কিন্তু সন্তানকে দুধ খাওয়ানো একজন কর্মজীবী মায়ের জন্য এ দেশে কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। কারণ, শিশুকে শুধুই বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হলে কর্মক্ষেত্রের যে প্রস্তুতি ও কর্তৃপক্ষের যে সহায়তা থাকা দরকার, অনেক ক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত থাকে। ফলে অনেক কর্মজীবী মা তাঁর সন্তানকে পূর্ণ সময় বুকের দুধ খাওয়ানোর ইচ্ছা অন্তরে ধারণ করলেও শেষ পর্যন্ত আর কার্যকর করে উঠতে পারেন না। অন্য দুধ খাওয়াতে বাধ্য হন। এতে সন্তান বারবার অসুস্থ হয়, তাঁর নিজের কাজের গুণগত ও সময়গত বিচ্যুতি বেশি হয়।

কর্মজীবী মায়েদের জন্য বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে পূর্ণ বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি চার মাস থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করেছেন, যা শিশুকে শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানোর জন্য একটা যুগান্তকারী ঘটনা। একজন কর্মজীবী মা তাঁর সারা চাকরিজীবনে এ ধরনের ছুটি দুবার পাবেন। তবে বেসরকারি অফিসে কর্মরত মায়েদের জন্য এ আইনি সুবিধা কতটুকু আছে, থাকলে তার প্রয়োগ কেমন, সে বিষয়ে একটা অস্পষ্টতা আছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব অফিসে আইনটি নিষ্ক্রিয় এবং এর প্রয়োগ কম।

কিন্তু শিশুর এই অধিকার পূরণের দায়িত্ব কেবল মায়ের নয়, তার প্রতিষ্ঠানেরও বটে। তাই বিষয়টি নিশ্চিত করতে সবাইকেই দায়িত্ব নিতে হবে। এ ছাড়া একটি শিশু যাতে কখনোই বুকের দুধ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য বিপণিবিতান, হাসপাতাল, বাস কাউন্টার, রেলস্টেশন বা বিমানবন্দরসহ যেকোনো জায়গায় একটি ‘ব্রেস্টফিডিং বুথ’ বা জোন থাকা জরুরি। যেখানে একজন মা নিশ্চিন্তে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন, যখন-তখন।

পরিবারের সহায়তা

মা কাজে গেলেও শিশুকে যেন বুকের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করা যায়, সে জন্য পরিবারের অন্য সদস্যদের অঙ্গীকার ও সহায়তা খুবই জরুরি। অফিসে যাওয়ার সময় মা বুকের দুধ বের করে পরিষ্কার ঢাকনাওয়ালা পাত্রে রেখে দেবেন। বাচ্চার পরিচর্যার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য মায়ের মমতায় শিশুকে চামচ দিয়ে সেই দুধ খাইয়ে দেবেন।

কর্তৃপক্ষের সহায়তা

একজন কর্মজীবী মায়ের জন্য কর্তৃপক্ষের সহায়তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বৃহত্তর স্বার্থে তার অফিসে কর্মজীবী মায়েদের জন্য অনেক কিছুই করতে পারে। যেমন :

  • অফিসে শিশুদের দেখাশোনা করার জন্য নির্দিষ্ট একটা শিশুবান্ধব জায়গা বা ডে কেয়ার তৈরি করা এবং একজন অভিজ্ঞ পরিচর্যাকারী নিয়োগ দেওয়া।

  • নির্দিষ্ট বিরতিতে মাকে দুধ খাওয়ানোর সুযোগ দেওয়া।

  • ‘শিশু ও কর্মজীবী মা’বান্ধব অফিস তৈরি করা, যেখানে সবাই কর্মজীবী মা ও তাঁর শিশুর সহায়তার কথা বলবে ও সহযোগিতা করবে।

কীভাবে বুকের দুধ রেখে যাবেন?

কর্মজীবী মা যদি ডে কেয়ারের সুযোগ না পান, তবে বুকের দুধ পাম্প করে শিশুর জন্য আলাদা আলাদা কৌটায় রেখে যাবেন। এ জন্য প্রথমে হাত ভালোভাবে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন। দুধ বের করার জন্য পাম্প ব্যবহার করা যায়। আবার কেবল হাতের সাহায্যে চাপ দিয়েও দুধ বের করা সম্ভব। এতে ব্যথা হয় না। স্তনকে আগে ভালো করে ম্যাসাজ করে নিন। দুধ আসতে শুরু করলে পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত কৌটায় সংগ্রহ করুন। দুটো স্তনই পর্যায়ক্রমে খালি করুন।

সংগৃহীত দুধের কৌটাগুলো রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করা যায়। পরিচর্যাকারী যখন শিশুকে দুধ খাওয়াবেন, তার বেশ কিছুক্ষণ আগেই বের করে নেবেন। স্বাভাবিক বা একটু হালকা গরম তাপমাত্রার পানিতে কৌটাটা রেখে গরম করে নিন। মনে রাখবেন বুকের দুধ জ্বাল দেওয়া যাবে না। ফ্রিজে রাখা দুধ অনেক সময় বাদামি, হলদে বা ভিন্ন রঙের মনে হতে পারে, এটা স্বাভাবিক। ইনসুলেটেড কুলার ব্যাগে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত এবং সাধারণ রেফ্রিজারেটরে তিন দিন পর্যন্ত এই দুধ রেখে খাওয়ানো যাবে।

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন