হঠাৎ রেগে যাওয়া, দরজা বন্ধ করে থাকা বা চুপচাপ থাকা—কিশোরেরা কেন এমন করে

কিশোর–কিশোরীদের অনুভূতিকে সম্মান দিতে হবে, কথার অন্তর্গত অনুভূতিটা বুঝতে হবেমডেল: গোলাম মোর্শেদ ও লুবাবা। ছবি: প্রথম আলো

কিশোর বয়স একটা সেতুর মতো। শৈশব থেকে যৌবনে, নির্ভরতা থেকে স্বাধীনতায়, সরলতা থেকে বাস্তবতায় যাওয়ার সেতু। কিন্তু এই সেতু পার হওয়া অনেক কিশোর-কিশোরীর জন্য সহজ নয়। অনেকের এ সময়টাতে নীরবতা, বিরক্তি, জেদ বা আচরণের পেছনে লুকিয়ে থাকে অজানা চাপ, দুশ্চিন্তা আর মানসিক ক্লান্তি।

কৈশোরের সমস্যাগুলো সাধারণ। এই বয়সটা জীবনের সবচেয়ে দ্রুত পরিবর্তনের সময়। শারীরিক বৃদ্ধি, হরমোনের পরিবর্তন, আবেগের ওঠানামা, পরিচয় খোঁজা, সামাজিক চাপ—সব মিলিয়ে এই সময়টা তাদের জন্য মানসিকভাবে নাজুক। বিশেষ করে কিশোরীরা হরমোনের পরিবর্তন, মাসিক চক্র, শরীর নিয়ে মন্তব্য, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং সম্পর্কগত সংবেদনশীলতার কারণে অতিরিক্ত চাপে পড়ে।

যেসব পরিবর্তন ঘটে

ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন ওঠানামা করে। মাসিক চক্র, ব্রণ, শরীরের গঠনগত পরিবর্তন, স্তনের আকার বৃদ্ধির মতো শারীরিক পরিবর্তন কিশোরীদের মধ্যে দ্রুত প্রভাব ফেলে। তীব্র অনুভূতি, আত্মপরিচয় খোঁজা ও সম্পর্কের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীলতার মতো আবেগগত পরিবর্তনও দেখা যায়।

এ ছাড়া আজকের কিশোর-কিশোরীদের সবচেয়ে সাধারণ কিছু সমস্যা দেখা দেয়। এগুলো হলো দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ, মনমরা ভাব ও হতাশা, মনোযোগের সমস্যা বা শেখার অসুবিধা, বন্ধুবান্ধবের চাপ, বুলিং, একা হয়ে পড়া, ঘুমের সমস্যা। মুঠোফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গেমিংয়ে আসক্তি তৈরি হয়। মা-বাবার সঙ্গে বারবার তর্ক ও রাগ, হঠাৎ আবেগপ্রবণ আচরণ বা একাকিত্বের মতো সমস্যায় পড়তে হয় তাদের।

আরও পড়ুন

আপনজনেরা কীভাবে কিশোরীদের বুঝবেন

কথার অন্তর্গত অনুভূতিটা বুঝতে হবে। হঠাৎ রেগে যাওয়া, দরজা বন্ধ করে থাকা বা চুপচাপ থাকা—এর মানে তারা উদ্ধত নয়। তারা হয়তো বিপদে বা সমস্যায় আছে। কথোপকথনের দরজা খোলা রাখতে হবে। বড় লেকচার বা উপদেশ নয়; বরং ছোট, স্বাভাবিক, কোমল বন্ধুসুলভ আলাপ এ ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর। তাদের অনুভূতিকে সম্মান দিতে হবে। তাদের সমস্যা আপনার কাছে ছোট মনে হলেও তাদের কাছে সেটা কঠিন বাস্তব। ‘তোমার কষ্টটা বুঝতে পারছি’ বাক্যটি আশ্চর্যভাবে কাজ করে।

কিশোর মনের পরিবর্তনগুলোর প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। হঠাৎ ফলাফল খারাপ হওয়া, রাতে না ঘুমানো, বন্ধু এড়িয়ে চলা, খুব রেগে যাওয়া—এসব সতর্কসংকেত। দোষারোপ নয়, বরং সহযোগিতা করুন। অতিরিক্ত সমালোচনা কিশোরদের দূরে ঠেলে দেয়। ধৈর্য, উষ্ণতা ও সহানুভূতি তাঁদের কাছাকাছি আনে।

আরও পড়ুন

কিশোর-কিশোরীরা যা করবে

সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা নয়, বরং শক্তির নিদর্শন। নিজের ভরসার মানুষকে সমস্যা খুলে বলো। ডায়েরি লিখতে পারো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সময়মতো বিরতি নাও। খেলাধুলা বা দলবদ্ধ হয়, এমন কাজে অংশ নাও। যখন মনে হবে ‘এটা আর সামলাতে পারছি না’, তখন অবশ্যই এ ক্ষেত্রে পেশাদার ব্যক্তির সাহায্য নিতে হবে।

ডা. টুম্পা ইন্দ্রাণী ঘোষ, শিশু কিশোর মনোরোগবিদ

আরও পড়ুন