নখ কাটার সময় এই ভুল করছেন না তো? জানলে আজ থেকেই বদলাবেন অভ্যাস
নখ কাটার নিয়ম নিয়ে কখনো ভেবেছেন? ছোটবেলা থেকে নখ কাটতে কাটতে বিষয়টি এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে এটি নিয়েও সঠিক-ভুলের ব্যাপার থাকতে পারে, তা আমরা খুব কমই ভাবি। আমরা অনেকেই নখের কোনাগুলো গোল করে কাটাই স্বাভাবিক মনে করি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশেষ করে পায়ের নখের ক্ষেত্রে এ অভ্যাসই ডেকে আনতে পারে বেশ যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা।
নখের দুই পাশ বেশি গোল করে বা খুব গভীরভাবে কাটলে সেটি বাড়ার সময় পাশের চামড়ার ভেতরে ঢুকে যেতে পারে। এতে ব্যথা, লালচে ভাব, ফোলা, এমনকি সংক্রমণও হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ইনগ্রোন টোনেইল’।
তাহলে নখ কাটার সঠিক নিয়ম কী? হাত ও পায়ের নখ কি একইভাবে কাটতে হবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
নখ কাটার যন্ত্র পরিষ্কার রাখুন
নখ কাটার আগে ব্যবহৃত নেইল ক্লিপার বা নেইল কাটার পরিষ্কার আছে কি না, খেয়াল করুন। হাত ও পায়ের জন্য আলাদা নখ কাটার যন্ত্র ব্যবহার করলে আরও ভালো।
ব্যবহারের পর নেইল ক্লিপারটি পরিষ্কার করে ভালোভাবে শুকিয়ে রাখুন। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে এতে ময়লা ও জীবাণু জমার ঝুঁকিও কমে।
গোসলের পর নখ কাটা সহজ
গোসলের পর নখ সাধারণত কিছুটা নরম থাকে। তাই তখন নখ কাটতে তুলনামূলক কম চাপ লাগে। গোসলের সুযোগ না থাকলে কয়েক মিনিট কুসুম গরম পানিতে হাত-পা ভিজিয়েও নিতে পারেন।
তবে নখ ভেজানোর পর অতিরিক্ত পানি মুছে নিন। হাত বা নেইল ক্লিপার খুব পিচ্ছিল থাকলে নখ কাটার সময় হাত ফসকে যেতে পারে।
পায়ের নখ গোল করে কাটবেন না
এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পায়ের নখ কাটার সময় নখের দুই পাশ গোল করে গভীরভাবে কেটে ফেলবেন না। নখ সোজা বরাবর কাটাই ভালো। নখের কোনাগুলো বেশি ছোট করে ফেললে সেটি চামড়ার দিকে বাড়তে পারে।
নখ খুব ছোট করেও কাটা উচিত নয়। পায়ের আঙুলের ডগা সুরক্ষিত থাকে, এমন দৈর্ঘ্য রাখা ভালো।
হাতের নখের নিয়ম একটু আলাদা
হাতের নখে কোনা সামান্য গোল করা যেতে পারে, কিন্তু পায়ের নখের মতো গভীরভাবে কোনা কাটা উচিত নয়। নখ কাটা হলে ধারালো বা অসমান কোণগুলো নেইল ফাইল দিয়ে সামান্য মসৃণ করে নেওয়া যায়।
অর্থাৎ হাতের নখের কোণ পুরোপুরি গোল করে কাটার প্রয়োজন নেই। আবার পায়ের নখের মতো একেবারে ধারালো রেখেও দেওয়া উচিত নয়। মূল লক্ষ্য হলো নখের স্বাভাবিক গঠন বজায় রেখে অসমান অংশগুলো মসৃণ করা।
কাটার পর নেইল ফাইল ব্যবহার করুন
নখ কাটার পর কোথাও খসখসে বা ধারালো অংশ থাকলে নেইল ফাইল দিয়ে মসৃণ করে নিন। এতে নখ কাপড়ের সঙ্গে আটকে যাওয়া বা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
নেইল ফাইল একদিকে চালিয়ে ধীরে ধীরে মসৃণ করুন। খুব জোরে সামনে-পেছনে ঘষলে নখের কিনারা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
কিউটিকল কাটবেন না
নখের গোড়ার পাতলা চামড়ার অংশটিকে কিউটিকল বলা হয়। এটি নখের গোড়াকে জীবাণু থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। তাই কিউটিকল কেটে ফেলা বা জোর করে পেছনে ঠেলে দেওয়া ঠিক নয়।
সুন্দর দেখানোর জন্য এই অংশ কাটতে গিয়ে ছোট ক্ষত তৈরি হতে পারে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
নখ ও হাত শুষ্ক হতে দেবেন না
নখ কাটার পর হাত ও নখের চারপাশে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। এতে আশপাশের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়া কমে এবং নখও ভালো থাকে।
বিশেষ করে যাঁদের নখ সহজে ভেঙে যায় বা চারপাশের চামড়া খসখসে হয়ে যায়, তাঁদের নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার উপকারী হতে পারে।
ভুলভাবে নখ কাটলে কী হতে পারে
নখ খুব ছোট করে কাটা বা পায়ের নখের দুই কোনা বেশি গোল করে কাটার কারণে সবচেয়ে পরিচিত সমস্যাগুলোর একটি হলো ইনগ্রোন টোনেইল। এ সময় নখের এক পাশ বা কোনা চামড়ার ভেতরে ঢুকে যেতে পারে।
এতে ব্যথা, লালচে ভাব ও ফোলা দেখা দিতে পারে। সংক্রমণ হলে পুঁজও হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা হলে নখের কোনা নিজে থেকে গভীরভাবে কেটে বের করার চেষ্টা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
মনে রাখবেন
নখ কাটার সময় ছোট্ট একটি বিষয় মনে রাখলেই অনেকটা সহজ হয়ে যায়—
পায়ের নখ সোজা করে কাটুন।
হাতের নখ প্রায় সোজা রেখে কোণগুলো সামান্য মসৃণ করুন।
দেখতে ছোট বিষয় মনে হলেও নখের স্বাস্থ্য ও অস্বস্তিকর কিছু সমস্যা এড়াতে সঠিকভাবে নখ কাটা জরুরি। এত দিন যদি নখ পুরোপুরি গোল করে কেটে থাকেন, বিশেষ করে পায়ের নখ, তাহলে আজ থেকেই অভ্যাসটি বদলানোর সময়।
সূত্র: আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি, হেলথলাইন