দাঁতের ব্যথা এমন একটি সমস্যা, যা হঠাৎ করেই দৈনন্দিন জীবনকে অচল করে দিতে পারে। খাওয়া, কথা বলা এমনকি স্বাভাবিক জীবনযাপন কষ্টকর হয়ে ওঠে। দাঁতের ব্যথা কেন হয়েছে, তা নিশ্চিত করে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
দাঁতের ব্যথার সাধারণ কারণ
সাধারণত দাঁতে ক্যাভিটি বা ক্ষয়, দুর্ঘটনা, মাড়ির সংক্রমণ বা যেকোনো কারণে দাঁতের ভেতরের স্নায়ু আক্রান্ত হলে দাঁতে ব্যথা শুরু হয়। এ ছাড়া আক্কেলদাঁতের সমস্যা কিংবা পুরোনো ফিলিং নষ্ট বা রুট ক্যানেল চিকিৎসা সঠিক না হলে দাঁতে ব্যথা হতে পারে। অনুমোদিত চিকিৎসক ছাড়া ফিলিং করালে সঠিক পদ্ধতি বা উপযুক্ত ফিলিং ম্যাটেরিয়ালস ব্যবহার না করায় ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক। অনেক সময় সাইনাসের সংক্রমণ, মুখের স্নায়ুরোগ, হার্টের রোগ, নিউরোভাসকুলার রোগ, কানের রোগ, মাইগ্রেন ইত্যাদি কারণেও দাঁতে ব্যথা অনুভব হতে পারে। তাই ব্যথার ধরন ও অবস্থান লক্ষ করা গুরুত্বপূর্ণ।
দাঁতে ব্যথা শুরু হলে প্রাথমিক করণীয়
প্রথমেই মুখ পরিষ্কার রাখা দরকার। লবণমিশ্রিত কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ভালোভাবে কুলি করলে দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাবারের কণা বের হয়ে যায় এবং সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ না পাওয়া গেলে বয়সভেদে প্যারাসিটামল–জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। যেমন পাঁচ বছরের নিচে শিশুর ৫ এমএল সিরাপ, ১৬ বছরের নিচে হলে ২৫০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট, তার বেশি বয়স হলে ৫০০ থেকে ১০০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত খাওয়া যেতে পারে। লবঙ্গ গুঁড়া করে একটু তেলের সঙ্গে মিশিয়ে দাঁতের গর্তে দেওয়া যেতে পারে।
সতর্কতা
অনেকেই নিজের ইচ্ছেমতো বা ফার্মাসি থেকে ব্যথানাশক ওষুধ খান, যা ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক খাওয়া উচিত নয়, কারণ এতে মূল সমস্যাটি থেকে যায় এবং জটিলতা বাড়তে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক কোনোভাবেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেবন করা যাবে না। চিকিৎসক পরামর্শ করলে মাত্রা, সেবনের সময় ও সম্পূর্ণ কোর্স অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
গরম না ঠান্ডা সেঁক—কোনটি উপকারী? অনেকে দাঁতের ব্যথায় গরম সেঁক দেন, যা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ক্ষতিকর। দাঁতের ব্যথায় গরমের পরিবর্তে ঠান্ডা সেঁক উপকারী হতে পারে, বিশেষ করে যদি প্রদাহ বা ফোলা থাকে। বাইরে থেকে গালে হালকা ঠান্ডা সেঁক দিলে প্রদাহ ও ব্যথা কিছুটা কমে। তবে সরাসরি দাঁতের ওপর বরফ লাগানো উচিত নয়।
কখন দন্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন
দন্ত চিকিৎসক ব্যথার সঠিক কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজন অনুযায়ী ফিলিং, রুট ক্যানেল ট্রিটমেন্ট, মাড়ির চিকিৎসা বা ক্ষেত্রবিশেষে দাঁত অপসারণের পরামর্শ দিতে পারেন। সময়মতো চিকিৎসা নিলে ব্যথা যেমন দ্রুত কমে, তেমনি ভবিষ্যতের খরচ ও জটিলতা থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।
প্রতিরোধ
নিয়মিত ও নিয়ম মেনে দাঁত ব্রাশ করা, ফ্লস ব্যবহার, ছয় মাস অন্তর দাঁত পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস দাঁতের ব্যথা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশুদের দাঁতের যত্ন নেওয়া শেখাতে হবে।
ডা. মো. আসাফুজ্জোহা রাজ, রাজ ডেন্টাল সেন্টার, কলাবাগান ও রাজ ডেন্টাল ওয়ার্ল্ড, পান্থপথ