অগ্নিকাণ্ডে ধোঁয়া মোকাবিলার কৌশল জানালেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক

শীত মৌসুমে বাড়ে অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকি। আগুনই কেবল বিপজ্জনক নয়, আগুনের ধোঁয়াও হয়ে উঠতে পারে প্রাণঘাতী। ১৬ জানুয়ারি রাজধানীর উত্তরায় অগ্নিদুর্ঘটনায় যে ছয়জন মারা গেলেন, তাঁরা কেউই আগুনে পুড়ে মারা যাননি। মৃত্যুর কারণ ছিল ধোঁয়া। ঘরটাই হয়ে উঠেছিল তাঁদের মৃত্যুকূপ। এমন পরিস্থিতিতে বিষাক্ত ধোঁয়ার হাত থেকে বাঁচতে নিজেদের কিছু কি করার আছে? জানালেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. জেনিফার শারমিন

অগ্নিকাণ্ডে ধোঁয়ার মোকাবিলা করতে না পেরে অনেকেই মারা যানছবি: খালেদ সরকার

বদ্ধ জায়গায় আগুনের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে ওই মুহূর্তে কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয়, ঠান্ডা মাথায় তা ভাবার মতো সুযোগ থাকে না। তবে কিছু বিষয় সবার জেনে রাখা প্রয়োজন। ছোট্ট কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্তও বিপদের মুহূর্তে কাজে আসতে পারে। এমন কিছু বিষয় জানা থাকলে ছোট–বড় সবারই উপকার।

যা করবেন

  • ধোঁয়ার স্থান থেকে সরে যেতে চেষ্টা করুন। মাথা নিচু করে হামাগুড়ি দিয়ে চলাচল করতে হবে। তবে মাথা নিচু রাখতে গিয়ে একদম শুয়ে পড়াও ঠিক নয়। একই সঙ্গে উদ্ধারকারী দলকে খবর দিতে চেষ্টা করুন। এ জন্য মুঠোফোনে জরুরি নম্বরগুলো আগে থেকেই সংরক্ষণ করে রাখা ভালো।

  • ভেজা তোয়ালে বা ভেজা কোনো ভারী কাপড় দিয়ে নাক-মুখ চেপে রাখুন। তাহলে আপনার শ্বাসতন্ত্রে ধোঁয়ার প্রভাব তুলনামূলক কম পড়বে। ভেজানোর সুযোগ না পেলেও অন্তত ভারী কোনো কাপড় দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে নিন।

  • খোলা জায়গায় যাওয়ার সুযোগ না পেলে ঘরে যেদিক থেকে ধোঁয়া ঢুকছে, তার বিপরীত দিকে আশ্রয় নিতে চেষ্টা করুন। বারান্দা বা খোলা জানালার কাছাকাছি থাকতে পারলে ভালো। এ রকম কোনো সুযোগ না পেলে বাথরুমের দরজা আটকে দিয়ে সেখানে আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে, যদি সেখানের জানালা খোলা যায়।

২০২৫ সালের নভেম্বরে হংকংয়ে বহুতল আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ধোঁয়ায় বহু মানুষের প্রাণহানি হয়
ছবি: রয়টার্স
  • আরও একটা কাজ করতে চেষ্টা করতে হবে। ঘরে যেদিক থেকে ধোঁয়া ঢুকছে, সেদিকের দরজা-জানালা বন্ধ করে দিন। দরজা আটকানোর পরেও নিচের ফাঁকা অংশ দিয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে ধোঁয়া। এ ধরনের জায়গায় ভেজা তোয়ালে রেখে দিতে পারলে ধোঁয়া তুলনামূলক ধীরে ছড়াবে। ওই দিকটায় ভেন্টিলেটর থাকলে সম্ভব হলে সেটিও ঢেকে দিন।

  • সাহায্যের জন্য নিজের অবস্থান জানাতে চেষ্টা করতে পারেন কোনো উজ্জ্বল রঙের কাপড় নাড়াচাড়া করে। অন্ধকার থাকলে মুঠোফোনের আলোও জ্বালাতে পারেন।

  • বাথরুমের বালতিতে পানি ভরুন। নাক-মুখ চেপে রাখার জন্য ব্যবহৃত কাপড় কিংবা দরজার ফাঁকা আটকানোর জন্য ব্যবহৃত তোয়ালে শুকিয়ে আসলে যাতে ওই পানিতে দ্রুত ভিজিয়ে ফেলতে পারেন।

আরও পড়ুন

ধোঁয়ায় যা করবেন না

  • ধোঁয়া কম দেখলেও ধরে নেবেন না ক্ষতি কম হবে। অসতর্ক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

  • মাথা উঁচু করে রাখবেন না। কারণ, ধোঁয়া ওপরের দিকে দ্রুত যায়।

  • ধোঁয়ার মধ্যে মুখ খুলে চিৎকার না করাই ভালো। চিৎকার করতে গিয়ে অনেকটা ধোঁয়া শ্বাসনালির ভেতর চলে যেতে পারে।

  • ফ্যান বা শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র চালাবেন না।

  • উঁচু জায়গা থেকে লাফ দেবেন না।

  • ধোঁয়ার মধ্যে বাইরের কারও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আগুন জ্বালাবেন না।

আরও পড়ুন