মেহেদিতে কি ত্বকের ক্ষতি হয়
উৎসব, বিয়েসহ নানা উপলক্ষে বেশির ভাগ মেয়ের পছন্দ হাত মেহেদিতে রাঙানো। একসময় মেহেদিগাছের পাতা বেটে হাতে লাগানোর প্রচলন ছিল। এখন বাজারে টিউব বা প্যাকেটে যে মেহেদি পাওয়া যায়, তাতে কিছু ক্ষতিকর উপাদান থাকে। সবচেয়ে ক্ষতিকর উপাদানটির নাম পিপিডি বা প্যারা ফিনাইলিনডাই–অ্যামাইন। বাজারে প্রচলিত ‘ব্ল্যাক মেহেদি’ এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণ। কারণ, এতে পিপিডি বেশি থাকে।
যেসব সমস্যা হতে পারে
পিপিডিযুক্ত মেহেদি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা থেকে দুই দিনের মধ্যে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে তীব্র চুলকানি ও জ্বালাপোড়া করা। এ ছাড়া লালচে ফোলা বা র্যাশ, ফোসকা বা পানিভর্তি দানা ও ত্বকের কালচে দাগ বা দাগ স্থায়ী হয়ে যেতে পারে।
করণীয়
মেহেদি দেওয়ার পর যদি চুলকানি, জ্বালা, লালচে ফুসকুড়ি বা ফোসকা দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা নিলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং স্থায়ী দাগ হওয়ার ঝুঁকি কমে।
পরিষ্কার পানি ও মৃদু সাবান দিয়ে আক্রান্ত স্থান ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।
ঠান্ডা পানিতে ভেজানো কাপড় বা ঠান্ডা কমপ্রেস দিলে জ্বালা ও ফোলাভাব কিছুটা কমে।
খোঁচাখুঁচি বা চুলকানো এড়িয়ে চলুন। এতে সংক্রমণ ও দাগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
প্রয়োজনে অ্যান্টিহিস্টামিন বা অ্যান্টিঅ্যালার্জিক ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শে নেওয়া যেতে পারে।
স্টেরয়েড ক্রিম বা মলম অনেক ক্ষেত্রে প্রদাহ কমাতে ব্যবহৃত হয়। তবে এটি চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা উচিত।
যদি ফোসকা, ফোলা বা তীব্র ব্যথা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত একজন চর্মরোগ–বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া জরুরি।
পরামর্শ ও সতর্কতা
খুব দ্রুত কালো রং দেয়, এমন ব্ল্যাক মেহেদি ব্যবহার করবেন না।
সম্ভব হলে প্রাকৃতিক মেহেদি ব্যবহার করুন।
প্রথমবার ব্যবহার করলে আগে হাতে ছোট অংশে প্যাচ টেস্ট করে নিন।
শিশু ও সংবেদনশীল ত্বকে মেহেদি দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।
ডা. সিনথিয়া আলম, কনসালট্যান্ট, ডার্মাটোলজি বিভাগ, ইউনাইটেড হাসপাতাল এবং মেডিক্স, ইউনাইটেড হেলথ কেয়ার, ঢাকা