২০২৬ সাল কেন এআই–এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে, কী বলছেন মাইক্রোসফটের সিইও
সত্য নাদেলা মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ২০২৬ সাল নিয়ে তাঁর ভাবনা সম্প্রতি একটি ব্লগে লিখেছেন তিনি।
ফেলে আসা বছরটার দিকে ফিরে তাকিয়ে যদি সামনের বছরের কথা ভাবি, একটা বিষয় পরিষ্কার—২০২৬ সাল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি মোড় হতে যাচ্ছে। হ্যাঁ, আবারও। তবে এবার সময়টা উল্লেখযোগ্যভাবেই আগের চেয়ে আলাদা।
এআই–সংক্রান্ত আবিষ্কারের আমরা কেবল প্রাথমিক ধাপ পেরিয়েছি। এখন এমন একটা পর্যায়ে ঢুকতে যাচ্ছি, যেখানে এই প্রযুক্তির পরিসর হবে অনেক বড়। এখন আমরা ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করেছি—কোনটা শুধু দেখনদারি বা চমক, আর কোনটা আসলেই কাজের। প্রযুক্তি কোন দিকে যাচ্ছে, সেটা এখন আগের চেয়ে পরিষ্কার। তবে এর চেয়েও কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কীভাবে এই প্রযুক্তি আমাদের পৃথিবীর ওপর প্রভাব ফেলবে।
এই যাত্রায় আমরা এখনো কেবল শুরুতে আছি। এ যেন একটা দীর্ঘ ম্যারাথনের প্রথম কয়েক কদম। সামনে কী হবে, তার অনেক কিছুই এখনো অনিশ্চিত। এমন এক পরিস্থিতিতে আমরা আছি, যেখানে এআইয়ের সক্ষমতা খুব দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু সেই সক্ষমতাকে বাস্তব দুনিয়ায় ঠিকভাবে কাজে লাগানোর ক্ষমতা আমাদের এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। এই অবস্থায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমাদের ঠিক করতে হবে।
প্রথমত, আমাদের এমন একটি নতুন ধারণা গড়ে তুলতে হবে, যা ‘বাইসাইকেল ফর দ্য মাইন্ড’ (মানুষের চিন্তাশক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার সহায়ক) ধারণাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে। এআই মানুষের জায়গা দখল করার যন্ত্র হবে না, হবে মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর কাঠামো। কোনো একটি মডেল কতটা শক্তিশালী—সেটা আসল কথা নয়; আসল হলো, মানুষ সেটাকে কীভাবে নিজের লক্ষ্য অর্জনে ব্যবহার করছে। ‘খারাপ মানের কনটেন্ট’ বনাম ‘উন্নত মানের কনটেন্ট’—এই তর্কের বাইরে এসে আমাদের এমন এক নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে হবে, যেখানে নতুন চিন্তাশক্তিবর্ধক এই টুলগুলোর কথা মাথায় রেখে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক গড়ে উঠবে। এটাই মূলত প্রোডাক্ট ডিজাইনের বড় প্রশ্ন, যেটা নিয়ে আমাদের তর্ক করতে হবে। উত্তর খুঁজতে হবে।
দ্বিতীয়ত, বাস্তব দুনিয়ায় এআই ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আমরা ধীরে ধীরে একটি মডেল থেকে পুরো সিস্টেমের দিকে এগোব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক মডেলের দ্রুত বর্ধমান ক্ষমতার সুবিধাটাকে কীভাবে নিতে হবে, সেটা আমরা ইতিমধ্যে শিখেছি। একই সঙ্গে এর সীমাবদ্ধতাও মাথায় রাখতে হবে। আমরা এখন এমন একটা পর্যায়ে যাচ্ছি, যেখানে একাধিক মডেল ও এজেন্টকে একসঙ্গে কাজ করানোর জন্য জটিল কিন্তু শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করতে হবে। এতে থাকবে স্মৃতি সংরক্ষণের ব্যবস্থা; কে কী করতে পারবে তার অনুমোদন এবং নিরাপদভাবে বিভিন্ন টুল ব্যবহারের সুযোগ। বাস্তব জীবনে এআই থেকে সত্যিকারের ফল পেতে হলে এই ধরনের প্রকৌশল দক্ষতা আমাদের গড়ে তুলতেই হবে।
সবশেষে, আমাদের খুব সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—এই প্রযুক্তিকে আমরা পৃথিবীতে কীভাবে ছড়িয়ে দেব, যাতে এটি মানুষ ও পৃথিবীর সমস্যা সমাধানে কাজে আসে। সমাজে এআইকে গ্রহণযোগ্যতা পেতে হলে তাকে বাস্তবে প্রমাণ করতে হবে যে এটি সত্যিই উপকারী। আমাদের হাতে থাকা সীমিত শক্তি, কম্পিউটিং ক্ষমতা আর দক্ষ মানুষের সময়—এই সবকিছু কোথায় ব্যয় করছি, সেটাই বড় পার্থক্য গড়ে দেবে। এটা মূলত একটি সামাজিক ও প্রযুক্তিগত সমস্যা, যেটা নিয়ে সবার মধ্যে ঐকমত্য গড়ে ওঠা দরকার।
সবশেষে বলি, জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন আসছে, সেটাই অগ্রগতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি। এই পুরো প্রক্রিয়াটা হবে এলোমেলো, অনেক কিছু আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে যেতে হবে; নতুন প্রযুক্তি আর পণ্যের ক্ষেত্রে যেমনটা সব সময়ই হয়ে থাকে। কম্পিউটারের ইতিহাস বলে, এটি সব সময়ই মানুষ ও প্রতিষ্ঠানকে আরও বেশি কিছু অর্জনে সহায়তা করে এসেছে। এআইকেও সেই পথেই এগোতে হবে। যদি আমরা সেটা করতে পারি, তাহলে এআই হতে পারে কম্পিউটিং ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও প্রভাবশালী ঢেউগুলোর একটি। ২০২৬ এবং তার পরেও আমি আশা করি আমরা সবাই মিলেই সেদিকে এগোব।
সূত্র: এসএনস্ক্র্যাচপ্যাড ডটকম