শীতের পিঠা খেয়ে হজমের সমস্যা হলে কী করবেন
শীতে সুস্বাদু পিঠায় হয় রসনার তৃপ্তি। ঐতিহ্যবাহী পিঠার আয়োজন করা হয় এ সময়ের নানা অনুষ্ঠানে। তবে এসব পিঠা খেয়ে কেউ কেউ খানিকটা অসুস্থও হয়ে পড়েন। এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী সরকারি কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শম্পা শারমিন খান-এর সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন রাফিয়া আলম।
যে কারণে অসুস্থ হতে পারেন
অনেক ধরনের খাবার একসঙ্গে খেলে হজমে গন্ডগোল হতেই পারে। ঘরে ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাহারি পিঠার আয়োজন থাকে এ সময়। অনেকেই তাই একসঙ্গে খেয়ে ফেলেন অনেক ধরনের পিঠা।
আবার একই ধরনের পিঠা অনেক বেশি খেলেও বদহজম হতে পারে। হজমের সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে নারকেলের মতো উপকরণ। আবার অনেক পিঠা একটু শুষ্ক ধরনের হওয়ায় এসব খাওয়ার পরপরই পানি খেয়ে নেন কেউ কেউ। এটিও অ্যাসিডিটির আরেকটি কারণ।
ঝাল স্বাদের পিঠা বা চাটনিতে ব্যবহৃত মসলাও কারও কারও অ্যাসিডিটির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ ছাড়া পিঠা তৈরি, পরিবেশন বা গ্রহণের সময় যদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা না হয়, তাহলে হতে পারে জীবাণুর সংক্রমণ।
রাস্তার পাশে নানা রকম ভর্তা আর চিতই পিঠা বিক্রি করা হয়। এসবের সবই যে স্বাস্থ্যকর, তা হলফ করে বলার জো নেই। এসব ভর্তা বিক্রি হতে হতে বাসিও হয়ে যেতে পারে। তাই ভর্তা খেতে চাইলে তা বাড়িতে করে নেওয়াই ভালো।
ঘরোয়া টোটকা
হজমের সমস্যা হলে কিছু ঘরোয়া টোটকায় উপকার পেতে পারেন। টক দই দিয়ে তৈরি পানীয়, আদা দিয়ে তৈরি পানীয় কিংবা জিরাপানি আপনার কাজে আসতে পারে। তবে খেয়াল রাখবেন, জিরাপানি তৈরির জন্য বাজারের জিরাগুঁড়া ব্যবহার করতে নেই। ঘরে টেলে নেওয়া জিরা গুঁড়া করে জিরাপানি তৈরি করুন। কেবল কুসুম গরম পানি থেকেও কিছুটা উপকার পাবেন।
সুস্থ থাকতে যা করবেন, যা করবেন না
অনেক ধরনের পিঠা একসঙ্গে না খাওয়াই ভালো। কোনো পিঠাই আদতে অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়।
যেকোনো পিঠা খাওয়ার অন্তত ১৫-২০ মিনিট আগে বা পরে পানি খাবেন। খাওয়ার মধ্যে পানি খাওয়ার প্রয়োজন হলেও দুয়েক ঢোকের বেশি নয়।
অতিরিক্ত ঝাল বা মসলা দেওয়া পিঠা খেয়ে অভ্যস্ত না হলে তা গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। খেতে চাইলেও খুব অল্প পরিমাণে।
পিঠা খাওয়ার পরপরই শোবেন না। খাওয়া শেষে অন্তত ঘণ্টা দুই অপেক্ষা করুন।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নিয়মগুলো মেনে চলুন সব সময়।
খেয়াল রাখুন ক্যালরির দিকেও
পিঠা খেতে গিয়ে হজমের সমস্যা সবার হবে না। তবে মনে রাখা প্রয়োজন ক্যালরির দিকটাও। চালের গুঁড়া, চিনি, গুড় প্রভৃতি দিয়ে তৈরি করা যেকোনো খাবারেই ক্যালরি থাকে প্রচুর। সারা দিনে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালরি গ্রহণ করা হলে ওজন বেড়ে যাবে সহজেই।
আরও বাড়বে দীর্ঘমেয়াদি বহু রোগের ঝুঁকি। সুস্থ থাকতে পরিমিত পরিমাণে খাবার গ্রহণ করা তাই সবার জন্যই ভালো। এ ছাড়া যাঁরা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ্রোগের মতো কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন, তাঁদের জন্য অতিরিক্ত ক্যালরি ভীষণ ক্ষতিকর।