কাঁধ ও হাঁটুতে আঘাত পেলে বা ব্যথা হলে যে কারণে অবহেলা করবেন না

কাঁধ ও হাঁটু আমাদের শরীরের সবচেয়ে সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ জোড়া। হাঁটা, দৌড়ানো, বসা, ওঠা, হাত তোলা—প্রতিটি কাজেই এদের ভূমিকা অপরিহার্য। তাই এই দুই স্থানে আঘাত বা দীর্ঘদিনের ব্যথা দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে। অনেকেই প্রথমে ব্যথা বা অন্যান্য উপসর্গকে তেমন গুরুত্ব দেন না। কিন্তু সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ছোট সমস্যা বড় জটিলতায় রূপ নিতে পারে।

কাঁধ ও হাঁটু আমাদের শরীরের সবচেয়ে সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ জোড়াছবি: পেক্সেলস

কেন হয়, কীভাবে বুঝবেন

হঠাৎ পড়ে যাওয়া, খেলাধুলায় ধাক্কা খাওয়া, ভারী কিছু তোলা বা ভুল ভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় কাজ করা ইত্যাদি কারণে কাঁধ বা হাঁটুতে আঘাত লাগতে পারে।

হাঁটুর ক্ষেত্রে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া, মেনিকাসে আঘাত বা বয়সজনিত অস্টিওআর্থ্রাইটিস ব্যথার বড় কারণ।

কাঁধে পেশি ও ল্যাব্রাম ইনজুরি, টেনডনে প্রদাহ ( টেনডিনাইটিস) বা জোড়া ছুটে যাওয়া (ডিসলোকেশন) থেকে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া অতিরিক্ত ওজন, নিয়মিত ব্যায়ামের অভাব ও বয়সজনিত ক্ষয়ও বড় ভূমিকা রাখে।

তীব্র ব্যথা বা হঠাৎ ফুলে যাওয়া, জোড়া নাড়াতে কষ্ট হওয়া, হাঁটু লক হয়ে যাওয়া বা কাঁধে ক্লিক শব্দ, ছুটে যাওয়া, দুর্বলতা বা অস্থিরতা অনুভব করা—এসব হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

আরও পড়ুন

প্রাথমিক অবস্থায় কী করবেন

আঘাত পাওয়ার প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা রোগীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ অবস্থায় বিশ্রাম নিতে হবে এবং আক্রান্ত অংশে চাপ কমানোর চেষ্টা করতে হবে।

বরফ সেঁক দিতে হবে দিনে ১৫ থেকে ২০ মিনিট কয়েকবার। ইলাস্টিক ব্যান্ডেজ ব্যবহার করা যেতে পারে। হাঁটুর ক্ষেত্রে পা সামান্য উঁচুতে রাখতে হবে।

নিজে নিজে মালিশ বা জোর করে ব্যায়াম বিপজ্জনক হতে পারে।

ওষুধ ও নিয়ন্ত্রিত বিশ্রাম: হালকা থেকে মাঝারি আঘাতে ব্যথানাশক ও প্রদাহনাশক ওষুধ দেওয়া হয়। তবে সম্পূর্ণ বিশ্রামে না থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সীমিত নড়াচড়া জরুরি, যাতে জোড়া শক্ত হয়ে না যায়।

ব্রেস বা সাপোর্ট: হাঁটুর জন্য নি-ব্রেস ও কাঁধের জন্য স্লিং ব্যবহার করা হতে পারে। এটি জোড়া স্থিতিশীল রাখে। আবার আঘাতের ঝুঁকি কমায়।

আরও পড়ুন

ফিজিওথেরাপি: কাঁধ বা হাঁটুর আঘাতে বা ব্যথায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ফিজিওথেরাপি। ধাপে ধাপে ব্যথা কমানো, পেশি নমনীয় করা, শক্তি বৃদ্ধি ও ব্যালান্স ট্রেনিং করানো হয়। নিয়মিত ব্যায়াম না করলে ব্যথা ফিরে আসতে পারে।

ইনজেকশন: কিছু ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ইনজেকশন দেওয়া হয়, যা প্রদাহ কমাতে ও টিস্যু পুনর্গঠনে সাহায্য করে।

অস্ত্রোপচার: লিগামেন্ট সম্পূর্ণ ছিঁড়ে গেলে, মেনিকাস গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে, কাঁধের পেশি পুরোপুরি এবং ল্যাব্রাম ছিঁড়ে গেলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে আর্থ্রোস্কোপিক পদ্ধতিতে ছোট ছিদ্র করে অস্ত্রোপচার করা হয়, যা তুলনামূলক নিরাপদ ও দ্রুত সুস্থতা নিশ্চিত করে।

অধ্যাপক ডা. জি এম জাহাঙ্গীর হোসেন, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগ, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর), ঢাকা

আরও পড়ুন