হঠাৎ আগুন, প্রথম ১০ মিনিটই বাঁচাতে পারে জীবন

চার দশকের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, পোড়ার গভীরতা যতটা আগুনে বাড়ে, তার চেয়ে বেশি বাড়ে ভুল চিকিৎসায়। তাই অগ্নিদুর্ঘটনায় পড়লে মাথা ঠান্ডা রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

রান্নাঘরের ফুটন্ত তেল, গোসলের গরম পানি, এসি বা গ্যাসের চুলা থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুন—একপলকের অসতর্কতায় ঘটে যেতে পারে মর্মান্তিক ঘটনাছবি: পেক্সেলস

রান্নাঘরের ফুটন্ত তেল, গোসলের গরম পানি, এসি বা গ্যাসের চুলা থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুন—একপলকের অসতর্কতায় ঘটে যেতে পারে মর্মান্তিক ঘটনা। বদলে যেতে পারে একটি পরিবারের গল্প।

প্রথমত যা করবেন

  • পোশাকে আগুন লাগলে দৌড়াবেন না, এতে আগুন আরও ক্ষতি করবে। মাটিতে শুয়ে কম্বল দিয়ে চেপে নিভিয়ে ফেলুন বা গড়াগড়ি দিন।

  • পোড়া স্থানে অন্তত ২০ মিনিট স্বাভাবিক তাপমাত্রার প্রবাহিত পানি দিন। এটি তাপ কমিয়ে কোষের গভীরে ক্ষত ছড়াতে দেয় না।

  • গয়না ও আঁটসাঁট পোশাক খুলুন। আংটি, ঘড়ি খুলে ফেলুন, কারণ ফুলে গেলে তা বিপদ ডেকে আনে। তবে ত্বকে লেগে থাকা কাপড় টানবেন না।

  • পরিষ্কার, শুকনা কাপড় বা জীবাণুমুক্ত ড্রেসিংয়ে আলতো করে পোড়া স্থান ঢেকে বার্ন ইউনিট বা প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে আসুন।

যা করবেন না

  • পোড়া স্থানে কিছুই লাগাবেন না। বরফ, টুথপেস্ট, ডিম, ঘি, তেল, গোবর বা চুন—কিছুই নয়। এতে সংক্রমণ হয়, ক্ষত গভীর হয়।

  • ফোসকা ফাটাবেন না। এটি কিন্তু ত্বকের প্রাকৃতিক ব্যান্ডেজ।

জরুরি বিপৎসংকেত

শ্বাসকষ্ট, মুখ বা গলা পোড়া, ধোঁয়া শ্বাসনালিতে ঢুকে পড়া, অচেতন হলে কিংবা বিস্তৃত বা গভীর ক্ষত থাকলে একমুহূর্ত দেরি নয়, অবিলম্বে হাসপাতালে নিন। আবার ফিরে পাওয়া জীবন শুধু প্রাথমিক চিকিৎসায় শেষ হয় না।

এখান থেকেই শুরু পুনর্জন্মের লড়াই। স্কিন গ্রাফটিং ও পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচার সঠিক সময়ে হলে দাগ, সংকোচন ও বিকৃতি কমে, ফিরে আসে অঙ্গের কর্মক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস।

পোড়া শুধু ত্বকের ক্ষত নয়। এটি মানুষকে বিকলাঙ্গ ও কর্মহীন করে দিতে পারে। যদিও আগুন লাগলে হিতাহিত জ্ঞান বজায় রাখা কঠিন, তবু দগ্ধ হওয়ার মুহূর্তে আতঙ্ক নয়; দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপই জীবন বাঁচানোর প্রথম সোপান। সে জন্য উন্নত বিশ্বে নিয়মিত ফায়ার ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে ছোট থেকেই শেখানো হয় কী করতে হবে।

অধ্যাপক ডা. মো. আইয়ূব আলী, সাবেক ইউনিট–প্রধান, প্লাস্টিক সার্জারি, বিএমইউ, ঢাকা