হঠাৎ কেন বাড়ছে হাম, প্রতিকারে কী করবেন

রাজশাহী মেডিকেল কলেজে হামে আক্রান্ত শিশুর ভিড় দেখা গেছেছবি: শহীদুল ইসলাম

সম্প্রতি দেশে হামের (measles) প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছে হামে আক্রান্ত শিশুরা। সংক্রামক এই রোগ মূলত শ্বাসতন্ত্রকে আক্রমণ করে এবং দ্রুত একজন থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়ে।

হাম হঠাৎ কেন বাড়ছে?

হাম বাড়ার প্রধান কারণ হলো টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি। অনেক শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই থেকে বাদ পড়ে যাওয়ায় তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়নি। এ ছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং অপুষ্টির কারণেও ভাইরাসের বিস্তার দ্রুত ঘটে। টিকা না নেওয়া বা অসম্পূর্ণ ডোজ নেওয়ার ফলে একটি বড় জনগোষ্ঠী ঝুঁকির মুখে থাকে, যা প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ।

আরও পড়ুন

হামের টিকা কেন জরুরি?

হাম কেবল সাধারণ জ্বর বা ফুসকুড়ি নয়; এটি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ (যা থেকে বধিরতা হতে পারে) এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহের (এনসেফালাইটিস) মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে হাম থেকে। সঠিক সময়ে টিকা নিলে এসব প্রাণঘাতী ঝুঁকি থেকে প্রায় শতভাগ সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।

ইপিআই ছাড়া টিকা দেওয়া যায় কি?

সরকারি ইপিআই কর্মসূচির বাইরেও বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে হামের টিকা পাওয়া যায়। সাধারণত বেসরকারি পর্যায়ে এমএমআর (মিজেলস, মাম্পস, রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়, যা হামের পাশাপাশি মাম্পস ও রুবেলা থেকেও সুরক্ষা দেয়।

টিকার ডোজ ও নিয়ম

শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়। প্রথম ডোজ দেওয়া হয় ৯ মাস পূর্ণ হলে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাস বয়সে। যারা শৈশবে টিকা নেয়নি, তারা অন্তত ২৮ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজ নিতে পারে।

বড়দের দেওয়ার সুযোগ ও নিয়ম

হ্যাঁ, বড়দেরও হামের টিকা দেওয়ার সুযোগ আছে। বিশেষ করে যাঁরা প্রজননক্ষম নারী বা যাঁরা শৈশবে টিকা নেননি, তাঁদের জন্য এটি জরুরি। তবে মনে রাখতে হবে, গর্ভাবস্থায় হামের টিকা দেওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। টিকা নেওয়ার অন্তত এক মাস পর গর্ভধারণের পরিকল্পনা করা উচিত।

আরও পড়ুন

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

হামের টিকা অত্যন্ত নিরাপদ। তবে ইনজেকশনের জায়গায় সামান্য ব্যথা, হালকা জ্বর বা শরীরে সামান্য লালচে ভাব হতে পারে, যা দুই-তিন দিনের মধ্যে আপনা–আপনি সেরে যায়। গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অত্যন্ত বিরল।
হাম প্রতিরোধে সচেতনতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। আপনার শিশুকে সময়মতো টিকা দিন এবং নিজে সুরক্ষিত থাকুন।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ