নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা
নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ একটি প্রাণীবাহিত (জুনোটিক) রোগ। সংক্রমিত প্রাণী (যেমন বাদুড়), অথবা সংক্রমিত প্রাণীর লালা, প্রস্রাব ও মলমূত্র দ্বারা দূষিত খাবারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে এটি সংক্রমিত হয়। সংক্রমিত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে সরাসরি ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতেও এ ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে।
বাংলাদেশে ২০০১ সাল থেকে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি ৩৫ জেলায় ৩৪৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে ২৫০ জন মারা গেছেন। প্রায় অর্ধেক রোগী কাঁচা খেজুরের রস কিংবা ‘তাড়ি’ পান করে এবং এক-তৃতীয়াংশ রোগী নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের ইতিহাস ছিল।
মানুষের দেহে উপসর্গবিহীন সংক্রমণ থেকে শুরু করে জ্বর, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ, প্রলাপ বকা, খিঁচুনি, অজ্ঞান হওয়া, এনকেফেলাইটিস (মস্তিষ্ক ফুলে যাওয়া) হতে পারে। বেঁচে যাওয়া রোগীদের অনেকের দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক অক্ষমতা ও জটিলতা পাওয়া গেছে।
এই রোগ প্রতিরোধে এখন পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য কোনো অনুমোদনকৃত ভ্যাকসিন নেই কিংবা চিকিৎসায় কোনো কার্যকর ওষুধ নেই। কেবল প্রাথমিক সহায়ক চিকিৎসা জীবন বাঁচাতে পারে।
করণীয়
বাদুড় যাতে খেজুরের রস ও অন্যান্য তাজা খাদ্যের সংস্পর্শে আসতে না পারে, সেদিকে কার্যকর নজর দেওয়া। খেজুরের কাঁচা রস না খাওয়া। ফল খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নেওয়া। বাদুড়ের কামড়ের লক্ষণযুক্ত ফল ফেলে দেওয়া উচিত। যেসব এলাকায় বাদুড় বাসা বাঁধে, সেসব এলাকা এড়িয়ে চলা।
● নিপাহ ভাইরাস সংক্রমিত ব্যক্তির সঙ্গে অরক্ষিত শারীরিক সংস্পর্শ এড়ানো উচিত। কারও মধ্যে নিপাহ ভাইরাস আক্রান্তের উপসর্গ দেখা গেলে তাঁদের সতর্কতার সঙ্গে হাসপাতালে পাঠাতে হবে।
● সন্দেহভাজন বা নিশ্চিত সংক্রমণে আক্রান্ত রোগীর যত্ন নেওয়া বা তাঁদের নমুনা স্পর্শ করার কাজে নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের সংক্রমণ প্রতিরোধে সতর্কতা অনুসরণ করতে হবে।
● বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সন্দেহভাজন বা নিশ্চিত রোগীদের সেবায় ভালো ফিটিং মেডিকেল মাস্ক, চোখের সুরক্ষা, তরল-প্রতিরোধী গাউন এবং গ্লাভস ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।
●সন্দেহভাজন বা নিশ্চিত নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে একটি একক ঘরে রাখা। রোগীকে বায়ুবাহিত সংক্রমণ-বিচ্ছিন্ন কক্ষে রাখা এবং মেডিকেল মাস্কের পরিবর্তে ফিট-পরীক্ষিত ফিল্টারিং ফেসপিস রেসপিরেটর ব্যবহার করানো।
অধ্যাপক ডা. মো. আবুল ফয়েজ, সাবেক মহাপরিচালক স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সভাপতি, ডেভ কেয়ার ফাউন্ডেশন