ঘুমকাড়া রোগ রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম কেন হয়, চিকিৎসা কী
সারা দিনের ক্লান্তি নিয়ে রাতে বিছানায় শুয়েছেন; কিন্তু ঘুম আসছে না। কারণ, পায়ে কেমন যেন অস্বস্তি হচ্ছে। মনে হচ্ছে পা নাড়াতেই হবে। একটু নড়ালেন, কিছুটা আরাম পেলেন। আবার স্থির হতেই একই অনুভূতি। শেষ পর্যন্ত উঠে হাঁটাহাঁটি শুরু করতে হলো।
অনেক মানুষ বছরের পর বছর এই সমস্যায় ভোগেন। এটি একটি স্বীকৃত স্নায়বিক রোগ, নাম রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম বা আরএলএস। এটি গুরুতর রোগ না হলেও ঘুম, কর্মক্ষমতা, মানসিক স্বস্তি ও জীবনমানকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
কীভাবে বুঝবেন আরএলএস
বিশ্রাম নিলে বা শুয়ে থাকলে সমস্যা বাড়ে। পা নাড়ানোর বা পা নাচানোর তীব্র ইচ্ছা হয়। হাঁটলে বা নড়াচড়া করলে আরাম লাগে। সন্ধ্যা বা রাতে সমস্যা সবচেয়ে বেশি হয়। কেউ বলেন পায়ে পিঁপড়া হাঁটছে, কেউ বলেন টান লাগে, কেউ বলেন ভেতরটা কেমন কিলবিল করে। অনেকে রাতে ঘুমের মধ্যে রশি বা কাপড় দিয়ে পায়ে গিঁট বাঁধেন আরাম পাওয়ার জন্য।
কেন হয়
এর সঠিক কারণ পুরোপুরি জানা না গেলেও গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কে লৌহ বা আয়রনের স্বল্পতা এবং ডোপামিন নামের রাসায়নিক বার্তাবাহকের কার্যকারিতার পরিবর্তনের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। তাই শুধু রক্তশূন্যতা আছে কি না, তা দেখলেই হয় না; আয়রন প্রোফাইল ও ফেরিটিন পরীক্ষা অনেক সময় প্রয়োজন হয়।
গবেষণা বলছে, ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতিও ঘুমের সমস্যা ও পেশির অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তাই সবুজ শাকসবজি, ডাল, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী।
আয়রনজনিত রক্তশূন্যতা, গর্ভাবস্থা, দীর্ঘমেয়াদি কিডনির রোগ, পরিবারে একই রোগের ইতিহাস এবং কিছু স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে আরএলএস বেশি দেখা যায়।
চিকিৎসা
প্রথমে খুঁজে বের করতে হবে আয়রনের ঘাটতি বা অন্য কোনো কারণ আছে কি না। আয়রন কম থাকলে এর চিকিৎসা করা হয় বা সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়।
অনেক রোগীর ক্ষেত্রে শুধু আয়রনের মাত্রা ঠিক করলেই উপসর্গ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। মুখে খাওয়ার কিছু ওষুধ বহু বছর ধরে আরএলএস চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে এবং অনেক রোগীর ক্ষেত্রে খুব ভালো কাজ করে।
তবে দীর্ঘ মেয়াদে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে রোগের তীব্রতা বাড়তে পারে। তাই এসব ওষুধ অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত।
আরএলএস শুধু ওষুধ দিয়ে সারানোর মতো রোগ নয়। নিয়মিত মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম, হাঁটা, সাইক্লিং, স্ট্রেচিং এবং পায়ের পেশি শক্ত করার ব্যায়াম উপসর্গ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে সমস্যা বাড়তে পারে। তাই অফিসে, ভ্রমণের সময় বা দীর্ঘ সময় টিভি দেখার সময় মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটা এবং পা নড়ানো উপকারী।
রাতে সমস্যা হলে কয়েক মিনিট হাঁটা, কাফ স্ট্রেচিং, হালকা ম্যাসাজ বা গরম পানিতে গোসল অনেকের ক্ষেত্রে সাময়িক আরাম দেয়।
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠা, বিকেল-সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত চা-কফি কমানো, ঘুমানোর আগে মুঠোফোন ব্যবহার সীমিত করা এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাপন রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ডা. সাকিব আল নাহিয়ান, সহকারী অধ্যাপক, ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ