এই ৬ রুটির কোনটার কী উপকারিতা, জানেন কি
রুটি আমাদের খাবারের নিত্যসঙ্গী। তবে আমরা যে আটা বেশি ব্যবহার করি, তার বেশির ভাগই গমের পরিশোধিত রূপ। অথচ এর বাইরেও নানা ধরনের রুটি আছে, যা তৈরি হয় ভিন্ন ভিন্ন শস্য থেকে। এসব রুটির স্বাদ, গঠন ও পুষ্টিগুণেও আছে উল্লেখযোগ্য বৈচিত্র্য। গম, বাজরা, জোয়ার, রাগি, ভুট্টা কিংবা মাল্টিগ্রেন—প্রতিটি রুটিরই আছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতা। এই বৈচিত্র্য শুধু খাবারে নতুনত্বই আনে না, বরং শরীরের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই চলুন, জেনে নেওয়া যাক, কোন রুটির কী উপকারিতা।
হোল গ্রেইন গমের রুটি
হোল গ্রেইন বা গোটা শস্যের গমের রুটি সাধারণ পরিশোধিত আটার মতো নয়। এটি গমের এমন একটি রূপ, যেখানে গমের দানার দুটি অংশই—তুষ ও অঙ্কুর অক্ষুণ্ন থাকে।
হোল গ্রেইন গমে থাকা জটিল কার্বোহাইড্রেট ধীরে ধীরে শক্তি জোগায়। ফলে দীর্ঘ সময় এনার্জি বজায় থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় ক্ষুধা কমে।
গমের তুষ হজমে সহায়ক অদ্রবণীয় আঁশ সরবরাহ করে আর অঙ্কুর অংশে থাকা ভিটামিন বি (যেমন থায়ামিন ও নিয়াসিন) বিপাকক্রিয়া ও মনোযোগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
এ ছাড়া এতে থাকা আয়রন হিমোগ্লোবিন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং সামান্য পরিমাণে থাকা জিংক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়।
ডাল বা দইয়ের সঙ্গে খেলে প্রয়োজনীয় সব অ্যামিনো অ্যাসিড পাওয়া যায়, ফলে এই রুটি হয়ে ওঠে সম্পূর্ণ পুষ্টিকর ও সুষম।
বাজরার রুটি
বাজরায় আছে প্রচুর ম্যাগনেশিয়াম, যা রক্তনালি শিথিল করে এবং হৃৎস্বাস্থ্যে সহায়তা করে। পাশাপাশি এর পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
এর আঁশ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং উদ্ভিজ্জ প্রোটিন দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। আয়রন ও ফোলেট রক্তের জন্য অত্যন্ত উপকারী, বিশেষ করে ক্লান্তি থাকলে এসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আয়রন হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে, যা শরীরে অক্সিজেন পরিবহন করে, আর ফোলেট নতুন রক্তকণিকা গঠনে সহায়তা করে।
এ ছাড়া ধীরে শর্করা নিঃসরণের কারণে এই রুটি রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। ফলে শরীরে শক্তি বজায় থাকে দীর্ঘ সময় এবং হঠাৎ দুর্বলতা বা ক্লান্তি কম অনুভূত হয়।
জোয়ারের রুটি
জোয়ারের রুটি সহজপাচ্য হওয়ায় পেট হালকা লাগে, তবে পুষ্টিগুণে অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
এটি প্রাকৃতিকভাবে গ্লুটেনমুক্ত এবং এতে থাকা পলিফেনল শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।
এর আঁশ, বিশেষ করে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ, অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে পুষ্টি জোগায়। ফলে হজমপ্রক্রিয়া ভালো থাকে এবং ক্ষুধাও নিয়ন্ত্রিত থাকে।
এতে থাকা কপার ও ফসফরাস হাড়–টিস্যুর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, আর পর্যাপ্ত প্রোটিন শরীরের কোষ মেরামত ও পুনর্গঠনে সহায়তা করে।
রাগি আটার রুটি
রাগি আটার রুটির স্বাদ কিছুটা বাদামের মতো, তবে পুষ্টিগুণে ভরপুর। সব শস্যের মধ্যে এতে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, যা হাড়, দাঁত ও পেশি মজবুত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এটি কিশোর-কিশোরী, নতুন মা ও বয়স্কদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
এতে থাকা আয়রন ও অ্যামিনো অ্যাসিড শরীর গঠন ও কোষ মেরামতে সহায়তা করে।
এর আঁশ রক্তে শর্করার ধীরে নিঃসরণ নিশ্চিত করে। ফলে শক্তি দীর্ঘ সময় স্থির থাকে।
দ্রুত পেট ভরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতার কারণে এটি অপ্রয়োজনীয় নাশতার চাহিদা কমাতে সাহায্য করে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর। একটি নীরব কিন্তু শক্তিশালী সহায়ক।
মাল্টিগ্রেইন রুটি
মাল্টিগ্রেইন রুটি বুদ্ধিদীপ্ত ও স্বাস্থ্যকর পছন্দ। এতে গম, ওটস, যব (বার্লি), ভুট্টা, জোয়ার, তিসি, বাজরা ও রাগির মতো একাধিক শস্য একসঙ্গে মেশানো থাকে। ফলে একসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।
গম থেকে পাওয়া যায় আঁশ, ওটস যোগ করে কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক বিটা-গ্লুকান, তিসি সরবরাহ করে উপকারী ফ্যাট এবং বার্লি সমৃদ্ধ করে খনিজ উপাদানে।
সব মিলিয়ে এটি এমন একটি রুটি, যা শুধু পেট ভরায় না, বরং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
মক্কি রুটি
মক্কি রুটি মূলত ভুট্টার আটা দিয়ে তৈরি করা হয়। ভুট্টার আটা প্রাকৃতিকভাবে গ্লুটেনমুক্ত এবং এতে থাকা আঁশ হজম সহজ করতে সাহায্য করে।
এতে লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিনের মতো চোখের জন্য উপকারী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, পাশাপাশি ভিটামিন বি৬ ও ফোলেট শরীরে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে।
শর্ষের শাক ও সামান্য ঘির সঙ্গে খেলে এর পুষ্টিগুণ আরও বাড়ে। কারণ, চর্বি শরীরে পুষ্টি শোষণে সাহায্য করে।
উল্লেখ্য, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, বড় সুপারশপ ও অরগানিক ফুড স্টোরগুলোয় বাজরা, জোয়ার, রাগি কিংবা হোল গ্রেইন গমের মতো আটা সহজেই পাওয়া যায়।
সূত্র: এমএসএন