গরমে ঘামাচি থেকে রেহাই পেতে যা করতে হবে
বৈশাখের শুরু থেকেই গরম বেড়েছে। বাইরে বের হলেই প্রচণ্ড গরম। রোদে, ভ্যাপসা আবহাওয়ায় প্রাণান্তকর অবস্থা হয়ে যায় অনেকের। এ সময় ছোট–বড় সবার ত্বকে ঘামাচি বা হিট র্যাশ ওঠে। এটি যন্ত্রণাকর ও বিব্রতকর সমস্যা।
ঘামাচি কেন হয়
গরম থেকে রক্ষায় আমাদের ত্বক ঘাম উৎপন্ন করে। ত্বকের লোমকূপ বা ঘর্মগ্রন্থির মুখ যদি ব্লক হয়ে যায়, তখন সেখানে এই ঘাম জমা হয়ে ছোট ছোট ফোসকার মতো লাল দানা তৈরি হয়। একেই বলে মিলিয়ারিয়া বা ঘামাচি। সাধারণত ত্বকের ভাঁজগুলোতে, যেমন বগল বা কুঁচকিতে বেশি হলেও ছোটদের সারা গায়ে, এমনকি মাথার ত্বকেও ঘামাচি হতে পারে। এগুলো বেশ চুলকায়, কখনো জ্বালা করে।
ঘামাচি কয়েক রকমের হতে পারে। আমরা সাধারণত যে লালচে দানা দেখি, যা প্রচণ্ড চুলকায়, তার নাম মিলিয়ারিয়া রুবরা। আবার পরিষ্কার পানিযুক্ত ফোসকার মতো একধরনের ঘামাচি হতে পারে, যার নাম মিলিয়ারিয়া ক্রিস্টালিনা।
সাধারণত ঘামাচি দেখা দিলে কয়েক দিনের মধ্যে নিজে নিজেই সেরে যায়। ত্বক ঠান্ডা রাখতে পারলে বা ঘাম কমাতে পারলে দ্রুত কমে যায়।
করণীয় কী
গরম আবহাওয়া থেকে ফিরে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে গোসল করবেন। এতে শরীরের তাপমাত্রা কমবে। যদি ফুসকুড়ি দেখা দিতে থাকে, তবে ঠান্ডা বরফ প্যাঁচানো কাপড় বা আইস প্যাক দিয়ে সেঁক দিতে পারেন।
ত্বক শুষ্ক রাখতে চেষ্টা করবেন। ঘামে ভেজা জামাকাপড় দ্রুত পালটে নেবেন এবং ফ্যানের বা এসির বাতাসে শরীর শুকিয়ে নেবেন।
গরমকালে ভারী লোশন অথবা তেলজাতীয় পদার্থ ত্বকে লাগাবেন না। এতে লোমকূপ আরও বন্ধ হয়ে যাবে।
ঘামাচি বেশি চুলকালে ক্যালামিন লোশন লাগাতে পারেন।
ঢিলেঢালা সুতি হালকা রঙের জামা কাপড় পরবেন, যাতে বাতাস চলাচল করে।
নখ দিয়ে আঁচড়াবেন না। এতে ইনফেকশন, অর্থাৎ সংক্রমণ হতে পারে।
পানিশূন্যতা এড়াতে প্রচুর পানি পান করবেন।
অধ্যাপক ডা. মো. আসিফুজ্জামান, বিভাগীয় প্রধান, চর্মরোগ বিভাগ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ, ঢাকা