কোন খাবার গ্যাসের সমস্যা বাড়ায়, কোনটা কমায়

বর্তমানে যতগুলো শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, তার মধ্যে অন্যতম গ্যাস্ট্রিকছবি: পেক্সেলস

বর্তমানে যতগুলো শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, তার মধ্যে অন্যতম গ্যাস্ট্রিক। এখন ছোট–বড়–বয়স্ক—সবাই এ সমস্যায় ভোগেন। এর একটি কারণ হচ্ছে খারাপ খাদ্যাভ্যাস।

কোন খাবার গ্যাস্ট্রিক বাড়ায়

আটা-ময়দার তৈরি খাবার অনেক সময় গ্যাস বাড়ায়। উচ্চ আঁশের পাশাপাশি আটায় গ্লুটেন নামক প্রোটিন থাকে, যা আমাদের পরিপাকতন্ত্র সহজে হজম করতে পারে না। বিশেষ করে বাচ্চা ও বয়স্কদের সমস্যা বেশি হয়।

অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার ত্যাগ করতে হবে। কারণ, বেশির ভাগ মসলা পরিপাক করার মতো এনজাইম আমাদের শরীরে নেই। গরমে পেঁয়াজ, রসুন, হলুদগুঁড়া, কাঁচা মরিচ, লবণ ও তেলছাড়া অন্যান্য মসলা ব্যবহার না করাই উত্তম। অন্যান্য সুগন্ধিযুক্ত মসলা খেতে চাইলে গোটা মসলা ব্যবহার করা ভালো।

অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে
ছবি: প্রথম আলো

অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার চলবে না। সয়াবিন তেলে সম্পৃক্ত ফ্যাট অনেক বেশি। অধিক সম্পৃক্ত চর্বির কারণে তেল পরিপাকে বেশি সময় লাগে। ভাজা পোড়া খাবেন না। মাছ-মাংসের ঝোল বাদ দিতে চেষ্টা করবেন। খিচুড়ি, বিরিয়ানি ও পোলাওয়ের মতো ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন। পরোটা, লুচি, চপ, শিঙাড়া ও ফ্রেঞ্চ ফ্রাই হজম হতে বেশি সময় নেয়।

শাকে আঁশের পাশাপাশি সেলুলোজ থাকে। সেলুলোজ হজমকারী সেলুলয়েজ নামক এনজাইম মানুষের পরিপাকতন্ত্রে নেই। তাই অতিরিক্ত শাক খাবেন না। এ ছাড়া রাতে শাক খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়তে পারে।

যদি ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স থাকে, তাহলে দুধ ও দুধের তৈরি খাবার খেলে অ্যাসিডিটি হতে পারে। বিশেষ করে দুধ চা অ্যাসিডিটির সমস্যা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

গ্যাস্ট্রিক কমাতে কী খাবেন

সহজপাচ্য খাবার। ভাতের সঙ্গে মাছের পাতলা ঝোল, সবজি ও পাতলা ডাল। সবজির মধ্যে লাউ, পেঁপে, চালকুমড়া, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, মিষ্টিকুমড়া ও ঢ্যাঁড়সের পাতলা ঝোলের তরকারি অতি উত্তম। শাকের মধ্যে লালশাক ও পুঁইশাক খাওয়া যেতে পারে। ফলের মধ্যে পাকা পেঁপে, কলা, বেল, তরমুজ, বাঙ্গি, আঙুর গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমাতে বেশ উপকারী।

সহজপাচ্য খাবার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমাতে উপকারী
মডেল: নীলাঞ্জনা, ছবি: কবির হোসেন

দারুচিনি, মৌরি ও এলাচি দীর্ঘ সময় পানিতে ভিজিয়ে বা সেদ্ধ করে পানি খালি পেটে খেতে পারলে ভালো। 

প্রতিদিন বিকেলে ১ কাপ টক দই খাবেন। টক দই অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বাড়ায়। পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। 

সঠিক নিয়মে তৈরি পান্তা প্রোবায়োটিকস হিসেবে কাজ করে। পান্তা তৈরিতে ভাত ৭-৮ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে গরম পরিবেশে রাখতে হবে। খাওয়ার সময় ভিজিয়ে রাখা পানি বাদ দেওয়া যাবে না অথবা ভাত ধুয়ে খাওয়া যাবে না।

মো. ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল

আরও পড়ুন