করোনাকালে যখন ঘরবন্দী জীবন শুরু হলো, ভাবছিলেন নতুন কী করা যায়। তখনই হঠাৎ ফেসবুকে চোখে পড়ে একটি ভিডিও। ভিডিওতে দেখলেন, গাণিতিক সমীকরণের মাধ্যমে ছবি আঁকছেন একজন। ধরনটা মিঠুনের ভালো লেগে যায়। সেই থেকে ডেসমোস আর্টের (গাণিতিক সমীকরণের মাধ্যমে আঁকা চিত্র) প্রতি আগ্রহ। কিন্তু যতটা আগ্রহ নিয়ে কাজটি শিখতে গেলেন, ঠিক ততটাই হতাশ হলেন মিঠুন দে। কারণ, এই জটিল শিল্পকর্মের শিল্পীর সংখ্যা যেমন কম, তেমনি ইন্টারনেটেও শেখার কনটেন্টের অভাব। তাই বলে দমে যাননি মিঠুন। ধৈর্য আর আঁকাআঁকির মেধাকে কাজে লাগিয়ে প্রায় ছয় মাসে একটি পূর্ণাঙ্গ ছবি আঁকতে সক্ষম হন তিনি। এখন একটি ডেসমোস আর্ট করতে তাঁর সময় লাগে ১৬-২০ ঘণ্টা।

default-image

কিন্তু জটিল এমন একটা কাজেরই প্রেমে কেন পড়লেন? মিঠুন বলেন, ‘আমি তো পরিসংখ্যানেরই ছাত্র। এটি মূলত গাণিতিক বিষয়। তা ছাড়া ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকির সঙ্গে ছিলাম। যখন দেখলাম ডেসমোস আর্টে এই দুইটা বিষয়েরই সমন্বয় আছে, তখন এর প্রতি আলাদা ভালো লাগা তৈরি হয়। তাই অনেক ধৈর্য নিয়ে কাজটি শিখেছি।’

ডেসমোস আর্ট শেখার আগে নিজের গান, বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে সেগুলোর ভিডিও ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে শেয়ার করতেন নিয়মিত। হঠাৎ একদিন নিজের আঁকা একটা ছবিও সাহস করে পোস্ট করেন। আর তাতেই দারুণ সাড়া পান। বন্ধু, সহপাঠী, শিক্ষক, সবার অনুপ্রেরণায় খুলে ফেলেন একটি ফেসবুক পেজও। ‘দ্য ডাটা আর্টিস্ট’ নামের এই পেজে দ্রুতই বাড়ছে ফলোয়ারের সংখ্যা। যাঁদের মধ্যে অনেকেই এখন মিঠুনের কাছে ডেসমোস আর্ট শিখতে চান। সবার আগ্রহ আর অনুপ্রেরণাই মিঠুনকে আরও আগ্রহী করেছে।

শুধু আঁকাআঁকি নয়, গান ও বাদ্যযন্ত্রের চর্চাও অব্যাহত রেখেছেন মিঠুন দে। চার বছরে চারটি বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখার লক্ষ্য স্থির করেছেন তিনি। হারমোনিকা ও গিটার একই সঙ্গে বাজানোর মতো জটিল কাজটিও রপ্ত করে ফেলেছেন তিনি। মিউজিক ও আর্টের প্রতি সব সময় ভালোবাসা থাকলেও পড়াশোনাকে অগ্রাধিকারের তালিকায় প্রথমে রাখতে চান মিঠুন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মিঠুন কুমার দে। ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘সব সময়ই আঁকাআঁকির সঙ্গে থাকব। তবে অবশ্যই সেটি পড়াশোনা বা আসল কাজগুলো ঠিক রেখে। যেহেতু পরিসংখ্যান নিয়ে পড়ছি, ভবিষ্যতে এই বিষয়ে বাইরে থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নেওয়ার ইচ্ছা আছে।’

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন