পক্স বা হামের টিকা দেওয়ার পরও এই রোগগুলো হতে পারে কেন

জন্মের পর ৯ মাস ও ১৫ মাসে শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়ছবি: পেক্সেলস

হাম ও চিকেন পক্স—দুটিই ভাইরাসের আক্রমণে হয়ে থাকে। শিশুদের জ্বরের সঙ্গে যেসব কারণে র‍্যাশ হয়, তার মধ্যে এই দুটি অন্যতম। যদিও তাদের র‍্যাশের ভিন্নতা রয়েছে।
হামের র‍্যাশ লালচে দানার মতো। সাধারণত জ্বরের তিন থেকে পাঁচ দিনের মাথায় হয়। প্রচণ্ড জ্বরের সঙ্গে শিশুদের মাথাব্যথা, কাশি, চোখ দিয়ে পানি ঝরা, শরীরে ব্যথা ও গলাব্যথা থাকতে পারে। শিশুদের হাম হলে এমনকি মৃত্যুর আশঙ্কাও থাকে। পরবর্তী সময় হামের ভাইরাস থেকে সাব–অ্যাকিউট স্ক্লেরোজিং প্যানএনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের জটিল ক্ষয়) নামের রোগও হতে পারে।

জন্মের পর ৯ মাস ও ১৫ মাসে শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়। এর নির্দিষ্ট ডোজ রয়েছে। নিয়ম মেনে হামের টিকা নিলে পরে সাধারণত হামের আশঙ্কা আর থাকে না। কারণ, হামের টিকা শিশুর শরীরে প্রায় স্থায়ী হাম প্রতিরোধ শক্তি তৈরি করে। তাই আর ভয় থাকে না। সাধারণত দুই ডোজ টিকা নেওয়া থাকলে হামের ক্ষেত্রে ৯৭ থেকে ৯৯ শতাংশ সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
জলবসন্তে জ্বর তত বেশি হয় না, দু–এক দিনের মধ্যেই জ্বর চলে গিয়ে মুখ ও শরীরে ফুসকুড়ির মতো র‍্যাশ ওঠে। তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে ফুসকুড়িগুলো শুকিয়ে খোসা পড়ে যায়। এ সময় শরীরে শুকানো র‍্যাশগুলোয় চুলকানি হয়। এর সঙ্গে চোখ ওঠা থাকতে পারে। এটা তেমন ভয়ংকর রোগ না হলেও খুব বেশি ছোঁয়াচে। একজনের হলে বাসার অন্য সবারই হতে পারে। সাধারণত আমরা হাত দিয়ে চোখ মুছি, সেই হাতের স্পর্শে অন্যরা আক্রান্ত হয়।
সাধারণত একবার কারও জলবসন্ত হলে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম। তবে জলবসন্তের জীবাণু ভাইরাসটি ভ্যারিসেলা নামে পরিচিত। এটি বেশ কয়েক ধরনের হতে পারে। তাই জলবসন্তের টিকাও সে রকম নেই। এক ধরনের টিকায় রোগ প্রতিরোধ হলেও কাছাকাছি ধরনের অন্য ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে। তবে আমাদের দেশের সরকারি ইপিআই প্রোগ্রামে জলবসন্তের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দেওয়া যেতে পারে। জলবসন্ত বা চিকেন পক্স প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ভ্যারিসেলা (Varicella) টিকা। সাধারণত ১২ থেকে ১৫ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং চার থেকে ছয় বছর বয়সে দ্বিতীয় ডোজ (বুস্টার) দেওয়া হয়। একবার আক্রান্ত হলে সাধারণত আর টিকার প্রয়োজন হয় না।
সাধারণত হাম বা পক্সের টিকা দেওয়ার পর শিশুদের এই রোগগুলো হয় না, তবে কিছু বিরল ক্ষেত্রে হতেও পারে। টিকা দেওয়া থাকলে রোগটি গুরুতর পর্যায়ে যায় না, জটিলতা কম হয় এবং অন্যকে সংক্রমণের ঝুঁকিও অনেক কমে যায়। তাই নিয়মিত টিকা দেওয়া জরুরি।