পাইলসের অস্ত্রোপচার করার পরও কেন ইনফেকশন হয়

পায়খানার রাস্তার চারপাশে যে মাংসপেশি ও সাপোর্টিভ টিস্যু থাকে, তাদের দুর্বলতাও পাইলসের কারণ হতে পারেছবি: এআই/প্রথম আলো

মলদ্বারের যেকোনো সমস্যাই অন্যকে জানাতে অনেকেই বিব্রত বোধ করেন। এ ধরনের সমস্যার কথা অনেকে প্রিয়জনের কাছে বলতেও সংকোচে থাকেন। ফলে দেখা যায়, সাধারণ সমস্যাই পরে বিপজ্জনক রূপ নেয়, অনেক ক্ষেত্রে তখন এসব সমস্যার চিকিৎসা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এ রকম একটি সমস্যা পাইলস বা অর্শ্বরোগ। আগেভাগে এটি সম্পর্কে ভালোভাবে জানা থাকলে সহজেই তা প্রতিরোধ করা সম্ভব। আর রোগ যদি একবার হয়েই যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

পাইলস কীভাবে হয়

পায়খানা অনিয়মিত ও শক্ত হলে টয়লেটে বসে বেশি চাপ দিতে হয়, সময়ও বেশি লাগে। ফলে পেটের ভেতরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। পায়খানার রাস্তার শেষ প্রান্তে যে এনাল কুশন থাকে, চাপে পড়ে তা কিছুটা নিচের দিকে নেমে আসে।

চাপের কারণে সেখানে থাকা রক্তনালিগুলোয় বেশি পরিমাণে রক্ত জমা হতে থাকে। শক্ত পায়খানা যখন সেখান দিয়ে পার হয়, তখন তার আঘাতে এনাল কুশনের রক্তনালিতে ক্ষত তৈরি হয়। এই ক্ষতস্থান থেকে রক্তপাত হয়।

  • এ জন্য পাইলসের রক্ত সাধারণত টকটকে লাল হয়। আর পায়খানার পরেও কয়েক ফোঁটা রক্ত যেতে পারে।

  • পায়খানার রাস্তার চারপাশে যে মাংসপেশি ও সাপোর্টিভ টিস্যু থাকে, তাদের দুর্বলতাও পাইলসের কারণ হতে পারে।

  • দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় ফাইবারযুক্ত খাবার কম থাকলে পায়খানা শক্ত হয়।

  • জোরে চাপ দিয়ে পায়খানা করলে, দীর্ঘ সময় ধরে টয়লেটে বসে থাকলে ও শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমলে পাইলস হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আরও পড়ুন

চিকিৎসা ও ঝুঁকি

প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে নিয়মিত কিছু ওষুধ খেলে ও জীবনযাত্রার পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করলে পাইলস নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তবে নিয়মিত অথবা অতিরিক্ত রক্তপাত হতে থাকলে কিংবা পাইলস যদি নিচে নেমে পায়খানার রাস্তার বাইরে চলে আসে, মাথা ঘোরানো ও দুর্বলতা দেখা দেয়, তাহলে অস্ত্রোপচার করানো লাগতে পারে।

পাইলসের অপারেশনে ফুলে ওঠা রক্তনালিগুলো কেটে ফেলা হয়। তারপর কিছুদিন কুসুম গরম পানিতে সেঁক নিতে হয়। এ ধরনের অপারেশন থেকে দ্রুতই সেরে ওঠা যায়।

যাঁদের পাইলসের অপারেশন হয়, তাঁদের অনেকে আবার ইনফেকশন হয়ে জটিলতায় ভোগেন। এটারও একটা বিশেষ কারণ আছে। পাইলসের রাস্তা যেহেতু স্পর্শকাতর, তাই অপারেশনের পরও মলত্যাগ করে নিয়মিত ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি। মলদ্বারের আশপাশের এলাকায় অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া সহজে কাটা স্থানে প্রবেশ করতে পারে, সেখান থেকেও ইনফেকশন হতে পারে।

অস্ত্রোপচার করার আগের জীবনযাপন পরবর্তী সময়ে বজায় রাখলে আবারও পাইলসের আশঙ্কা থাকে। এ জন্য খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। টয়লেটে দীর্ঘ সময় কাটানো যাবে না। জোরে চাপ দিয়ে টয়লেট করা যাবে না। এ ছাড়া অতিরিক্ত ভারোত্তোলন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

লেখক: কনসালট্যান্ট সার্জন, ইবনে সিনা হাসপাতাল, সোবহানীঘাট, সিলেট

আরও পড়ুন