ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের উপকারিতা ও সতর্কতা

বর্তমানে ফিটনেস–দুনিয়ায় আলোচিত শব্দযুগল হলো ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ বা আইএফ। এটি আদতে প্রচলিত কোনো ডায়েট চার্ট নয়, বরং খাবার গ্রহণের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম বা প্যাটার্ন। আপনি ‘কী খাবেন’ তার চেয়ে ‘কখন খাবেন’—এটির ওপরই এখানে বেশি জোর দেওয়া হয়। ওজন কমানো থেকে শুরু করে শরীরের অভ্যন্তরীণ সুস্থতা ফেরাতে এ পদ্ধতি এখন বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ খাবার গ্রহণের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম বা প্যাটার্নছবি: পেক্সেলস
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের সবচেয়ে বড় গুণ এটি শরীরের বিপাকপ্রক্রিয়া বা মেটাবলিজমকে উন্নত করে
মডেল: দোয়েল ম্যাশ, ছবি: কবির হোসেন

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের সুফল

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের সবচেয়ে বড় গুণ এটি শরীরের বিপাকপ্রক্রিয়া বা মেটাবলিজমকে উন্নত করে। যখন আমরা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকি (সাধারণত ১৬ ঘণ্টা), শরীর তখন গ্লুকোজের বদলে জমানো চর্বি পুড়িয়ে শক্তি তৈরি করতে শুরু করে। একে বলা হয় ‘মেটাবলিক সুইচ’। এর ফলে দ্রুত মেদ ঝরে যায়।

এ ছাড়া এই পদ্ধতিতে শরীরে ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা বাড়ে, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর। দীর্ঘক্ষণ ফাস্টিংয়ের ফলে কোষে ‘অটোফ্যাগি’ নামের একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়, যেখানে শরীর নিজেই নিজের ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলো পরিষ্কার করে নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। এটি বার্ধক্য রোধে এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখে।

কত দিন একটানা করা যাবে

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ধরন হলো ‘১৬: ৮’ পদ্ধতি। অর্থাৎ দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ ঘণ্টা ফাস্টিং আর বাকি ৮ ঘণ্টার মধ্যে সব খাবার খেয়ে নেওয়া। বলা হয়ে থাকে, এই ১৬: ৮ পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদি জীবনধারা বা লাইফস্টাইল হিসেবে আজীবন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব। শরীর যদি একবার এই অভ্যাসে মানিয়ে নেয়, তবে এটি মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর করা যায়।

আরও পড়ুন

তবে একটানা খুব কঠোর ফাস্টিং (যেমন ২০ ঘণ্টা ফাস্টিং বা দিনে মাত্র একবার খাওয়া) দীর্ঘ সময় করলে শরীরে পুষ্টির অভাব দেখা দিতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করলে শরীরকে মাঝেমধ্যে বিশ্রাম দেওয়া জরুরি। প্রতি ৩-৪ মাস অন্তর এক সপ্তাহ বিরতি দিয়ে সাধারণ খাদ্যাভ্যাসে ফিরে আসা ভালো, যাতে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য ঠিক থাকে।

সতর্কতা জরুরি

মনে রাখবেন, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং সবার জন্য নয়। অন্তঃসত্ত্বা নারী, স্তন্যদানকারী মা, ১৮ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরী এবং যাদের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম, তাদের জন্য এই পদ্ধতি ক্ষতিকর হতে পারে। এ ছাড়া যাদের ইটিং ডিজঅর্ডার বা গ্যাস্ট্রিকের তীব্র সমস্যা আছে, তাদেরও সতর্ক থাকতে হবে।

ফাস্টিংয়ের সময় চিনি ছাড়া চা বা কফি পান করা যেতে পারে
ছবি: খালেদ সরকার

শেষ কথা

সুস্থ থাকার জন্য কেবল ফাস্টিং করলেই হবে না, ওই আট ঘণ্টার খাবার তালিকায় পুষ্টিকর ও সুষম খাবার রাখতে হবে। ফাস্টিংয়ের সময় প্রচুর পানি, চিনি ছাড়া চা বা কফি পান করা যেতে পারে। তবে যেকোনো বড় পরিবর্তন আনার আগে নিজের শরীরের পরিপূর্ণ চেকআপ করে নেওয়া হবে বুদ্ধিমানের কাজ।


লেখক: ক্লিনিক্যাল স্টাফ, নিউরোলজি বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা।

সোর্স: মায়ো ক্লিনিক, জন হপকিনস মেডিসিন

আরও পড়ুন