নবজাতকের মস্তিষ্কে পানি জমে যে রোগে

কিছু নবজাতক জন্মের সময় হৃদ্‌রোগ নিয়ে জন্ম নেয়ছবি: আনস্প্ল্যাশ

শিশুর জন্মের আগেই যদি মস্তিষ্কে অতিরিক্ত তরল জমতে শুরু করে, তখন এই অবস্থাকে বলা হয় জন্মগত হাইড্রোসেফালাস। মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডকে ঘিরে থাকা সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড বা সিএসএফ চলাচলের পথে বাধা তৈরি হলে বা শোষণে সমস্যা হলে মস্তিষ্কের ভেন্ট্রিকলে এই তরল জমে যেতে পারে।

কেন হয়

এ রোগের পেছনে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা, জিনগত ত্রুটি কিংবা গর্ভাবস্থায় কোনো সংক্রমণ দায়ী থাকে। অ্যাকুয়েডাক্টাল স্টেনোসিস একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এতে মস্তিষ্কের ভেতর সিএসএফ চলাচলের একটি সরু পথ সংকুচিত হয়ে যায়। এ ছাড়া গর্ভাবস্থায় মায়ের টক্সোপ্লাজমোসিস, রুবেলা, সাইটোমেগালো ভাইরাস বা সিফিলিসের মতো কিছু সংক্রমণ শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।

জন্মের পর দেখতে হবে
নবজাতকের মাথার নরম অংশ বা ফন্টানেল ফুলে উঠতে পারে। মাথার ত্বকের নিচের শিরাগুলো স্পষ্ট দেখা যেতে পারে। চোখ নিচের দিকে স্থির হয়ে থাকা, যাকে ‘সেটিং সান সাইন’ বলা হয়, এটিও একটি লক্ষণ।


কীভাবে রোগ শনাক্ত হয়
গর্ভাবস্থায় আলট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ভেন্ট্রিকল বড় হয়ে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। জন্মের পর শিশুর শারীরিক পরীক্ষা ও মাথার পরিধি পরিমাপের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী আলট্রাসনোগ্রাফি, সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করা হয়।

চিকিৎসা কী
প্রচলিত চিকিৎসাগুলোর একটি হলো শান্ট সার্জারি। কিছু ক্ষেত্রে এন্ডোস্কপিক থার্ড ভেন্ট্রিকুলোস্টমি (ইটিভি) করা যেতে পারে। কোন পদ্ধতি উপযুক্ত, তা নিউরোসার্জন নির্ধারণ করেন।

অধ্যাপক ডা. হারাধন দেবনাথ, নিউরোসার্জারি বিশেষজ্ঞ, নিউরোসার্জারি বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা