শিশুদের হাম ও জলবসন্ত হলে যেসব খাবার দেবেন 

জ্বর ও সংক্রমণের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারেছবি: উইকিমিডিয়া কমনস

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। বাড়ছে জলবসন্তও। এই রোগ দুটিও ছোট–বড় সবারই হতে পারে। তবে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। দুটি রোগই ভাইরাসজনিত ও ছোঁয়াচে। এই ভাইরাস দুটি শিশুদের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সাময়িকভাবে প্রায় অকেজো করে। এ কারণে শিশু অন্যান্য জীবাণুতেও আক্রান্ত হতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এক–দুই সপ্তাহে সুস্থ হয়। তবে দ্রুত সুস্থতা নিশ্চিত ও জটিলতা কমাতে শিশুর যথাযথ পুষ্টি খুবই জরুরি। 

জ্বরের সময় পুষ্টি ব্যবস্থাপনা

জ্বর ও সংক্রমণের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই ঘন ঘন বিশুদ্ধ পানির পাশাপাশি তরল খাবার, যেমন ডাবের পানি, বাসায় তৈরি ফলের রস, ভেজিটেবল স্যুপ খাওয়াতে হবে। শরীরে পানি ধরে রাখার জন্য কিছু ফাইবার–সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে। যেসব শিশু মায়ের বুকের দুধ পান করে, তাদের বেশি বেশি করে মায়ের বুকের দুধ পান করাতে হবে।

হাম ও জলবসন্ত দুটি রোগই ভাইরাসজনিত ও ছোঁয়াচে

ভাইরাসজনিত যেকোনো রোগের প্রকোপ কমাতে ভিটামিন সি দুর্দান্ত কার্যকর। তাই শিশুকে ভিটামিন সি হিসেবে কমলা, মাল্টা, পেয়ারা ও বেরিজাতীয় ফল অথবা ফলের রস খাওয়াতে হবে। ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি দ্রুত মুখের রুচি ফিরিয়ে আনতেও অত্যন্ত কার্যকরী।

এই ধরনের সংক্রমণে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় হচ্ছে ভিটামিন এ। হামে আক্রান্ত শিশুদের চোখে শুষ্কতা, ঘোলাটে ভাব ও কর্নিয়ার জটিলতা হয়, রাতকানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এসব জটিলতা রোধে শিশুকে ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। গাজর, মিষ্টিকুমড়া, পাকা পেঁপে, লালশাক, মিষ্টি আলু, ডিমের কুসুম, কলিজা ইত্যাদিতে ভিটামিন এ রয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট খাওয়াতে হবে।

হাম হলে পরিপাকতন্ত্রের ক্ষমতাও কমে যায়। কারও ডায়রিয়া হতে পারে। তাই এ সময় নরম পাতলা সবজি খিচুড়ি, সুজি, জাউভাত, পাতলা ডাল, স্যুপ, কম মসলায় সেদ্ধ করা সবজি খাওয়াতে হবে। এ ধরনের খাবার সহজপাচ্য। টক দই খাওয়াতে হবে। এতে হজমশক্তি ভালো হয়।

জিংক রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার একটি অন্যতম নিয়ামক। উদ্ভিজ্জ জিংকের শোষণের হার কিছুটা কম, তাই প্রাণিজ উৎস থেকে জিংক নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। ঝিনুক, গরু, খাসির মাংস, মুরগির মাংস, সামুদ্রিক মাছ, ডিম, পনির ও দইয়ের মতো দুগ্ধজাত পণ্যগুলো জিংকের খুব ভালো উৎস।

জ্বর–পরবর্তী সময়ে পুষ্টি

হাম ও জলবসন্ত সেরে যাওয়ার পরেও দুই সপ্তাহ শরীর দুর্বল থাকে। তাই জ্বর–পরবর্তী সময়েও খাবার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। জ্বরের পরে শরীরে পটাশিয়াম কমতে পারে। তাই পটাশিয়াম–সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেতে হবে। কলা, ডাবের পানি, খেজুর, অ্যাভোকাডো, ডালিম, মিষ্টি আলু, পুঁইশাক ইত্যাদি পটাশিয়ামের খুব ভালো উৎস।

খাবারে অনীহার কারণে শিশুর পেশি ক্ষয় ও ওজন হ্রাস পেতে পারে। তাই খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন অপেক্ষা প্রাণিজ প্রোটিন উত্তম। তাই খাবারের তালিকায় মাছ, মাংস, ডিম, দুধসহ উদ্ভিজ্জ প্রোটিন হিসেবে ডাল ও বিচিজাতীয় খাবার রাখতে হবে। প্রয়োজনে বয়স ও ওজন অনুযায়ী প্রতিদিন এক থেকে তিনটি ডিমের সাদা অংশ খাওয়াতে হবে।

মো. ইকবাল হোসেন: জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল

আরও পড়ুন