মাত্র ১৫ মিনিট ব্যয় করেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন মানসিক চাপ

উত্থিত ত্রিকোণাসনমডেল : বাপ্পা শান্তনু, ছবি : সাবিনা ইয়াসমিন

‘আমার কোনো মানসিক চাপ নেই’—এ কথা আজকাল খুব কম মানুষই বলতে পারেন। আধুনিক কর্মব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনে সবার মধ্যেই কমবেশি দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ বা চাপ কাজ করে। আমরা অনেকেই শারীরিক ফিটনেস নিয়ে সচেতন হলেও মানসিক সুস্থতার দিকটি প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়।

ফলে দিনের পর দিন মানসিক চাপ জমতে থাকে। একসময় মস্তিষ্কের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে, যার প্রভাব পড়ে পুরো শরীরে। দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের সঙ্গে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, হরমোনজনিত সমস্যা, এমনকি নারীদের পিসিওএসের (এখন পিএমওএস বা পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবলিক ওভারিয়ান সিনড্রোম নামে পরিচিত) মতো সমস্যারও সম্পর্ক রয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে।

ইয়োগার বড় একটি সুবিধা হলো এটি শুধু শরীরকে নমনীয় ও ফিট রাখে না, মানসিক চাপ কমাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে। অন্যান্য অনেক ব্যায়ামের তুলনায় ইয়োগা শরীর ও মনের সমন্বিত যত্ন নেয়।

মেডিটেশন করলে মন শান্ত হতে সাহায্য করে
ছবি: বাপ্পা শান্তনুর সৌজন্যে

স্ট্রেস কমাতে কীভাবে শুরু করবেন

প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট সময় দিলেই শুরু করা যায়। একটি সহজ রুটিন হতে পারে—

  • ৫ মিনিট যোগাসন।

  • ৫ মিনিট প্রাণায়াম।

  • ৫ মিনিট মেডিটেশন

সকাল বা সন্ধ্যায় যোগাসন ও প্রাণায়াম করতে পারেন। রাতে ঘুমানোর আগে কয়েক মিনিট মেডিটেশন করলে মন শান্ত হতে সাহায্য করে। সময় বেশি থাকলে আরও করতে পারেন, তবে নিয়মিত ১৫ মিনিটও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
মনে রাখবেন, স্ট্রেস কমাতে যোগাসন, প্রাণায়াম ও মেডিটেশন—তিনটিই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু একটি করলে আংশিক উপকার মিললেও সমন্বিত চর্চায় ফল ভালো হয়।

কোন যোগাসন করবেন

প্রায় সব ধরনের যোগাসনই মানসিক চাপ কমাতে ও শরীরকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। সহজ না কঠিন, এটাই মূল বিষয় নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো আসনটি সঠিক ভঙ্গিতে ও সঠিক শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে করা হচ্ছে কি না।

যোগচর্চার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

১. সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করুন

প্রতিটি আসন, প্রাণায়াম ও মেডিটেশনের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। পূর্ণ ফল পেতে নিয়মগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবেই অনুসরণ করতে হবে। মনোযোগ দিয়ে ধাপে ধাপে করলে যে কেউ তা শিখতে পারেন।

২. ভঙ্গি ঠিক রাখুন

যোগাসন, প্রাণায়াম বা মেডিটেশন, যা–ই করুন না কেন, প্রতিটির একটি নির্দিষ্ট জ্যামিতিক গঠন থাকে। শরীরকে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক ও আরামদায়কভাবে সেই ভঙ্গিতে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

বৃক্ষাসন
ছবি: বাপ্পা শান্তনুর সৌজন্যে

৩. শ্বাসপ্রশ্বাস

ইয়োগার প্রাণই হলো শ্বাসপ্রশ্বাস। সঠিকভাবে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার অভ্যাস শরীর ও মনে গভীর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

৪. মনোযোগ কোথায় দেবেন

প্রতিটি আসনে, প্রাণায়ামে বা মেডিটেশনে ফোকাসের জায়গা আলাদা হয়। সে অনুযায়ী মনোযোগ ধরে রাখতে পারলে উপকার বেশি পাওয়া যায়।

৫. মানসিক প্রস্তুতি জরুরি

আগের চারটি বিষয় সঠিকভাবে মানার পরও মানসিকভাবে সম্পৃক্ত না হতে পারলে ইয়োগা কোনো কাজে আসবে না। বাইরের জীবনে রাগ, দুঃখ, চাপ বা অস্থিরতা থাকতেই পারে। কিন্তু ইয়োগার ম্যাটে দাঁড়ানো বা বসার পর চেষ্টা করুন কয়েক মিনিটের জন্য নিজেকে সেই চর্চার মধ্যে সম্পূর্ণভাবে উপস্থিত রাখতে। জোর করে নয়, নিজের ইচ্ছা থেকে ইয়োগা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথম দিনেই সবকিছু নিখুঁত হবে না। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো আপনি প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট নিজের জন্য সময় দিচ্ছেন কি না। নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ধীরে ধীরে ভঙ্গি, শ্বাসপ্রশ্বাস, মনোযোগ—সবই উন্নত হবে। আর সময়ের সঙ্গে আপনি নিজেই অনুভব করবেন, শরীর ও মন—দুটিই আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও স্থির হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন