রাত জাগার অভ্যাস কি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়
বর্তমান ব্যস্ত জীবনে রাত জেগে পড়াশোনা, কাজ করা, মোবাইল স্ক্রিনে ডুবে থাকা বা টেলিভিশন দেখা মানুষের জীবনে স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে রাত জাগা অভ্যাস বেশ প্রচলিত। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এই অভ্যাস দীর্ঘ মেয়াদে আমাদের হৃৎস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
যাঁরা স্বাভাবিকভাবে দেরিতে ঘুমাতে যান ও দেরিতে ওঠেন, তাঁদের মধ্যে হৃদ্রোগ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। প্রায় তিন লাখ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা লক্ষ করেন, রাত জাগা মানুষের মধ্যে হৃদ্রোগজনিত জটিলতার ঝুঁকি প্রায় ১৫–১৬ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হতে পারে।
এর প্রধান কারণ হিসেবে গবেষকেরা দায়ী করছেন দেহঘড়ির ব্যাঘাত। আমাদের শরীর স্বাভাবিকভাবে দিনের আলো ও অন্ধকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করে। রাত জেগে থাকলে ও দেরিতে ঘুমালে এই স্বাভাবিক ছন্দ বিঘ্নিত হয়। ফলে হরমোনের নিঃসরণ, রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা এবং হৃদ্যন্ত্রের কাজের ওপর প্রভাব পড়ে।
এ ছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, রাত জাগা মানুষের জীবনযাপন পদ্ধতিও অনেক সময় হৃৎস্বাস্থ্যের জন্য অনুকূল হয় না। তারা প্রায়ই অনিয়মিত খাবার খান, শরীরচর্চার সময় কম পান, ধূমপান বা অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের প্রবণতা বেশি থাকে। এসব কারণ মিলেই হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু দেরিতে ঘুমানোই হৃদ্রোগের একমাত্র কারণ নয়। বরং এর সঙ্গে যুক্ত জীবনযাপনের অভ্যাসগুলোই বড় ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ কেউ যদি রাত জাগেন কিন্তু স্বাস্থ্যকর খাবার খান, নিয়মিত শরীরচর্চা করেন এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করেন, তাহলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
হৃৎস্বাস্থ্য ভালো রাখতে বিশেষজ্ঞেরা কিছু সাধারণ পরামর্শ দিচ্ছেন—প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ওঠার চেষ্টা করা, ঘুমের মান উন্নত করা, দিনের বেলায় শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করা। পাশাপাশি ধূমপান এড়িয়ে চলা ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, রাত জাগা অভ্যাস শুধু ক্লান্তিই নয়, নীরবে আমাদের হৃদ্যন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই সুস্থ হৃদ্যন্ত্রের জন্য সময়মতো ঘুমানো ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গড়ে তোলাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।