শিশুরও গ্লুকোমা হতে পারে, কীভাবে বুঝবেন, চিকিৎসা কী

জন্মের পরও শিশুর গ্লুকোমা হতে পারেছবি: পেক্সেলস

গ্লুকোমা হলে চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ বা প্রেশার স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি থাকে। ফলে রেটিনাল নার্ভ বা স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অন্ধত্ব হতে পারে। আমাদের ধারণা, এটি শুধু বড়দের রোগ। আসলে তা নয়। শিশুও গ্লুকোমা নিয়ে জন্ম নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে জন্মের পর চোখের আকার অন্য শিশুদের তুলনায় বড় হয়। চোখজুড়ে থাকে কালো মণি, ভারী ও ভেজা ভেজা ভাব। শিশুর চোখ দিয়ে পানি পড়ে এবং সে আলো সহ্য করতে পারে না। আলো দেখলেই সে প্রতিক্রিয়া দেখায়। জন্মের পরপর এমন লক্ষণ থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

জন্মের পরও শিশুর গ্লুকোমা হতে পারে। এর অন্যতম কারণ হলো স্টেরয়েড ড্রপ। অনেক শিশুর অ্যালার্জি প্রবণতা বা অন্য কোনো কারণে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ চোখে ব্যবহার করা হয়। পাঁচ শতাংশের ক্ষেত্রে স্টেরয়েডের কারণে গ্লুকোমা হতে পারে।

শিশুদের চোখ পরীক্ষা করা এমনিতেই কঠিন। চোখের প্রেশার মাপা আরও কঠিন। এসব কারণে অনেক অভিভাবক চিকিৎসকের কাছে আসতে চান না। বাজার থেকে ওষুধ কিনে নিজেরাই ব্যবহার করেন। ফলে সমস্যা আরও জটিল হয়ে পড়ে।

কীভাবে বুঝবেন

শিশুর চোখ দিয়ে পানি পড়ে, সরাসরি আলোর দিকে তাকাতে পারে না। চোখের মণি ঘোলা হয়ে যায়। শুরুতে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। সমস্যা বাড়তে থাকলে অনেক সময় দেখা যায়, চোখের মণি অনেক বড় দেখাচ্ছে। চোখের প্রেশার বাড়লে যে নার্ভ মস্তিষ্কের সঙ্গে সংযুক্ত, সেটিতে চাপ পড়ে। এতে ক্ষতি হলে স্থায়ীভাবে অন্ধত্বের দিকে চলে যেতে পারে।

চিকিৎসা

গ্লুকোমার নানা রকম চিকিৎসা রয়েছে। ওষুধ প্রয়োগ বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায়। সাধারণত বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই চোখের ড্রপের মাধ্যমে শিশুদের গ্লুকোমা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। আরও কিছু চিকিৎসাপদ্ধতির মধ্যে আছে—লেজার থেরাপি, ফিল্টারিং সার্জারি, ড্রেনেজ টিউবস, মিনিমালি ইনভ্যাসিভ গ্লুকোমা সার্জারি।

তবে রোগীর সমস্যা অনুযায়ী চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেবেন কোন পদ্ধতিটি কার্যকর হবে। চিকিৎসা করতে অহেতুক দেরি করলে দৃষ্টি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। পরে অস্ত্রোপচার করেও লাভ হয় না। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা করলে গ্লুকোমা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

  • অধ্যাপক ডা. ইফতেখার মো. মুনির, চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ (গ্লুকোমা) ও পরিচালক, বাংলাদেশ আই হসপিটাল, মালিবাগ, ঢাকা