কেন শিশুকে ভিটামিন এ খাওয়াবেন

ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনফাইল ছবি: প্রথম আলো

জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে আজ রোববার, ২৮ জুন। এদিন দেশের ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়স পর্যন্ত সব শিশুকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন এ খাওয়ানো হবে। কেন‌ভিটামিন এ খাওয়ানো জরুরি, এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি না বা সবাই খেতে পারবে কি না, সেসব নিয়ে নিচের বিষয়গুলো জানা জরুরি।

প্রয়োজনীয়তা কেন

ভিটামিন এ শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, ডায়রিয়া, হামসহ বিভিন্ন সংক্রমণের জটিলতা কমাতে এবং চোখের স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি বজায় রেখে অন্ধত্ব প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। কোনো শিশুর শরীরে ভিটামিন এ-এর ঘাটতি দেখা দিলে তার রাতকানা রোগ, চোখের নানান ক্ষত ও ক্ষতি, অন্ধত্ব, সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধিসহ অপুষ্টিজনিত নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি ভিটামিন এ–এর ঘাটতিতে থাকা কোনো শিশু যদি হাম, ডায়রিয়া ইত্যাদিতে ভোগে, তাহলে তার মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।

কারা ভিটামিন এ ক্যাপসুল নেবে

  • ৬-১১ মাস বয়সী শিশু: একটি নীল রঙের ক্যাপসুল (১,০০,০০০ আইইউ)

  • ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশু: একটি লাল রঙের ক্যাপসুল (২,০০,০০০ আইইউ)

কারা ভিটামিন এ ক্যাপসুল নেবে না

  • যেসব শিশুর বয়স ৬ মাসের কম।

  • যারা গত ৪-৬ মাসের মধ্যে ভিটামিন এ ক্যাপসুল গ্রহণ করেছে।

  • যারা গুরুতর অসুস্থ।

  • যাদের লিভারের রোগ আছে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি

ভিটামিন এ ক্যাপসুল অত্যন্ত নিরাপদ। তবে কিছু শিশুর ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে নিচের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যেমন

  • বমি বমি ভাব বা এক-দুবার বমি, হালকা মাথাব্যথা, অস্থিরতা বা খিটখিটে ভাব, সাময়িক জ্বর।

এসব উপসর্গ সাধারণত ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায় এবং বিশেষ কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না।

মনে রাখুন

ভিটামিন এ লিভারে ৩-৪ মাস পর্যন্ত সঞ্চিত থাকতে পারে। তাই চার মাস অন্তর অন্তর ভিটামিন এ খাওয়া যাবে। তবে এক মাসের মধ্যে কেউ হাই ডোজ ভিটামিন এ খেয়ে থাকলে এখন গ্রহণ করার দরকার নেই।

অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ

ভিটামিন এ ক্যাপসুল শিশুদের জন্য নিরাপদ, কার্যকর এবং ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন জীবনরক্ষাকারী একটি জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি। নির্ধারিত বয়সের প্রতিটি শিশুকে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনে নিয়ে ভিটামিন এ খাওয়ানো আমাদের দায়িত্ব। একটি ছোট্ট ক্যাপসুল আপনার শিশুকে সুস্থ, সবল রেখে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। তাই নির্ধারিত দিনে নিকটস্থ কেন্দ্রে গিয়ে আপনার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ান।

  • অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা, শিশুবিশেষজ্ঞ, বারডেম হাসপাতাল