারিবারিক বিপর্যয় অথবা ছোটবেলার কোনো মানসিক আঘাত। কিন্তু বর্তমান সময়ে যে হু হু করে অনুভূতিহীনতা বাড়ছে, এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। যেটা দেখে আপনার আনন্দিত হওয়ার কথা, তাতে আপনি আর আনন্দ পাচ্ছেন না। আপনার কোথাও ঘুরতে যেতে ইচ্ছে করছে না। বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা দিতে ভালো লাগছে না। কোনো কিছুতেই আপনার কিছু আসছে যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় আপনার সৃজনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আপনি কোনো কাজ ঠিকভাবে করতে পারবেন না। কোনো দল পরিচালনা করতে পারবেন না। কেননা, আপনার ভেতরে কোনো ইমপ্যাথি বা সহমর্মিতা নেই। যুক্তি আর আবেগের সমন্বয় ঘটিয়ে কোনো কিছু সঠিকভাবে ভাবতেও আপনি ব্যর্থ।

default-image

এমন অবস্থায় আপনাকে অবশ্যই সাইকোলোজিস্টের শরণাপন্ন হতে হবে। ‘ক্যাজুয়াল ফ্রি ফ্লটিং নিউজ’ প্লে করা বন্ধ করতে হবে। কেননা, আপনি যখন খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে নানান মুডের নানা কিছু দেখে ফেলেন, আপনার মস্তিষ্ক তত দ্রুত আবেগ–অনুভূতি বদলাতে পারে না। মানে, আপনি খুব দুঃখের একটা কিছু দেখলেন, তাতে আপনার মন যে দুঃখ–ভারাক্রান্ত থাকবে, সেখান থেকে আপনি কোনো একটা বার্তা বা অনুভূতি নিজের ভেতর রাখবেন—এমনটা ঘটার আগেই আপনি অন্য কোনো কিছু একটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। আমাদের মস্তিষ্ক আর আবেগ–অনুভূতি এত দ্রুত কাজ (প্রসেস) করতে পারে না। তাই সে ‘কনফিউজ’ হয়ে কোন তথ্য আর আবেগ সংরক্ষণ করে না। এক কথায় অনুভূতিহীন হয়ে পড়ে।

লেখা সহায়তায়: লাইফস্প্রিং–এর প্রধান সাইকোলজিস্ট ইয়াহিয়া মো. আমিন

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন