ঘাড়ের কালো দাগে যে রোগের সংকেত লুকিয়ে থাকে

ঘাড়ের এমন কালো দাগ অন্য রোগের আগাম সংকেত হতে পারেছবি: এআই/প্রথম আলো

ত্বকের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের নাম অ্যাকান্থোসিস নিগ্রিকানস। যে সমস্যায় ঘাড় ও অন্যান্য স্থানের রং কালো হয়ে যায়। এটি কোনো সংক্রামক রোগ নয়, কিন্তু অনেক সময় ডায়াবেটিস ও হরমোনজনিত সমস্যার আগাম সতর্কসংকেত হিসেবে কাজ করে।

অ্যাকান্থোসিস নিগ্রিকানস কী

অ্যাকান্থোসিস নিগ্রিকানস হলে শরীরের কিছু কিছু অংশে চামড়া কালচে, পুরু ও মখমলের মতো হয়ে যায়। সাধারণত ঘাড়ের পেছনে, বগলে, কুঁচকিতে, কনুই বা হাঁটুর ভাঁজে এই পরিবর্তন চোখে পড়ে। অনেক সময় আক্রান্ত স্থানে চুলকানি বা দুর্গন্ধও থাকতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই সমস্যা ব্যথাহীন।

কেন হয় এ সমস্যা

এ সমস্যার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। যখন শরীরের কোষগুলো ইনসুলিন ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারে না, তখন রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ইনসুলিন ত্বকের কোষকে অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে উৎসাহিত করে, ফলে ত্বক কালো ও মোটা হয়ে যায়।

এ ছাড়া আরও কিছু কারণ আছে। যেমন—

  • টাইপ ২ ডায়াবেটিস বা প্রিডায়াবেটিস।

  • অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা।

  • পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস)।

  • থাইরয়েড বা অন্যান্য হরমোনজনিত সমস্যা।

  • কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের প্রতিক্রিয়া (যেমন স্টেরয়েড বা হরমোন থেরাপি)।

  • অনেক সময় অভ্যন্তরীণ ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে

শরীরে কালো দাগ দেখা দিলে অবহেলা করা যাবে না
ছবি: এআই/প্রথম আলো

অ্যাকান্থোসিস নিগ্রিকানস সব বয়সেই হতে পারে। তবে যাঁদের পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস আছে, ওজন বেশি, জীবনযাত্রা অনিয়ন্ত্রিত, তাঁদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

আরও পড়ুন

চিকিৎসা ও করণীয় কী

এ অবস্থার মূল চিকিৎসা হলো রোগনির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণ। শুধু ক্রিম বা মলম ব্যবহার করে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তার সঙ্গে দরকার—

  • ওজন নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

  • নিয়মিত ব্যায়াম

  • রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা

  • প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণ

  • কিছু ক্ষেত্রে ত্বকের সৌন্দর্য ফেরাতে চিকিৎসক বিশেষ ক্রিম বা কেমিক্যাল পিলের পরামর্শ দিতে পারেন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

  • হঠাৎ করে ত্বক দ্রুত কালো হয়ে গেলে।

  • ওজন কমানোর পরও সমস্যা না কমলে।

  • অতিরিক্ত পিপাসা, প্রস্রাব বা ক্লান্তি থাকলে।

    অ্যাকান্থোসিস নিগ্রিকানস নিজে কোনো মারাত্মক রোগ না হলেও এটি শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। সময়মতো সচেতন হলে ও সঠিক চিকিৎসা নিলে এ সমস্যার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। ত্বকের পরিবর্তনকে অবহেলা করা ঠিক নয়।

আরও পড়ুন