কেন হয়

বেলস পালসি বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ভাইরাস সংক্রমণ, মধ্যকর্ণে ইনফেকশন বা সংক্রমণ, ঠান্ডাজনিত বা আঘাতজনিত কারণ, মস্তিষ্কের স্ট্রোক, হেড ইনজুরি, ফেসিয়াল টিউমার, কানের বা প্যারোটিড গ্রন্থির অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ফেসিয়াল নার্ভ ইনজুরি ইত্যাদি।

কীভাবে বুঝবেন

বেলস পালসির উপসর্গ হঠাৎ দেখা যায়। আক্রান্ত রোগীর মুখ একদিকে বেঁকে যায়। আক্রান্ত পাশের চোখ বন্ধ হয় না, চোখ দিয়ে পানি পড়ে। কুলি করতে গেলে অন্য পাশে চলে যায় বা পড়ে যায়। খাবার গিলতে কষ্ট হয়। কপাল ভাঁজ করতে বা ভ্রু কোঁচকাতে পারে না। অনেক সময় কথা বলতে কষ্ট হয়। পানি পান করতে কষ্ট হয়। সব মিলিয়ে মুখের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।

যেভাবে নির্ণয়

ক্লিনিক্যালি রোগীর মুখের পেশির কার্যক্রম পরীক্ষা করে এটি বোঝা সহজ। তবে কারণ নির্ণয় করতে অনেক সময় কিছু প্যাথলজিক্যাল ও রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষা করার প্রয়োজন পড়ে। যেমন কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট, এক্স-রে অব টেম্পরো-মেন্ডিবুলার জয়েন্ট, নার্ভ কন্ডাকশন ভেলোসিটি ইত্যাদি।

চিকিৎসা কী

এ রোগের চিকিৎসা নির্ভর করে এর কারণের ওপর। কারণ অনুযায়ী ওষুধ ভিন্ন, তবে সব ক্ষেত্রেই ওষুধের পাশাপাশি মূল চিকিৎসা হলো ফিজিওথেরাপি। একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা দেন। যেমন—

মেকানিক্যাল থেরাপি: আইআরআর, প্যারাফিন ওয়াক্স থেরাপি, আলট্রা সাউন্ড থেরাপি, ইলেকট্রিক্যাল স্টিমুলেশন।

ম্যানুয়াল থেরাপি: প্রোপ্রাইওসেপ্টিভ নিউরো মাসকুলার ফ্যাসিলিটেশন, ইনফ্রা-রেড রেডিয়েশন থেরাপি, ইলেকট্রিক্যাল স্টিমুলেশন থেরাপি, অ্যাকটিভ ও প্যাসিভ ফেসিয়াল মাসল এক্সারসাইজ, স্পিচ রি-এডুকেশন থেরাপি, ব্যালুনিং এক্সারসাইজ, রিঙ্কলিং এক্সারসাইজ ইত্যাদি।

চিকিৎসার সময় রোগীকে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়।

  • ঠান্ডা আবহাওয়া থেকে দূরে থাকতে হবে।

  • আইসক্রিম ও ফ্রিজের ঠান্ডা খাবার খাওয়া যাবে না।

  • বাইরে বা রোদে গেলে চোখে সানগ্লাস ব্যবহার করতে হবে যেন আক্রান্ত চোখে ধুলাবালু ঢুকতে না পারে।

  • রাতে ঘুমানোর সময় আক্রান্ত চোখের ওপর রুমাল বা নরম কাপড় দিয়ে রাখতে হবে, যাতে কোনো কিছু চোখের মধ্যে পড়তে না পারে।

অধ্যাপক আবু সালেহ আলমগীর, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পেইন, ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার, ঢাকা

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন