টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশু–কিশোরের সংখ্যা বাড়ছে, সচেতন থাকবেন কীভাবে

বাংলাদেশে টাইপ–১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশু, কিশোর ও তরুণের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। অনেকেই মনে করেন, এ রোগ হলে স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব নয়। বাস্তবে তা নয়। আধুনিক চিকিৎসা, নিয়মিত ইনসুলিন, রক্তে শর্করা পর্যবেক্ষণ ও সঠিক জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সুস্থ জীবন যাপন করতে পারেন।

সঠিক জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সুস্থ জীবন যাপন করতে পারেন।ছবি: পেক্সেলস

টাইপ–১ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করণীয়

ইনসুলিনই টাইপ–১ ডায়াবেটিসের প্রধান চিকিৎসা। অসুস্থ থাকলে বা খাবার কম খেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ইনসুলিন বন্ধ করা যাবে না। গ্লুকোমিটার বা প্রয়োজনে কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটরিং ব্যবহার করে রক্তে শর্করা নিয়মিত পরীক্ষা করলে ইনসুলিনের মাত্রা এবং খাদ্য পরিকল্পনা ঠিক করা সহজ হয়। ভাত, রুটি, ডাল, মাছ, ডিম, দুধ, শাকসবজি ও ফল—সবই খাওয়া যাবে। তবে পরিমাণ ও সময়ের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রতিদিন অন্তত ৩০–৪৫ মিনিট হাঁটা, সাইকেল চালানো বা অন্যান্য শারীরিক কার্যক্রম উপকারী। তবে ব্যায়ামের আগে ও পরে রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের পরিকল্পনা রাখা উচিত।

হঠাৎ ঘাম, কাঁপুনি, অতিরিক্ত ক্ষুধা, মাথা ঘোরা বা বিভ্রান্তি হলে রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে। সঙ্গে সব সময় গ্লুকোজ ট্যাবলেট, চিনি বা মিষ্টি পানীয় রাখা ভালো। জ্বর, সংক্রমণ বা বমি-ডায়রিয়ার সময় রক্তে শর্করা ও প্রয়োজনে কিটোন পরীক্ষা করুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং চিকিৎসকের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করুন।

তিন মাস অন্তর এইচবিএ১সি পরীক্ষা, বছরে অন্তত একবার চোখ, কিডনি, স্নায়ু ও থাইরয়েডের মূল্যায়ন করা উচিত। এতে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা প্রতিরোধ করা সহজ হয়। জাতীয় নির্দেশিকাভিত্তিক নিয়মিত চিকিৎসা ও ফলোআপের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পরিবার ও স্কুলের ভূমিকা

শিশু বা কিশোরের টাইপ–১ ডায়াবেটিস থাকলে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্কুলে ইনসুলিন নেওয়া, রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা বা প্রয়োজনে দ্রুত খাবার খাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত। রোগীকে ভয় দেখানো অথবা অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ না করে তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে হবে।

শেষ কথা

টাইপ–১ ডায়াবেটিস এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যা সঠিক চিকিৎসা ও আত্মপরিচর্যার মাধ্যমে সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

সময়মতো রোগনির্ণয়, নিয়মিত ইনসুলিন গ্রহণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা এবং পরিবারের সহযোগিতাই সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনের চাবিকাঠি।

বাংলাদেশে সচেতনতা বৃদ্ধি, ইনসুলিনের সহজলভ্যতা এবং বিশেষায়িত ডায়াবেটিস সেবার প্রসার ঘটলে টাইপ–১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রত্যেক মানুষ আরও নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় জীবন যাপন করতে পারবেন।

আরও পড়ুন