হৃদ্রোগ থাকলে নিরাপদে রোজা রাখবেন যেভাবে
যাঁদের হৃদ্রোগ বা রক্তসঞ্চালন–সংক্রান্ত সমস্যা আছে, তাঁদের অনেকের মনে প্রশ্ন, রোজা রেখে কীভাবে ওষুধ খাব এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম সামলাব? চিকিৎসকদের মতে, হৃদ্রোগীদের নিরাপদে রোজা রাখতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।
হৃদ্যন্ত্র বা রক্তসঞ্চালন–সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছেন, এমন অনেক ব্যক্তিই সুবেহ সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিরাপদে রোজা রাখতে পারেন। তবে যদি রোজা রাখার কারণে আপনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে ইসলামি বিধান অনুযায়ী আপনার জন্য রোজা না রাখার সুযোগ আছে।
বিশেষ করে—
সাম্প্রতিক সময়ে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হলে
হার্টে স্টেন্ট বসানো বা বাইপাস সার্জারি হয়ে থাকলে
গুরুতর হার্ট ফেইলিউর বা জটিল হৃদ্রোগ থাকলে
এ পরিস্থিতিতে রোজা রাখার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা জরুরি। চিকিৎসকেরা এ–ও বলেন, চাইলে রমজান মাসের আগে কয়েক দিন পরীক্ষামূলকভাবে অল্প সময় রোজা রেখে দেখতে পারেন, শরীর কেমন সাড়া দেয়।
রোজায় কী খাবেন, কী খাবেন না?
রোজায় সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি হলো সঠিক খাদ্যাভ্যাস।
সাহ্রিতে যা খাবেন
সাহ্রিতে এমন খাবার খান, যা পেট ভরা রাখে এবং ধীরে শক্তি জোগায়। যেমন—
লাল চালের ভাত
আটা বা লাল আটার রুটি
শাকসবজি
ফল
ডাল, ডিম, মাছ বা কম চর্বিযুক্ত প্রোটিন
ইফতারে যা খাবেন
খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করা স্বাস্থ্যসম্মত। খেজুর দ্রুত শক্তি দেয়, ফাইবারও আছে। মূল খাবারে রাখুন—
শাকসবজি
ফল
লো-ফ্যাট প্রোটিন (মাছ, মুরগি, ডাল)
ভাজাপোড়া কমিয়ে সেদ্ধ, গ্রিল বা বেক করা খাবার
আরও যা মেনে চলবেন
অতিরিক্ত খাওয়া এড়িয়ে চলুন
ইফতারে অতিভোজন হৃদ্যন্ত্রের ওপর চাপ ফেলে
ধীরে খান, পরিমিত পরিমাণে খান
অতিরিক্ত তেল-ঝাল, মিষ্টি ও ভাজাপোড়া সীমিত রাখুন
পানিশূন্যতা এড়াবেন যেভাবে
ইফতার ও সাহ্রির মাঝখানে পর্যাপ্ত পানি খান।
চা, কফি বা চিনিযুক্ত পানীয় নয়, সাধারণ পানি সবচেয়ে ভালো।
গরমে কাজ করলে বা বেশি ঘাম হলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ে। তখন পানির পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে।
লবণাক্ত খাবার কম খান। এসব পিপাসা বাড়ায় এবং রক্তচাপের জন্যও ক্ষতিকর।
ওষুধের সময় পরিবর্তন করবেন?
হৃদ্রোগীদের নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। রোজার কারণে ওষুধের সময় বদলাতে হলে নিজে সিদ্ধান্ত নেবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
অনেক সময় দিনে একবার খাওয়ার ওষুধ ইফতারের পর নেওয়া যায়। কিন্তু হার্ট ফেইলিউর, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা হৃদ্যন্ত্রের অনিয়মিত স্পন্দনের ওষুধের ক্ষেত্রে সময় এদিক-সেদিক করলে সমস্যা বাড়তে পারে।
যেসব লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন
পা ফুলে গেলে
শ্বাসকষ্ট হলে
অতিরিক্ত দুর্বল লাগলে
মাথা ঘুরলে বা অজ্ঞান ভাব হলে
বুকে চাপ বা ব্যথা অনুভব করলে
বুক ধড়ফড় করলে
রোজায় ব্যায়াম করা যাবে?
অবশ্যই, তবে হালকা ব্যায়াম ভালো। হাঁটা ও হালকা স্ট্রেচিং হৃদ্যন্ত্রের জন্য উপকারী। ইফতারের পর হালকা হাঁটা সবচেয়ে নিরাপদ। যাঁদের সম্প্রতি হার্ট অ্যাটাক বা বড় অপারেশন হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে রোজা ও ব্যায়াম—দুটি বিষয়েই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
শেষ কথা
হৃদ্রোগ থাকলেও সঠিক পরিকল্পনা, সচেতনতা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে রোজা রাখা সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিজের শরীরের সংকেত বোঝা এবং প্রয়োজন হলে রোজা ভেঙে চিকিৎসা নেওয়া।