খাঁটি মধু চিনব কীভাবে

মধুর গুণাগুণ সবটুকু পেতে চাই খাঁটি মধু। কিন্তু চিনব কীভাবে? বাজারে এত জাতের ও স্বাদের মধু পাওয়া যায় যে এর মধ্যে কোনটি খাঁটি আর কোনটি চিনি কিংবা গুড় দিয়ে তৈরি নকল মধু, পার্থক্য করাই দুরূহ। কয়েকটি সহজ কৌশলের কথা জানিয়েছেন শস্য প্রবর্তনার মার্কেটিং ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ। চলুন জেনে নেওয়া যাক—

মধু পানিতে ছেড়ে দিলে তা যদি সরাসরি তলে চলে যায়, তাহলে সেটি খাঁটি মধু। মডেল: অনন্যা
ছবি: নকশা

পানি পদ্ধতি

পানিভর্তি একটি গ্লাসে এক ফোঁটা মধু ছেড়ে দিলে তা যদি সরাসরি ফোঁটা অবস্থাতেই গ্লাসের তলে চলে যায়, তাহলে সেটি খাঁটি মধু। কেনার সময় দোকানে দাঁড়িয়েও সহজ এ পরীক্ষা করে নিতে পারেন। হাতের কাছে গ্লাস না থাকলে পানির বোতলেও পরীক্ষাটি করতে পারবেন।

ব্লটিং কাগজ পদ্ধতি

এ পরীক্ষায় প্রয়োজন হবে একটি ব্লটিং কাগজ। কয়েক ফোঁটা মধু ব্লটিং কাগজে নিন। কাগজ মধু শোষণ না করলে সেটি খাঁটি। মধু ভেজাল হলে ব্লটিং কাগজ সহজেই শুষে নেয়।

কটন বাডে আগুন পদ্ধতি

একটি কটনবাডে মধু মাখিয়ে নিয়ে তাতে আগুন দিন। যদি আগুন ধরে যায়, তাহলে খাঁটি মধু। আগুন না জ্বললে বুঝতে হবে এতে প্রচুর পানি রয়েছে, যা আগুন জ্বলতে দিচ্ছে না এবং এটি সম্পূর্ণ নকল।

ছুঁয়ে দেখা পদ্ধতি

খানিকটা মধু আঙুলে নিন। দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বুঝবেন নকল মধু। খাঁটি মধু বেশ ঘন হয়, সহজে ছড়িয়ে পড়ে না।

রং দেখে চেনার পদ্ধতি

ফুল অনুযায়ী মধুর রং হয় একেক রকম। মার্চ-এপ্রিল মাসে সুন্দরবনজুড়ে ফোটে খলিশা ফুল। সে সময় সংগৃহীত মধুর রং হয় সাদা। বছরের মাঝামাঝি সময় আরও গাঢ় (হলুদ, বাদামি ও লাল) রঙের মধু পাওয়া যায়।

মধুর বিশুদ্ধতা নিয়ে বেশ মজার একটি তথ্য দিলেন বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ ও বিভাগীয় প্রধান শামছুন্নাহার নাহিদ। বলেন, ‘যেকোনো জায়গাতেই চাক তৈরি করতে পারে মৌমাছি। সেই চাকে আশপাশ থেকে নানা নির্যাস এনে মধু তৈরি করে তারা। এখন ভেবে দেখুন তো, ফুল দূরে থাক, গাছপালাহীন শহরের কোনো স্থানের মৌচাকের মধুর গুণাগুণ কি ভালো হবে? আসলে জায়গা ও ঋতুর ওপর নির্ভর করে মধুর গুণাগুণ।’

আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘যাঁরা জীবনে একবার হলেও খাঁটি মধু খেয়েছেন, তাঁরা জানেন খাঁটি মধুর একধরনের ঝাঁঝ রয়েছে। তাই কেনার আগে খেয়েই বুঝতে পারবেন মধু খাঁটি কিনা।’