বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

যেদিন বিকেলে কাওসার আহমেদের বাসায় গেলাম, খোলা দরজা দিয়ে ঘরের যতটা দৃশ্যমান ছিল, তাতেই অবাক হয়েছিলাম। এতটা সাদামাটা হবে, কল্পনায় ছিল না। দরজাটা তিনিই খুলেছিলেন, তিনিই বসার জায়গা দেখিয়ে দিলেন। আর বললেন, ‘আমাকে পাঁচ মিনিট সময় দিন, তৈরি হয়ে আসি।’

কাওসার আহমেদ এলেন। আমাকে বসতে দিয়েছিলেন একটা ছোট মোড়ায়। তিনি বসলেন মেঝেতে পেতে রাখা বিছানায়। প্রথমেই বললেন, ‘আপনি কি আর্মি বা পুলিশে চাকরি করেন?’ আমার ঘোর লাগা চমক মুহূর্তেই ভেঙে গেল। মনে মনে বলেছিলাম, এই বুঝি জ্যোতিষশাস্ত্র!

আমি এনজিওতে চাকরি করি। আর্মি-পুলিশ আমার জগতে নেই। এরপর এটা-সেটা, অনেক কথাই হলো। চলে যাব, ওই সময় তিনি বললেন, ‘পাসপোর্টটা তাড়াতাড়ি করে ফেলুন।’ আমি আর একবার হতাশ হয়েছিলাম। আমি তখন যে চাকরি করতাম, বিদেশ যাওয়া নিছক কল্পনামাত্র!

ঘটনাক্রমে, ২০০৬-০৭ সালে আমি ১২টি দেশ ভ্রমণ করি। কয়েকটা দেশে একাধিকবার যাওয়ার ফলে প্রথম পাসপোর্টের পাতা শেষ হয়ে গিয়েছিল। ২০০৮ সালের নভেম্বরে আমি বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করে এখন পুলিশ সুপার পদে কাজ করছি।

প্রয়াত কাওসার আহমেদ চৌধুরীকে অন্তত ‘ধন্যবাদ’ কথাটাও বলতে পারিনি। খুব খারাপ লাগছে…

লেখক: পুলিশ সুপার, বাংলাদেশ পুলিশ

রাশি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন