• গর্ভধারণের আগে যদি মা আয়রনের ঘটতিতে ভোগেন, তবে তিনি গর্ভাবস্থায় আয়রনের ঘটতিজনিত রক্তাল্পতায় ভুগতে পারেন। তাঁর সন্তানও আয়রনের ঘটতি নিয়ে জন্মাতে পারে। আয়রনসমৃদ্ধ খাবার হলো মাছ, মাংস, ডিম, কলিজা, কচুশাক, পুঁইশাক, ডাঁটাশাক, ফুলকপির পাতা, ছোলাশাক, ধনেপাতা, তরমুজ, কালোজাম, খেজুর, পাকা তেঁতুল, আমড়া।

  • আবার মা যদি গর্ভধারণের আগে ক্যালসিয়ামের ঘটতিতে ভোগেন, তবে তিনি প্রসব–পরবর্তী ক্যালসিয়ামের ঘাটতিজনিত নানা অসুখে আক্রান্ত হতে পারেন। ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার যেমন দুধ, দই, পনির, কাঁচা বাদাম, সয়াবিন, আখরোট, সামুদ্রিক মাছ, কাঁটাযুক্ত ছোট মাছ, কচুশাক, শজনেপাতা, পুদিনাপাতা, কুমড়ার বীজ, সূর্যমুখীর বীজ, চিংড়ির শুঁটকি, ডুমুর ইতাদি খেতে হবে এবং সেই সঙ্গে কিছু সময় হালকা রোদে (ভিটামিন ডি পেতে) নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করতে হবে।

  • গর্ভধারণের প্রস্তুতির সময় থেকে মাকে দৈনিক ০.৪ মিলিগ্রাম ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ করতে হবে শিশুর নিউরাল টিউব ডিফেক্ট ও বিভিন্ন জন্মত্রুটি এড়াতে। ফলিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার হলো ব্রকলি, বাঁধাকপি, বিভিন্ন শাক, মটরশুঁটি, শিম, কমলা, বাতাবিলেবু, মাল্টা, কলা, তরমুজ, টমেটো, মাংস, কলিজা, ডিম ইত্যাদি।

  • যেসব মা গর্ভধারণের আগে জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি খেতেন, তাঁরা অবশ্যই ভিটামিন বি৬ ও ভিটামিন বি১২–সমৃদ্ধ খাবার বেশি খাবেন। ভিটামিন বি-৬ সমৃদ্ধ খাবার হলো চিড়া, ডাল, মটরশুঁটি, কলা, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, গরু ও খাসির মাংস, কলিজা, ডিম, চর্বিযুক্ত মাছ, মিষ্টি আলু, পালংশাক, গাজর ইত্যাদি। আর ভিটামিন বি-১২ সমৃদ্ধ খাবার হলো মাংস, কলিজা, ডিম, দুধ, দই, ডিম, পনির, মাশরুম, চিংড়ি ইত্যাদি।

  • গর্ভধারণের আগে মা যেন দৈনিক ৫০০০ আইইউএর বেশি ভিটামিন এ (রেটিনল বা রেটিনয়িক অ্যাসিড আকারে) না খান।

  • গর্ভধারণে ইচ্ছুক মাকে ক্যাফেইন গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। এ সময় দৈনিক দুই কাপের বেশি কফি বা চার কাপের বেশি চা পান করা সমীচীন নয়।

  • ধূমপান ও অ্যালকোহল অবশ্যই বর্জনীয়।

মো. নাহিদ নেওয়াজ, পুষ্টিবিদ, ঝিনাইদহ ডায়াবেটিক হাসপাতাল, ঝিনাইদহ

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন