অতিরিক্ত মুঠোফোন বা কম্পিউটারের ব্যবহার হাতের যে ক্ষতি করছে
একনাগাড়ে স্মার্টফোন ধরে রাখা কিংবা কম্পিউটারে কি–বোর্ড ও মাউস ব্যবহারের ফলে আমাদের হাতের সূক্ষ্ম নার্ভ বা স্নায়ুর ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়। যা অনেক সময় দীর্ঘ মেয়াদে হাতের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
বর্তমান যুগে মুঠোফোন বা কম্পিউটার ছাড়া একটি দিনও কল্পনা করা কঠিন। কিন্তু প্রযুক্তির এ আশীর্বাদ অভিশাপ হয়ে উঠতে পারে যদি আমরা এর অতি ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি। দীর্ঘক্ষণ একনাগাড়ে স্মার্টফোন ধরে রাখা কিংবা কম্পিউটারে কি–বোর্ড ও মাউস ব্যবহারের ফলে আমাদের হাতের সূক্ষ্ম নার্ভ বা স্নায়ুর ওপর মারাত্মক চাপের সৃষ্টি হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘রিপিটিটিভ স্ট্রেন ইনজুরি’, যা দীর্ঘ মেয়াদে হাতের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
কার্পাল টানেল সিনড্রোম
কম্পিউটারে কাজ করার সময় সবচেয়ে বেশি যে সমস্যা দেখা দেয়, তা হলো ‘কার্পাল টানেল সিনড্রোম’। আমাদের কবজির ভেতরের একটি সরু পথ দিয়ে ‘মিডিয়ান নার্ভ’ চলে গেছে। দীর্ঘক্ষণ কি–বোর্ড বা মাউসে হাত রেখে ভুল ভঙ্গিতে কাজ করলে এ স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে। ফলে হাতের তালু ও আঙুলে (বিশেষ করে বৃদ্ধাঙ্গুলি, তর্জনী ও মধ্যমা) ঝিঁঝি ধরা, অবশ ভাব বা সুচ ফোটার মতো অনুভূতি হতে পারে। অনেক সময় রাতে হাতের ব্যথায় ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়।
সেলফোন এলবো বা কিউবিটাল টানেল সিনড্রোম
অনেকেই দীর্ঘক্ষণ কনুই ভাঁজ করে মুঠোফোন কানে ধরে কথা বলেন কিংবা সোফায় শুয়ে ফোন স্ক্রল করেন। এতে কনুইয়ের ভেতর দিয়ে যাওয়া ‘আলনার নার্ভ’ সংকুচিত হয়ে পড়ে। একে বলা হয় ‘কিউবিটাল টানেল সিনড্রোম’ বা সাধারণ ভাষায় ‘সেলফোন এলবো’। এর ফলে কনিষ্ঠা ও অনামিকায় অবশ ভাব বা শক্তি কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘ মেয়াদে এটি আঙুলের স্বাভাবিক নড়াচড়া ব্যাহত করতে পারে।
টেক্সট ক্ল ও বুড়ো আঙুলের ব্যথা
একনাগাড়ে স্মার্টফোনে টাইপ করা বা গেমিং করার ফলে হাতের পেশিগুলোয় খিঁচুনি বা ব্যথা হতে পারে, যাকে বলা হয় ‘টেক্সট ক্ল’। এ ছাড়া বুড়ো আঙুলের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে এর টেন্ডন বা রগ ফুলে গিয়ে ‘ডি কুয়েরভেইন টেনোসাইনোভাইটিস’ নামক যন্ত্রণাদায়ক সমস্যার সৃষ্টি হয়।
প্রতিরোধের উপায়
১. মাঝে মাঝে বিরতি: প্রতি ২০-৩০ মিনিট কাজ করার পর হাত ও আঙুলগুলোকে একটু স্ট্রেচিং করে নিন।
২. সঠিক ভঙ্গি: কি–বোর্ড ব্যবহারের সময় কবজি যেন সোজা থাকে এবং মাউস ব্যবহারের সময় হাত যেন ঝুলে না থাকে।
৩. ডিভাইসের বিকল্প ব্যবহার: লম্বা সময় কথা বলার জন্য তারযুক্ত হেডফোন বা লাউডস্পিকার ব্যবহার করুন। ফোনের বদলে মাঝেমধ্যে ভয়েস মেসেজ পাঠাতে পারেন।
৪. আঙুলের ব্যায়াম: হাতের মুঠি শক্ত করে ধরা এবং আবার ছেড়ে দেওয়ার ব্যায়ামটি দিনে কয়েকবার করতে পারেন।
হাতের স্নায়ুর ক্ষতি শুরুতে মৃদু মনে হলেও অবহেলা করলে এটি স্থায়ী পক্ষাঘাত বা অস্ত্রোপচারের দিকে মোড় নিতে পারে। তাই প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলেই সচেতন হওয়া এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সোর্স: ওয়েব এমডি