শিশুর কানে সংক্রমণ হলে কী করবেন
কানে সংক্রমণ বা কান পাকা রোগ শিশুদের সাধারণ একটি স্বাস্থ্যসমস্যা। বিশেষ করে ছয় মাস থেকে দুই বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। সময়মতো শনাক্ত করতে পারলে এবং সঠিক ব্যবস্থাপনায় এ সমস্যা সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
কখন সন্দেহ করবেন
শিশুর কানে সংক্রমণ হলে কিছু লক্ষণ বোঝা যায়। বারবার কানে হাত দেওয়া বা কান টানা, বিশেষ করে যেসব ছোট শিশু ব্যথার কথা বলতে পারে না, তাদের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। অস্বাভাবিক খিটখিটে ভাব বা কান্নাকাটি, বিশেষত শুয়ে থাকা অবস্থায় বেড়ে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ। কারণ, শোয়া অবস্থায় কানের ভেতরের চাপ বেড়ে যায়। জ্বর, ঘুমে ব্যাঘাত, খাওয়ায় অনীহা এবং কান থেকে তরল বা পুঁজ নিঃসরণও সাধারণ লক্ষণ।
কেন শিশুদের বেশি হয়
শিশুদের কানের গঠনই এর মূল কারণ। কান ও গলার মাঝে সংযোগকারী নালি (ইউস্টাচিয়ান টিউব) শিশুদের ক্ষেত্রে ছোট, সরু ও প্রায় সমান্তরাল অবস্থানে থাকে। ফলে গলা বা নাকের সংক্রমণ সহজেই কানে ছড়িয়ে পড়ে এবং তরল জমে যাওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। সর্দি-কাশি বা ভাইরাসজনিত সংক্রমণের পর কানের সংক্রমণ হওয়া খুবই সাধারণ। শোয়া অবস্থায় বোতলে দুধ খাওয়ানো, সিগারেটের ধোঁয়ার সংস্পর্শ, ডে-কেয়ারে থাকা এবং পারিবারিক ইতিহাসও ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
কীভাবে ব্যবস্থাপনা করবেন
প্রথমেই ব্যথা কমানোর দিকে নজর দিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বয়স ও ওজন উপযোগী ব্যথানাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। কানে বাইরে থেকে গরম সেঁক দিলে সাময়িক আরাম পাওয়া যায়। শিশুকে পর্যাপ্ত তরল ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া জরুরি, বিশেষত জ্বর থাকলে। খাওয়ানোর সময় শিশুকে সোজা করে বসিয়ে রাখা ভালো; শোয়া অবস্থায় বোতলে দুধ খাওয়ানো এড়িয়ে চলতে হবে। কানে তুলা বা কটন বাড দিয়ে খোঁচানো যাবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো তেল বা ড্রপ ব্যবহার করা উচিত নয়।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
তীব্র জ্বর বা ৪৮-৭২ ঘণ্টার মধ্যে উপসর্গের উন্নতি না হলে, কান থেকে পুঁজ বা রক্তমিশ্রিত তরল বের হলে, শিশু অস্বাভাবিক ঝিমিয়ে পড়লে বা খেতে না চাইলে, কানের চারপাশ ফুলে গেলে বা লালচে হয়ে গেলে, শ্রবণে সমস্যা বা ভারসাম্যহীনতা দেখা দিলে।
তিন মাসের কম বয়সী শিশুর জ্বর হলে দেরি না করে শিশুবিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিলে শিশুদের কানের সংক্রমণ সাধারণত জটিলতা ছাড়াই সেরে যায়। বারবার সংক্রমণ শ্রবণশক্তি ও ভাষা বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।
ডা. মানিক মজুমদার, শিশু ও নবজাতকবিশেষজ্ঞ, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড, ময়মনসিংহ