নারীর বিব্রতকর সংক্রমণ

  • যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতায় এ ধরনের সংক্রমণ এড়ানো যায়।

  • সংক্রমিত হলে বিব্রত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

  • কোনো প্রসাধনসামগ্রীতে অ্যালার্জি হচ্ছে কি না, লক্ষ করুন।

প্রতীকী ছবি

নারীদের জরায়ুমুখে বা যোনিপথে প্রায়ই সংক্রমণ হয়ে থাকে। সাধারণত গনোকক্কাস, স্ট্রেপটোকক্কাস, স্ট্যাফাইলোকক্কাস, নিউমোকক্কাস, ইকোলাই, ট্রাইকোমোনাস, ক্যানডিডা আলবিক্যানস, ক্লেমাইডিয়া ইত্যাদি জীবাণুর সংক্রমণ ঘটে এসব জায়গায়। এর ফলে চুলকানি, অস্বস্তি, জ্বালা, শ্বেত নিঃসরণ বা হোয়াইট ডিসচার্জ ইত্যাদি ঘটতে পারে।

তবে লিউকোরিয়া বা সাদা পদার্থ নিঃসরণ আর সংক্রমণ এক সমস্যা নয়। কারণ, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণ ছাড়াও লিউকোরিয়া হতে পারে। তবে সাদা পদার্থের নিঃসরণ অনেক বেশি হলে, ঘোলাটে বা হলদে রং, দুর্গন্ধযুক্ত কিংবা এর সঙ্গে লাল ক্ষত বা চুলকানি থাকলে সংক্রমণ ঘটেছে বলে ধরে নেওয়া যায়। অনেকেই এ নিয়ে চিকিৎসা নিতে বিব্রত বোধ করেন। কিন্তু চিকিৎসা না করলে জটিলতা বাড়তে পারে। গনোকক্কাস ও ট্রাইকোমোনাস জীবাণু সংক্রামক। তাই এই জীবাণুর সংক্রমণে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই চিকিৎসা নিতে হবে।

প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা

অনেকের ধারণা, এ ধরনের সংক্রমণে স্বাস্থ্য ভেঙে যায় বা ওজন কমে যায়। শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু এটি নিতান্তই ভ্রান্ত ধারণা। কারণ, লিউকোরিয়া কোনো রোগ নয়, রোগের লক্ষণ। তবে এটা সত্য যে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গেলে ছত্রাকজাতীয় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই অপুষ্টি, ভগ্নস্বাস্থ্য বা ডায়াবেটিসের রোগীদের এ ধরনের সংক্রমণ বেশি হয়। গর্ভাবস্থায়ও অনেকের এ ধরনের সংক্রমণ হতে পারে।

চিকিৎসা

যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতায় এ ধরনের সংক্রমণ এড়ানো যায়। সংক্রমণ হয়ে গেলে বিব্রত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এ ক্ষেত্রে সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসক ঠিক করবেন মলম ব্যবহার করতে হবে, নাকি ওষুধ সেবন করতে হবে। ডায়াবেটিস আছে কি না, পরীক্ষা করে নিন। সুতি অন্তর্বাস ব্যবহার করুন। কোনো প্রসাধনসামগ্রীতে অ্যালার্জি হচ্ছে কি না, লক্ষ করুন।

লেখক: চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আল-রাজি হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা