আন্তর্জাতিক মাইগ্রেন সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে সাত দিনের বিশেষ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে এসকেএফ। মাইগ্রেনের চিকিৎসা ও তার প্রতিকার নিয়ে সপ্তম, অর্থাৎ শেষ দিনের বিষয় ছিল ‘স্ট্রোক ও মস্তিষ্কের রোগজনিত মাথাব্যথা’। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালের সহকারী অধ্যাপক ডা. এম আমির হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুস্মিতা শ্রুতি চৌধুরী।
মাইগ্রেন থেকে কি স্ট্রোক হতে পারে?
স্ট্রোক মস্তিষ্কের রক্তনালির একটি রোগ। এটি মাথাব্যথার সঙ্গে সম্পর্কিত। মস্তিষ্কের রক্তনালি যদি কোনো কারণে বন্ধ বা ছিঁড়ে যায়, তাহলেও স্ট্রোক হতে পারে। রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকে মাথাব্যথা হয়। রক্ত যদি সারা মাথায় ছড়িয়ে পড়ে, সেটাতেও প্রচণ্ড ব্যথা হয়। এর চেয়ে কষ্টকর মাথাব্যথা আর নেই। তাই বলা যেতে পারে, হেমারেজ স্ট্রোকে মাথাব্যথা বেশি হয়। অন্য দিকে যাঁদের দীর্ঘদিন মাইগ্রেন থাকে, সেখান থেকে খুব অল্প ক্ষেত্রে স্ট্রোকও হতে পারে।
মাইগ্রেনের প্রকারভেদ
মাইগ্রেন মূলত দুই প্রকার। দুটিতেই আধকপালি মাথাব্যথা হয়। হয় ডান দিকে বা বাঁ দিকে ব্যথা করে। একটিতে আলোর ভীতি বা শব্দের ভীতি থাকে। বমি বমি ভাব বা বমি হয়। মাইগ্রেন শুরু হওয়ার আগে আলো আলো বা তারা তারা দেখে। একে আমরা বলি ক্ল্যাসিক্যাল মাইগ্রেন। আর আরেকটা হলো কমন মাইগ্রেন।
রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক
স্ট্রোকের কারণে যে হতাশা আর দুশ্চিন্তা কাজ করে, সেখান থেকে মাইগ্রেন হতে পারে। একে পোস্ট–স্ট্রোক হেডেক বলে। স্ট্রোকের কারণে মুখ এক দিকে বেঁকে যায়, ডান দিকে বা বাঁ দিকে। শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যায়, কথা জড়িয়ে যায়—এগুলো দেখে আমরা বুঝব যে স্ট্রোক হয়েছে। এর সঙ্গে যদি মাথাব্যথা, বমি, খিঁচুনি হয়, তাহলে ধরে নিই যে সেটা রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক।
স্ট্রোকের চিকিৎসা
কী ধরনের স্ট্রোক, কোন অবস্থায় রয়েছে—এর ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। টেস্ট, এনজিওগ্রাম, ওষুধ, সেবা, ফিজিওথেরাপি—এগুলো দেওয়া হয়। রক্তনালির ভেতরে যদি অস্বাভাবিক কিছু থাকে বা কোনো ত্রুটি থাকে, তাহলে সেটা আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার মাধ্যমে ঠিক করে দিই, না হলে আবারও হতে পারে। সাধারণত একটু বেশি বয়সের মানুষ, যাঁদের হাই প্রেশার, ডায়াবেটিস আছে, তাঁদের এই আশঙ্কা বেশি। স্ট্রোক মানুষকে কেবল শারীরিকভাবে নয়, মানসিক, পারিবারিক, সামাজিক, আর্থিকভাবে পঙ্গু করে দেয়।
স্ট্রোকের চিকিৎসা বাংলাদেশে আছে, তবে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও ব্যয়ামের মাধ্যমে স্ট্রোক এড়ানো যেতে পারে। স্ট্রোক মানেই হঠাৎ। দেশে মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের প্রধান তিনটি কারণের একটি স্ট্রোক। তবে মাত্রার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসার মাধ্যমে পুরোপুরি সুস্থ হওয়া যায়।
মাথাব্যথা কিন্তু সঙ্গীও হতে পারে। বেশির ভাগ মাথাব্যথা টেনশনজনিত। তবে অনেক সময় বড় কোনো রোগ বা ব্রেন টিউমারের পূর্বলক্ষণ হিসেবেও মাথাব্যথা হতে পারে। তাই মাথাব্যথা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। আবার একেবারে হালকাভাবে নেওয়ারও কিছু নেই।