উৎসবে ডায়াবেটিস রোগীর প্রস্তুতি

উৎসবের সময় দিনে একাধিকবার বাড়িতে সুগার মাপার প্রয়োজন হতে পারেছবি: পেক্সেলস

উৎসব আমাদের জীবনে বিশেষ মুহূর্তের প্রতীক। পরিবার, বন্ধু ও সমাজের মানুষজনের সঙ্গে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, ভ্রমণ এবং নানা আয়োজন এই সময়কে আরও আনন্দময় করে তোলে। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উৎসবের সময়টা চ্যালেঞ্জেরও হতে পারে। তাই আগে থেকে কিছু প্রস্তুতি নিলে ডায়াবেটিস রোগীরা নিরাপদে উৎসব উপভোগ করতে পারেন।

করণীয়

  • উৎসবের সময় ইনসুলিন বা ওষুধের ডোজ সামান্য পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। তাই উৎসবের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।  

  • উৎসবের সময় দিনে একাধিকবার বাড়িতে সুগার মাপার প্রয়োজন হতে পারে, বিশেষ করে প্রতিবার মূল খাবারের আগে, খাবারের ২ ঘণ্টা পরে ও অবশ্যই রাতে ঘুমানোর আগে। এভাবে পর্যবেক্ষণ করলে হঠাৎ শর্করা বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়ার বিপদ বোঝা যায়।

  • উৎসবের আগে একটি খাদ্য পরিকল্পনা করা উচিত। যেমন পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ বা ক্যালরি মেপে খাওয়া। চিনি কম বা চিনি ছাড়া খাবার বেছে নেওয়া। ভাজাপোড়ার পরিবর্তে সেদ্ধ বা গ্রিল করা খাবার খাওয়া। শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করা। কম চিনিযুক্ত ফল বেছে নেওয়া। প্রচুর পানি পান করা।

  • উৎসবে ব্যস্ততা থাকলেও শারীরিক কার্যকলাপ বন্ধ করা উচিত নয়। প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট হাঁটা, স্ট্রেচিং বা হালকা ব্যায়াম করতে হবে। খাবারের পর হালকা হাঁটা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

  • উৎসবের সময় ঘুমের রুটিন নষ্ট হয়। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের ঘুমের অভাব রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি করতে পারে। চেষ্টা করতে হবে অতিরিক্ত রাত জাগা এড়িয়ে চলা, নিয়মিত ঘুমের রুটিন বজায় রাখা ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া।

আত্মনিয়ন্ত্রণ

ডায়াবেটিস শুধু শারীরিক নয়, মানসিক বিষয়ও। রোগীর উচিত উৎসবেও নিজের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া—‘এক দিন বেশি খেলে কিছু হবে না’ এমন মনোভাব থেকে বিরত থাকা। পরিবার ও বন্ধুদেরও উচিত খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশনের সময় ডায়াবেটিস রোগীর কথা মনে রাখা।

ওষুধ ব্যবস্থাপনা

  • পর্যাপ্ত ওষুধ মজুত রাখা। ইনসুলিন ব্যবহার করলে তা সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা। ভ্রমণে গেলে ওষুধ আলাদা ব্যাগে রাখা। মুঠোফোন বা ঘড়িতে অ্যালার্ম বা রিমাইন্ডার ব্যবহার করা।

  • ডায়াবেটিস রোগীর হঠাৎ করে রক্তে শর্করা কমে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) বা বেড়ে (হাইপারগ্লাইসেমিয়া) যেতে পারে। এমন সমস্যা হলে কী করণীয়, তা জেনে রাখা। সঙ্গে গ্লুকোজ ট্যাবলেট বা চিনি, দ্রুত শক্তি দেয় এমন খাবার, গ্লুকোমিটার ও চিকিৎসকের নম্বর রাখা উচিত।

  • ডা. নাজমা আক্তার, সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রিনোলজি ও  মেটাবলিজম বিভাগ, মার্কস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা