সাধারণত বসার ঘরে বাড়ির সদস্যদের একান্ত সময় কাটানোর জায়গা বা বারান্দায় এ ধরনের দোলনা ব্যবহার করা হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গর্জন প্লাইউড দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। চাইলে সেগুন কাঠের ব্যবহারও করতে পারেন। পাটাতনের আদলে তৈরি দোলনার আকৃতি কেমন হবে, তা নির্ভর করবে কতজনের জন্য তা ব্যবহার করছেন, তার ওপর। ডিজাইন কোডের অন্দরসজ্জা পরামর্শক আবদুল্লাহ আল মিরাজ বলেন, দোলনাটি যদি একজনের ব্যবহারের জন্য তৈরি করেন, আয়তন দুই ফুট বাই আড়াই ফুট হওয়া ভালো। দুজনের জন্য হলে দুই ফুট বাই সাড়ে তিন ফুট আয়তনের দোলনা বানাতে পারেন। এতে দোলনাটি শুধু শোপিস নয়, বাসায় অন্য আসবাবের মতো প্রয়োজনীয় আসবাব হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এটি স্থাপনে ঘরের খোলামেলা জায়গা বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিলেন এ অন্দরসজ্জাবিদ। জানালার কাছে বা যে ঘরে বারান্দা আছে তার সামনে এ দোলনা রাখতে পারেন। এতে দোলনায় বসে বাইরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও অনুধাবন করতে পারবেন।

‘ছোটবেলায় বাবার চাকরির সুবাদে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতাম। যেই বাড়িগুলোয় আমরা থাকতাম, প্রতিটি বাড়ির উঠোনেই থাকত প্রচুর গাছ আর সঙ্গে দোলনা। সেই দোলনায় চড়ে দোল খাওয়ার আনন্দটা ছিল সত্যি অন্য রকম। যখন নিজের বাসার অন্দরসজ্জার পরিকল্পনা করছিলাম, তখন সেই আদলেই দোলনা রাখার পরিকল্পনা করলাম।’ বলছিলেন মনিরা কুমকুম। পেশায় তিনি একজন ব্যাংকার। বনানীতে তাঁদের পুরোনো বাড়িটি নতুন রূপে সাজানোর সময় বসার ঘরের অন্দরসাজে যোগ করা হলো দোলনা। সেগুন কাঠ দিয়ে তৈরি করেছেন দোলনাটি। মজার ব্যাপার হলো, পুরোনো বাসার কাঠগুলো জোড়া দিয়ে বানিয়েছেন এ দোলনা। আয়েশ করে বসার জন্য দোলনায় বসানো হয়েছে ফোম। দোলনাটি এমনভাবে তৈরি করা যাতে এখানে শুয়ে ঘুমিয়েও নিতে পারেন। বসার ঘর লাগোয়া যে বারান্দা তার সামনেই সিলিং থেকে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে দোলনাটি। এই প্রসঙ্গে মনিরা কুমকুম বলেন, ‘ছোটবেলায় দোলনায় চড়ে প্রকৃতি দেখার অনুভূতি কিছুটা হলেও বাসায় আনার চেষ্টা করেছি।’

এই দোলনার দুটি সুবিধা। ছোট ঘরেও ব্যবহার করা যায়। এর আকারে ভারিক্কি ভাব না থাকায় মানিয়ে যাবে সহজেই। আরেকটি হলো পেছনে পিঠ দেওয়ার জায়গাটি না থাকায় দুই দিকে মুখ করে বসা যায়। পরিষ্কার করাও সহজ। তবে শিশুদের ব্যবহারের সময় সচেতন থাকতে হবে।