বৈঠকটির সঞ্চালক অধ্যাপক ডা. ফারুক পাঠান অনুষ্ঠানের শুরুতেই দিবসটির প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বলেন, ‘১৯৯১ সালে আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিক ফেডারেশন (আইডিএফ) ১৪ নভেম্বরকে “বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস” ঘোষণা করে। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির অনুরোধে বাংলাদেশ সরকার ১৪ নভেম্বর “বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস” পালনের জন্য জাতিসংঘে প্রস্তাব করে। ২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর জাতিসংঘে এ প্রস্তাব গৃহীত হয়।’

কেন হচ্ছে ডায়াবেটিস? এর উত্তরে অধ্যাপক ডা. এস এম আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘ডায়াবেটিস একধরনের মেটাবলিক ডিজঅর্ডার। শরীরে ইনসুলিন আছে কিন্তু কাজ করতে পারছে না কিংবা ইনসুলিন একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে—এটাই এ রোগের কারণ। মানুষের ওজন বৃদ্ধির কারণে ডায়াবেটিস হয়ে থাকে। এ ছাড়া বংশগত বিষয়টি তো রয়েছেই। আমরা যখন বাইরের নানা ধরনের খাবার খাই, ফাস্ট ফুড খাই, তখন শরীরে একধরনের পরিবর্তন আসে। ফলে এই রোগের শিকার হই।’

ডায়াবেটিসে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেন ডা. মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ডায়াবেটিস মেলিটাসকে হৃদ্‌রোগের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমেরিকান ন্যাশনাল হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য দেখায় যে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ৬৫ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো হৃদ্‌রোগ বা স্ট্রোকের কারণে মারা যায়। টাইপ–২ ডায়াবেটিস মেলিটাস হৃদ্‌রোগ হওয়ার আশঙ্কা দুই থেকে চার গুণ বাড়িয়ে তোলে।’

ডায়াবেটিস রোগের নানা জটিলতা নিয়ে কথা বলেন ডা. মীর মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিসে প্রতিটি রোগের ঝুঁকি দ্বিগুণ–তিন গুণ হয়ে থাকে। স্ট্রোক, স্নায়ুসমস্যা, পায়ে ঘা এবং তা থেকে পঙ্গুত্ব, অন্ধত্ব, কিডনির সমস্যাসহ শরীরে নানা জটিলতা দেখা দেয় এই রোগের মাধ্যমে।’

ডায়াবেটিসে কেউ আক্রান্ত হলে শর্করা নিয়ন্ত্রণের জন্য মুখে কী কী ধরনের ওষুধ খাওয়া যেতে পারে, এ ব্যাপারে জানান ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ। আর ইনসুলিনের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের পথ দেখান ডা. শাহজাদা সেলিম।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস নারীদের একটি প্রধান সমস্যা। এ নিয়ে কথা বলেন ডা. ফারিয়া আফসানা। গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে সচেতন না হলে মা ও শিশু মৃত্যুঝুঁকিতে পড়েন। শিশু বিকলাঙ্গ হতে পারে। তাই এ সময় গর্ভবতী মায়ের সচেতনতার সঙ্গে চিকিৎসা নিতে হবে।

ডায়াবেটিস নেতিবাচক প্রভাব ফেলে রোগীর চোখে। অসচেতনতায় মানুষ অন্ধও হয়ে যেতে পারে—এমনটাই বলেন ডা. পূরবী রাণী দেবনাথ।

ডায়াবেটিস রোগী সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন কিডনি নিয়ে। এ রোগের শিকার ৯০ শতাংশ রোগী কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যুবরণ করেন। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে পরামর্শ দেন ডা. সারওয়ার ইকবাল।

ডা. রুমানা হাবীব আলোচনা করেন ডায়াবেটিসে ব্রেন ও স্নায়ুর ঝুঁকি নিয়ে। ডা. ফিরোজ আমীন জানান, একমাত্র সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়াম একজন মানুষের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে সহায়ক। তাই পরিমিত স্বাস্থ্য ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। এর সঙ্গে সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন খুব জোরে হাঁটতে হবে।

ডায়াবেটিস রোগীর পায়ের দিকে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন ডা. এস এম জি সাকলায়েন। তিনি বলেন, ‘আমরা সকালে উঠে যেমন মুখের যত্ন নিই, ঠিক তেমনি পায়ের যত্নও নিতে হবে। হৃদ্‌রোগের অসুস্থতায় আমরা অস্ত্রোপচারে যেমন কার্পণ্য করি না, পঙ্গুত্ব বরণ না করার জন্য আমাদের পায়ের দিকেও তেমন মনোযোগ দিতে হবে।’