গরমে আখের রস খাওয়ার আগে যেসব বিষয় জেনে রাখা জরুরি
তীব্র গরমে অনেক এলাকায়ই পথের পাশে আখের রস বিক্রি হয়। গরমে অবসন্ন শরীর জুড়িয়ে নিতে সে রস কিনে খান অনেকেই। তাতে দ্রুত শক্তিও মেলে। তবে আদতে কি আখের রস উপকারী? স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের মেডিসিন বিভাগের অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট ডা. তাসনোভা মাহিন–এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম।
পুষ্টিগত দিক
আখের রস থেকে আমরা মূলত পাই শর্করা আর পানি।
মাত্র এক কাপ আখের রস থেকেই আপনি ১৮০ ক্যালরির বেশি পাবেন।
মোটামুটিভাবে বলা যায়, এক কাপ আখের রস খেলে প্রায় ১২ চা–চামচ চিনি মেশানো পানি খাওয়ার মতো হবে ব্যাপারটা।
এই হিসাব থেকেই বুঝতে পারছেন, আখের রস খুব একটা স্বাস্থ্যকর পানীয় নয়।
এ ছাড়া এতে খনিজ লবণ বা ভিটামিনও তেমন থাকে না।
আখের রস থেকে আপনি আঁশও পাবেন না।
তবে কিছুটা অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট পাওয়া যায় আখের রসে।
কিন্তু প্রচণ্ড গরমে যখন খুব ঘাম হয়, তখন সুস্থ থাকতে আপনাকে এমন পানীয় বেছে নিতে হবে, যা থেকে আপনি লবণও পাবেন।
কারণ, ঘামের সঙ্গে আমাদের শরীর থেকে লবণ বেরিয়ে যায়। সেই ঘাটতি পূরণ করতে সামান্য লবণ মেশানো পানীয় খাওয়া ভালো। আখের রস তেমন পানীয়ও নয়।
এ সময় লবণ মেশানো পানীয় ছাড়াও ডাবের পানি বা ইলেকট্রোলাইট ড্রিংক ভালো। আর সারা দিনে যেন খুব বেশি মাত্রায় চিনি গ্রহণ করা না হয়, সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।
আছে জীবাণুর ভয়ও
আখের রস সাধারণত বাড়িতে করা হয় না। পথেঘাটে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আখের রস তৈরি ও পরিবেশনের সময় নানান জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আখের রস থেকে ডায়রিয়া, বমি বা পেটব্যথার মতো সমস্যা হতে পারে। গরমে পানিশূন্যতার ভয় এমনিতেই বেশি।
ডায়রিয়া বা বমি হলে তা থেকে পানিশূন্যতা এবং লবণের তারতম্যজনিত জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অস্বাস্থ্যকর পানীয়র মাধ্যমে ছড়াতে পারে জন্ডিসের জীবাণু (হেপাটাইটিস এ ভাইরাস, হেপাটাইটিস ই ভাইরাস)।
টাইফয়েড ও প্যারাটাইফয়েডের মতো রোগের জীবাণুও ছড়াতে পারে।
শেষ কথা
আখের রস আমাদের রক্তে দ্রুত শর্করার মাত্রা বাড়ায়। তাই এই পানীয় খাওয়ার পর বেশ দ্রুত একটা সতেজ অনুভূতি পাওয়া যায়।
তবে এই সতেজতা সাময়িক। রক্তের ওই শর্করা খুব দ্রুতই আমাদের দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে জমা হয়ে যায়।
তখন ওই সতেজ অনুভূতিও হারিয়ে যায়। আর গোটা ব্যাপারে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। একজন সুস্থ ব্যক্তির জন্যও তাই আখের রস ভালো নয়। তবে তিনি কালেভদ্রে এই পানীয় খেতে পারেন।
কিন্তু যাঁদের ওজন বেশি কিংবা যাঁদের ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ বা দীর্ঘমেয়াদি কিডনির রোগ আছে, তাঁদের আখের রস এড়িয়ে চলা উচিত।