জন্মের পর কন্যাশিশুর যে ৯টি সমস্যা দেখলে ঘাবড়াবেন না
একটি ফুটফুটে কন্যাশিশুর মায়াবী উপস্থিতি, তার উচ্ছল হাসি পরিবারকে আনন্দে ভরিয়ে রাখে। তারা যেন মায়া ও প্রশান্তির এক নির্মল ছায়া। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রেগন্যান্সি ও প্যারেন্টিং–বিষয়ক আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘মামজংশন’-এর একটি নিবন্ধে উঠে এসেছে এমন কিছু তথ্য, যা হয়তো অনেক কন্যাশিশুর অভিভাবকদের অজানা।
অবাক করা সেই তথ্যগুলো জেনে নিই চলুন।
১. মেয়ে নবজাতকের মাসিক
নবজাতক কন্যাশিশুরও মাসিক হতে পারে। জন্মের প্রথম সপ্তাহে শিশুর ডায়াপারে রক্তের ফোঁটা দেখে অনেকেই অবাক ও আতঙ্কিত হন। বিষয়টা বিরল হলেও কিন্তু ক্লিনিক্যালি স্বাভাবিক ঘটনা। প্রায় ৫ শতাংশ মেয়ে নবজাতকের ক্ষেত্রে এটা ঘটে। গর্ভে থাকার সময় মেয়েশিশু উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মায়ের ইস্ট্রোজেন হরমোনের সংস্পর্শে আসে। জন্মের পর ইস্ট্রোজেনের মাত্রা দ্রুত কমে যায়, যা মাসিক ঘটায়। এসব ঘটনায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে না। কয়েক দিনের মধ্যেই নিজে থেকে এই ‘ফলস মিন্স’ বা নকল ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায়।
২. নবজাতকের বুকে দুধ আসা
এটিও একটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। কেবল কন্যাশিশুরই নয়, গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে থাকা ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাবে ছেলে ও মেয়ে উভয় নবজাতকেরই এমনটা হতে পারে। ইস্ট্রোজেন স্তনগ্রন্থিকে উদ্দীপ্ত করে। এ কারণে কোনো কোনো নবজাতকের স্তন ফুলে যায়, সেখান থেকে খুবই অল্প পরিমাণে দুধ নিঃসরণ হয়। তবে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে নিজে থেকেই এটি ঠিক হয়ে যায়। এ সময় কোনোভাবেই চেপে দুধ বের করার চেষ্টা করা উচিত নয়। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
৩. কন্যাশিশুরা ওজনে হালকা হয়
সাধারণত কন্যাশিশুরা ছেলেশিশুদের চেয়ে কম ওজন নিয়ে জন্মায়। যেখানে জন্মের সময় ছেলেশিশুর গড় ওজন ৭ পাউন্ড ১০ আউন্স হয়, সেখানে মেয়েশিশুর ওজন হয় ৭ পাউন্ড ২ আউন্স। যদিও ওজনের হিসাবে খুব বেশি পার্থক্য এটি নয়, তবে গড় হিসাবে ধরলে কিছুটা তো বটেই।
৪. মেয়েশিশু দেরিতে ভূমিষ্ঠ হয়
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মেয়েশিশুরা ছেলেশিশুদের তুলনায় কিছুটা বেশি সময় মাতৃগর্ভে থাকে। অনেক সময়ই দেখা যায়, ছেলেশিশুদের চেয়ে নির্ধারিত সময়ের দু–এক দিন পর সাধারণত মেয়েশিশুর জন্ম হয়। যদিও শিশুটি কত দিন মাতৃগর্ভে থাকবে, তা অনেকটাই মায়ের জিন বা বংশগতি এবং শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। তারপরও যদি মা গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ না জেনে থাকেন এবং সবকিছু ঠিক থাকার পরও বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হতে দেরি হয়, তাহলে সন্তানটি মেয়ে হবে বলে আশা করতে পারেন।
৫. কন্যাশিশুর মস্তিষ্ক প্রতিসম
মানুষের মস্তিষ্ক দুটি সমান অংশে বিভক্ত। আপাতদৃষ্টিতে একই রকম মনে হলেও মস্তিষ্কের ডান ও বাঁ অংশের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকে। কাজও কিন্তু আলাদা। জন্মের পরপরই মস্তিষ্কের দুই গোলার্ধের মধ্যে গঠনগত ও কার্যগত অসমতা তৈরি হওয়া শুরু হয়। দুই বছরের মধ্যে এই বিকাশ ত্বরান্বিত হয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কে কার্যকারিতা এবং গঠনের দিক থেকে দুই গোলার্ধের এই অসমতা বিভিন্ন কাজের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। জন্মের সময় মেয়েশিশুদের মস্তিষ্ক তুলনামূলক বেশি প্রতিসম (সিমেট্রিক্যাল) থাকে। আর ছেলেশিশুদের মস্তিষ্ক কিছুটা অপ্রতিসম হয়। আবার জন্মের সময় ছেলেশিশুদের তুলনায় মেয়েশিশুদের মস্তিষ্কে ধূসর পদার্থও বেশি থাকে। এই গ্রে ম্যাটার মানুষের স্মৃতিশক্তি, চিন্তা, আবেগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ইন্দ্রিয়জনিত তথ্য প্রক্রিয়াকরণে বড় ভূমিকা পালন করে।
৬. মেয়েশিশুও মাথায় ক্র্যাডল ক্যাপ নিয়ে জন্মাতে পারে
শিশুর মাথার তালুতে থাকা তৈলাক্ত বা খসখসে আবরণ হলো ক্র্যাডল ক্যাপ। দেখতে অনেকটা খুশকির মতো। সাধারণত এটিকে ছেলেশিশুদের জন্মগত বৈশিষ্ট্য বলে মনে করা হয়। তবে অনেক মেয়েশিশুও এই অবস্থা নিয়ে জন্ম নিতে পারে। ক্র্যাডল ক্যাপ সাধারণত কয়েক মাস স্থায়ী হয়। তবে কিছু শিশুর ক্ষেত্রে এটি দুই বা তিন বছর বয়স পর্যন্ত থাকতে পারে। ক্র্যাডল ক্যাপের সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। কোনো কোনো চিকিৎসকের মতে, সম্ভবত নবজাতক শিশুদের ত্বকের তৈলগ্রন্থি অতিরিক্ত সক্রিয় থাকার কারণে এমনটা হয়। কারণ, মায়ের হরমোন তখনো শিশুর রক্তে থাকে।
৭. চোখ বাঁকা বা ট্যারা করা
আপনার আদরের ছোট্ট সোনামণিকে কখনো চোখ ট্যারা করতে দেখলে ঘাবড়ে যাবেন না। আসলে ছোট্ট চোখ দুটো কীভাবে কাজ করে, তা বোঝার চেষ্টা করছে আপনার মেয়ে। শিশুদের তিন থেকে সাত বছর বয়সের মধ্যে দৃষ্টিশক্তি ও দেখার প্রক্রিয়া গড়ে ওঠে। দুই চোখের মণি এক জায়গায় নিয়ে আসার চেষ্টা মূলত তাদের পেশি নিয়ন্ত্রণের একটি স্বাভাবিক শারীরিক ভঙ্গি। শিশুরা মজার ছলে বা কৌতূহলবশত চোখ ট্যারা করে থাকে। কারণ, তারা তাদের চোখের পেশিগুলোর নড়াচড়া নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। শিশুরা নতুন কোনো শারীরিক ভঙ্গি শিখলে বারবার তা করতে পছন্দ করে।
৮. মেয়েশিশুরও বড় স্তন হতে পারে
এখানেও হরমোনের ভূমিকা রয়েছে। বাচ্চা মায়ের পেটে থাকা অবস্থায় মায়ের ইস্ট্রোজেনসহ কিছু হরমোন বেড়ে যায়। শিশুদের ছোট্ট শরীরে অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন হরমোনের উপস্থিতির কারণে তারা উঁচু স্তনগ্রন্থি নিয়ে জন্মায়। জন্মের পর অনেক বাচ্চার শরীরে সেই হরমোনের প্রভাব থেকে যায়। এ কারণে স্তন বড় হতে পারে। তবে এটি তার বৃদ্ধিতে কোনো প্রভাব ফেলে না।
৯. মাথার চুল ঝরে যাওয়া
ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর জন্মগতভাবে শরীরের রোমের মতো শিশুর মাথার চুলও ঝরে যেতে পারে। শিশুর মাথার চুল ঝরে যাওয়া মূলত একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। সাধারণত জন্মের পর হরমোনের পরিবর্তন কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুষ্টির অভাবের কারণে হয়। গর্ভাবস্থায় মায়ের হরমোনের প্রভাবে শিশুর চুল বাড়ে। জন্মের পর হরমোনের মাত্রা কমে গেলে প্রথম কয়েক মাসে এই চুল ঝরে যায়। তবে ভয়ের কিছু নেই। হরমোনের কারণে চুল পড়লে কিছুদিনের মধ্যেই আবার নতুন চুল গজায়। নতুন গজানো চুল আগের চুলের চেয়ে রং ও গঠনে সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে।
সূত্র: মামজংশন