বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ফ্রিজ জীবনকে সহজ করে। এমনটাই বললেন রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের বাসিন্দা, গৃহিণী জাফরিন জাহান। জাফরীন বলেন, ‘ফ্রিজের প্রয়োজনীয়তা তো আসলে বলার কিছু নেই। এটি সংসারের বড় বন্ধু। প্রতিদিনের বাজারে যাওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকি। মাছ-মাংস সব গুছিয়ে রাখা যায়। আগের দিনে আমাদের নানি-দাদিরা মাছ-মাংস জ্বাল দিয়ে রাখতেন। শুকিয়ে বা বিভিন্ন উপায়ে সংরক্ষণ করতেন। এখন তো আসলে এত ঝামেলা করা যায় না। নিয়মিত বাজারে যাওয়া সম্ভব হয় না। সেই চিন্তা থেকে মুক্ত থাকি ফ্রিজের মাধ্যমে। সংসারের বিভিন্ন দিক সামাল দিতে গেলে ফ্রিজে বাজার সংরক্ষণ করে গুছিয়ে কাজ করা যায়।’

গৃহিণী জাফরীনের সঙ্গে একমত ব্যাংক কর্মকর্তা রওশন আরা। কর্মজীবী এই নারী বলেন, ‘ফ্রিজ ছাড়া তো এখনকার ঘর কল্পনা করা যায় না। মাঝেমধ্যে ফ্রিজ নষ্ট হয়ে গেলে বুঝি, আমাদের কাছে এর প্রয়োজনীয়তা কতটা। যেহেতু আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনই কর্মজীবী, তাই সপ্তাহে এক দিন বাজার করতে হয়। ছুটির দিনে মাছ-মাংস কিনে গুছিয়ে ফ্রিজে রাখি সারা সপ্তাহের জন্য। সবজি ও অন্যান্য খাবারও। দৈনন্দিন ব্যস্ততায় প্রতিদিন বাজারে যাওয়া এখন খুব কষ্টের কাজ। সংসারের জন্য এখন ফ্রিজ বড় উপকারী।’

এই ‘উপকারী বন্ধু’ এখন আছে ঘরে ঘরেই। এমনকি শহুরে জীবনের অনেক সংসারে একাধিক ফ্রিজ দেখা যায়। করপোরেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন ফারহানা আহমেদ। তাঁর বাসায় তিনটি ফ্রিজ। প্রয়োজন কি এখানে বিলাসিতা হিসেবেই ধরা দিল? চারজনের সংসারে তিনটি ফ্রিজ কেন, জানতে চাইলে ফারহানা বলেন, ‘ডিপ ফ্রিজে শুধু কাঁচা মাছ-মাংস ইত্যাদি সংরক্ষণ করি। একটা ফ্রিজে রান্না করা খাবার, বাচ্চাদের স্কুলের টিফিনের মতো টুকিটাকি। আরেকটিতে বছরব্যাপী সংরক্ষণের জন্য নানা খাবার যেমন চালের গুঁড়া, খেজুরের গুড়, কোরানো নারকেল, এসব রাখা থাকে। একে আসলে বিলাসিতা বলা যায় না। প্রতিদিনের খাবারের সঙ্গে আমি দীর্ঘমেয়াদি খাবারগুলো রাখি না। এতে আমার সংসারের কাজগুলো এলোমেলো হয় না।’

শুধু স্বামী-স্ত্রী, মা-বাবা-ভাই-বোনের পরিবারেই যে ফ্রিজ জরুরি, তা কিন্তু নয়। ব্যাচেলরদের জীবনও সহজ করে দেয় ফ্রিজ। ইস্কাটনে একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন ইসমত জাহান। তিনজনের এই ফ্ল্যাটে দুজনেরই আছে নিজস্ব ফ্রিজ। ‘এত ব্যস্ততার মধ্যে থাকতে হয়, প্রতি বেলার খাবার নিয়ে আলাদা ঝামেলা করতে ইচ্ছা হয় না। যদিও আমি অর্থনৈতিক দিক দিয়ে খুব একটা স্বাবলম্বী নই, তারপরও কিছু টাকা জমিয়ে কিনে ফেলি ফ্রিজ। এখন আর ঘরে ফিরে কী খাব, সেই দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়ে দরজার তালা খুলতে হয় না,’ বলে মুচকি হাসেন ইসমত। অল্প অল্প করে বাজার করে, সপ্তাহের রান্না গুছিয়ে তিনি নিশ্চিন্তে নিজের কাজ-পড়াশোনা করতে পারেন।

নিম্নবিত্ত মানুষের কাছেও এখন ফ্রিজ প্রয়োজনীয়। রাজধানীর হাতিরঝিলের বেগুনবাড়িতে টিনের ছোট্ট ঘরে থাকেন গৃহকর্মী স্বর্ণা। তাঁর ঘরে ছোট্ট একটা চৌকি ও একটি ফ্রিজ বুঝিয়ে দেয়—ফ্রিজের প্রয়োজনীয়তা কতটা। স্বর্ণার ভাষ্যমতে, বস্তিতে সিরিয়াল ধরে রান্না করে প্রতিদিন কাজে যেতে দেরি হয়ে যায়। তাই যে বাসায় তিনি কাজ করেন, সেই বাসার গৃহকর্ত্রী অর্ধেক দামে তাঁদের ব্যবহৃত ফ্রিজটি স্বর্ণাকে দিয়েছেন। স্বর্ণার এখন রান্নার সিরিয়াল ধরতে হয় না। প্রতিদিন বাজার করতে হয় না। আগের দিন রাতেই রান্না করে ফেলেন পরের দিনের খাবার। তাই কাজে যেতে পারেন সকাল সকাল। স্বর্ণার ঘরে পুরোনো ফ্রিজ। কিন্তু তাঁর পাশের ঘরের প্রতিবেশী একটু ছোট সাইজের নতুন ফ্রিজই কিনেছেন টাকা জমিয়ে। এখন তাঁদের সন্তানদের ঠান্ডা পানির জন্য মানুষের দ্বারস্থ হতে হয় না। কোরবানির মাংস নিয়েও বিপাকে পড়তে হয় না। এখন তাঁরা মাংস রাখতে পারেন নিজের ফ্রিজে।

গৃহসজ্জা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন