ইলিশ খেলে মন ভালো রাখার হরমোন বাড়ে, তবে সতর্ক থাকতে হবে যাঁদের

ইলিশের টক– ঝাল ঝোলছবি: নকশা

ইলিশে রয়েছে উপকারী ওমেগা ৩ চর্বি। তবে মাছটি কোথা থেকে ধরা হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে এই চর্বির পরিমাণ। মাছের খাদ্যাভ্যাস ও বাসস্থানের প্রকৃতি স্বাদকেও প্রভাবিত করে। 

১. ইলিশে ডিএইচএ এবং ইপিএর মতো ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এগুলো হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি, রক্তচাপ কমাতে এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে সাহায্য করে। 

২. সর্বোচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ (প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ২৫ গ্রাম) মাছগুলোর মধ্যে ইলিশ অন্যতম।

ইলিশ মাছ
ফাইল ছবি: প্রথম আলো

৩. ইলিশে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান রয়েছে, যা হাড়কে শক্তিশালী করে।

৪. ইলিশের ভিটামিন এ, ডি, জিংক এবং সেলেনিয়াম রোগ প্রতিরোধ ও সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।

৫. ইলিশে রয়েছে ক্যানসার প্রতিরোধক উপাদান আরজিনিন। এ ছাড়া ইলিশ খেলে মন ভালো রাখার হরমোনগুলোর ক্ষরণ বাড়ে।

কী ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে 

১. সামুদ্রিক খাবারে যাঁদের অ্যালার্জি আছে, তাঁরা এই মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

ভাজা ইলিশ
ছবি: প্রথম আলো

২. ডুবো তেলে মুচমুচে করে ভাজা, সস টেস্টিং সল্ট দিয়ে রান্না করা হলে উপকারের বদলে ক্ষতি বেশি।  প্রতি ১০০ গ্রাম বেক করা ইলিশে ২৫০ ক্যালরি পাওয়া যায়, ভেজে রান্না করলে বেড়ে হয় ৩৫০–এর বেশি। তাই ইলিশ ভেপে, বেক বা গ্রিল করে বা অল্প তেলে রান্না করা উচিত।

৩. ইলিশে ফসফরাস ও সোডিয়াম রয়েছে বেশ। তাই যাঁদের কিডনি সমস্যা রয়েছে, তাঁরা ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।

৪. অঞ্চলভেদে ইলিশে পারদ ও দূষক পদার্থ থাকতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের সতর্ক থাকা উচিত। যেমন গর্ভবতী, স্তন্যদানকারী মা এবং শিশু।

৫. ইলিশ মাছের ডিম উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরলের রোগীর না খাওয়া ভালো।

  • লিনা আকতার, পুষ্টিবিদ, রাইয়ান হেলথকেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর

আরও পড়ুন