পেটে অস্ত্রোপচারের পর সতর্কতা

.
.

পেটে অস্ত্রোপচারের পর সাধারণত কিছু বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। সামান্য কিছু সতর্কতার অভাবে পেটের কাটা অংশে জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে, কাটা অংশ জোড়া লাগতে সমস্যা হতে পারে, পরে হার্নিয়াসহ অন্যান্য সমস্যা হতে পারে।
পেটে অস্ত্রোপচারের পর যেসব বিষয়ে সতর্কতা প্রয়োজন:
* নাকে বা পেটের কাটা অংশে কোনো নল লাগানো থাকলে কিংবা প্রস্রাবের নল লাগানো থাকলে তা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে খোলার চেষ্টা করা যাবে না। নলের কারণে রোগী কিছুটা অস্বস্তিতে ভুগলেও চিকিৎসকের নির্দেশমতো তা রাখতে হবে।
* চিকিৎসকের পরামর্শমতো দ্রুততম সময়ে রোগীকে উঠিয়ে বসাতে হবে। প্রয়োজন না থাকলে একটানা শুয়ে থাকা যাবে না। মাথা উঁচু করে বসলে রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাসেও সুবিধা হবে। এ ছাড়া যত দিন পর্যন্ত রোগী পুরোপুরিভাবে চলাচল করতে না পারছে, তত দিন পর্যন্ত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করা উচিত।

* রোগীর কোনো ধরনের খাবার খেতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে কি না, তা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন করবেন না।

* যদি কখনো কাটা স্থানে লাগানো ব্যান্ডেজ ভিজে যায়, কাটা স্থানে বেশি ব্যথা হয়, পেটের কোনো অংশে প্রচণ্ড ব্যথা হয়, পেট ফুলে যায়, পায়খানা বন্ধ হয়ে যায়, বমিভাব হয় বা বমি হয়, রোগীর জ্বর আসে কিংবা নতুন কোনো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

* পেট কেটে অস্ত্রোপচার করা হলে অবশ্যই প্রথম ছয় মাস সাবধান থাকা প্রয়োজন। এই ছয় মাস কোনো ভারী কাজ করা যাবে না। এই ছয় মাস কোনোভাবেই ঠান্ডা লাগানো চলবে না। হাঁচি-কাশি হলে বা ঠান্ডা লাগলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

অধ্যাপক এ জেড এম মোস্তাক হোসেন

>

প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন : শিশুর টিকা দেওয়ার পর জ্বর না হওয়ার অর্থ কি টিকার অকার্যকারিতা?

উত্তর: সামান্য সর্দি-কাশি-জ্বরে বা অপরিণত শিশুকে টিকাদানে নিষেধ নেই। শিশু যদি মধ্যম বা গুরুতর স্তরের অসুস্থ থাকে, তবে টিকা প্রদান পিছিয়ে দেওয়া হয়। অল্পস্বল্প ক্ষেত্রে টিকার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তা স্বাভাবিকভাবে মাংসপেশিতে ফোলা, জ্বর থেকে শুরু করে অ্যানাফাইলেকসিস পর্যন্ত হতে পারে। জ্বর হলে টিকা কার্যকর হয়েছে এই ধারণা ভুল বরং এটা টিকাদানের একটা প্রতিক্রিয়া বলেই চিহ্নিত। জ্বর, ফোলা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

*ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী

   বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ

   চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ