ফুসফুস নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

আজ ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফুসফুস দিবস। ফুসফুসের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘জীবনব্যাপী ফুসফুসের স্বাস্থ্য’। সুস্থ জীবনের পূর্বশর্ত সুস্থ ফুসফুস। আসুন ফুসফুসের ঝুঁকি নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর জেনে নিই।

প্রশ্ন: ধূমপান ছাড়া আর কোন কোন অভ্যাস বা পরিবেশগত কারণে ফুসফুসের ক্ষতি হতে পারে?

উত্তর: বায়ুদূষণ, পরোক্ষ ধূমপান, কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি, বারবার সংক্রমণ (ইনফেকশন) ও বংশগত কারণ। অন্যের ধূমপানের ধোঁয়া অধূমপায়ী ব্যক্তি অনিচ্ছাকৃতভাবে নিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করলে তা প্রত্যক্ষ ধূমপানের মতোই অত্যন্ত ক্ষতিকর। হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। ফুসফুস ও অন্যান্য অঙ্গের ক্যানসারের ঝুঁকি সৃষ্টি করে। হাঁপানি, সর্দি-কাশি ও দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ বাড়ায়। শিশুদের নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস এবং কানের সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

প্রশ্ন: বায়ুদূষণ ফুসফুসের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে?

উত্তর: দূষিত বাতাস হাঁপানির আক্রমণ তীব্র করে তোলে এবং নতুন করে হাঁপানি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। দীর্ঘমেয়াদি বায়ুদূষণের কারণে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি হতে পারে; যাতে রোগীর শ্বাসকষ্ট ও স্থায়ী কাশি হয়। বায়ুদূষণে থাকা কার্সিনোজেন উপাদান দীর্ঘকাল ধরে শরীরে প্রবেশ করলে ফুসফুসে ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে যাওয়ায় নিউমোনিয়া বা ব্রংকাইটিসের মতো তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ সহজে আক্রমণ করে।

প্রশ্ন: দূষিত বাতাসের মধ্যে কাজ করা মানুষের ফুসফুস সুরক্ষায় কী কী সতর্কতা জরুরি?

উত্তর: নির্মাণশ্রমিক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা যাঁরা প্রতিনিয়ত ধুলাবালুর মধ্যে কাজ করেন, তাঁদের ফুসফুসকে সুরক্ষিত রাখতে সঠিক মাস্ক ব্যবহার, ধুলা নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সবচেয়ে ভালো মাস্ক হলো এন-৯৫/কেএন-৯৫/কেএফ-৯৪, যা বাতাসে থাকা শূন্য দশমিক মাইক্রনের অতি ক্ষুদ্র কণা ফুসফুসে ঢুকতে বাধা দেয়।

প্রশ্ন: নাক বন্ধ করে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া নিরাপদ?

উত্তর: দূষিত বাতাসের মধ্যে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া মুখ দিয়ে নেওয়ার চেয়ে বেশি নিরাপদ। কারণ, নাকের ছাঁকনির মাধ্যমে বাতাস পরিশুদ্ধ হয় এবং তাপমাত্রা সহনীয় হয়।

প্রশ্ন: শ্বাসের ব্যায়াম কি সুস্থ মানুষের ফুসফুস ভালো রাখার জন্য জরুরি?

উত্তর: সবার জন্য জরুরি। তবে রোগীদের জন্য বেশি উপকারী। ফুসফুস ভালো রাখতে পরিমিত পুষ্টিকর খাবার, শরীরচর্চা, ঘুম ও ঘরের পরিবেশ ঠিক রাখা দরকার।

প্রশ্ন: ফুসফুসের সমস্যা শুরু হলে কোন কোন লক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?

উত্তর: কাশি। কাশির সঙ্গে রক্ত। শ্বাসকষ্ট। জ্বর। ওজন হ্রাস।

  • অধ্যাপক ডা. মো. জাকির হোসেন সরকার, সভাপতি, বাংলাদেশ ইন্টারভেনশনাল পালমোনোলজি, ক্রিটিক্যাল কেয়ার অ্যান্ড স্লিপ সোসাইটি (বিপস)